অধ্যবসায় রচনা- ২১ পয়েন্ট ( ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত)
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, অধ্যবসায় রচনা তোমরা যারা তথ্যবহুল ও ভিন্ন আঙ্গিকে লিখতে চাও তাদের জন্য আজকের এই প্রবন্ধ। এখানে আমরা অধ্যবসয় রচনার ২১টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরবো।
তোমরা যারা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছো প্রত্যেকের সিলেবাসে অধ্যবসায় রচনাটি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রচনাটি ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার জন্য এখানে উল্লেখিত যেকোনো পয়েন্ট সরাসরি তুলে নিতে পারো অথবা পছন্দ মতো নিজের মত করে যে কোন লাইন কপি করতে পারো। পোস্ট সূচিপত্রঃ
তাহলে চলো দেরি না করে মূল রচনাটি শুরু করা যায়।
অধ্যবসায়
ভূমিকা
একবার না পারিলে দেখো শতবার।"
কবির এই পংক্তিই যেন অধ্যবসায়ের মূল কথা ধারণ করে। জীবনে চলার পথে বাধা, ঢাল, উঁচু-নিচু খারাপ সময় আসবেই। কারণ জীবন কখনো সব সময় মসৃণ গতিতে চলে না। উত্থান পতন থাকবেই। এগুলোকে উপেক্ষা করে সংগ্রামের মাধ্যমে এগিয়ে যায় যে, সেই সফল হয়। বারবার চেষ্টার মাধ্যমে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নামই অধ্যবসায়। সাধনা, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সমন্বয়ের নাম অধ্যবসায়।
অধ্যবসায় কি
এক কথায় অধ্যবসায় অর্থ হলো চেষ্টা বা সাধনা করা। জীবনের সফলতা অর্জনের জন্য যে অদম্য আকাঙ্ক্ষা এটা থেকেই অধ্যবসায়ের জন্ম। এর সাথে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, সূনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নির্ধারণ, প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতার মত উপাদান। এগুলো সবই সম্ভব অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। তাই জীবন চলার পথে বাধা-বিপত্তির সাথে সংগ্রাম করে সাফল্যের জন্য বারবার প্রচেষ্টার নাম অধ্যবসায়।
অধ্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য
সাফল্য ও ব্যর্থতার মিলেই আমাদের জীবন। সাফল্য পেতে হলে ব্যর্থতার সাথে অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে। ব্যর্থতার ভয়ে নিজের সাফল্যের স্বপ্নকে মাটি চাপা দেওয়া উচিত নয়। আবার, ব্যর্থতার কারণে সাফল্যের স্বপ্নকে ছেড়ে দেওয়াও এক ধরনের অন্যায়। মনে রাখতে হবে, রাত শেষেই ভোরের সূর্যের দেখা মিলে। আর এর জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা। এছাড়া কোন কাজে সাফল্যের জন্য দৃঢ় মনোবল, সংকল্প এবং উজ্জীবিত উচ্ছ্বাস সাফল্যের পথে একধাপ এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুনঃ বিজয় দিবস রচনা- ২০ পয়েন্ট
কোন কাজে এ সকল সবই অধ্যবসায়ের পরিচয় বহন করে। অধ্যবসয়ের মাধ্যমেই মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
অধ্যবসয়ের প্রয়োজনীয়তা
জীবনে প্রতিটি পদে অধ্যাবসায়ের ভূমিকা অপরিসীম। জীবনের বাধা-ভয়ে কোন কিছু না করা কাপুরুষতার পরিচয়। আমাদের মনে রাখতে হবে যা চিন্তা করা হয় তা সাধনা ছাড়া সাথে সাথে পাওয়া যায় না। এজন্য অনেক অনেক গুণ নিজের মধ্যে ধারণ করে বারবার চেষ্টা করে যেতে হয়। এই কাজটি করতে উদ্বুদ্ধ করে অধ্যবসায়।
অধ্যবসায় শেখায়- " Failure is the pillar of success." অর্থাৎ ব্যর্থতা সাফল্যের সোপান। জগতে সকল বড় বড় ব্যক্তিরা সফলতা পেয়েছেন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। তাই বলা যায় যে, অধ্যবসয়ের মূল ধারণা নিচের মধ্যে যে ধারণ করতে পারে, সেই দিনশেষে সফল হয়।
অধ্যবসয়ের গুরুত্ব
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলাই জীবন। এই জীবনের অংশ জুড়ে রয়েছে শ্রম বা কাজ। আর যে কোন কাজে সফলতার জন্য অবশ্যই দরকার অধ্যবসায়। কাজের মূল প্রেরণা ও চালিকাশক্তি না থাকলে সে কাজ করা সম্ভব হয় না। সংগ্রামের মাধ্যমে যেমন জয় আসে তেমনি আসতে পারে পরাজয়। কিন্তু পরাজয়কে শেষ ফলাফল ধরে নিলে জীবন পর্যবসিত হবে হতাশা ও গ্লানিতে।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের নদনদী রচনা- ২০ পয়েন্ট
মনে রাখা দরকার পরাজয়ই নতুন জয়ের সোপান। কিন্তু অধ্যবসায় না থাকলে সে জয়ের স্বাদ গ্রহণ করা যায় না। অতি সহজে সবকিছু পাওয়া গেলে পরিশ্রমী আর অলস ব্যক্তির মধ্যে কোন পার্থক্য থাকত না। অধ্যবসায় এমন একটি গুণ যা মানুষকে অসাধ্য সাধন করতে সাহায্য করে। জগতের সকল বিখ্যাত ও সফল হওয়া ব্যক্তিদের জীবনে অধ্যবসয়ের উদাহরণ পরিলক্ষিত হয়।
ব্যক্তি জীবনে অধ্যবসায়
সব মানুষের জ্ঞান বা শক্তি হয়তো সমান নয় কিন্তু সব মানুষকেই বিধাতা কোন না কোন প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। প্রতিভাকে যত্ন করে সৎ ব্যবহার করার জন্য দিয়েছেন বুদ্ধি ও বিবেক। জীবনে বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হলে, ভালো কিছু অর্জনের ব্যর্থতার পূর্ব শর্ত পূরণ করতে ও দীর্ঘ প্রচেষ্টায় হতাশ না হয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে প্রচেষ্টা ও কর্মদক্ষতা প্রয়োজন তা অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।
মোটকথা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞার মূল উপকরণ অধ্যবসায়। তাই ব্যক্তি জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
ছাত্র জীবনে অধ্যবসায়
ছাত্র জীবন ভবিষ্যৎ গড়ার মূল স্তম্ভ। তাই এই জীবন অবহেলা করা চলবে না। অধ্যয়ন ও অধ্যবসয়ের মধ্যে রয়েছে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বারবার পাঠ অনুশীলন, জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, নিয়ম শৃংখলা পালনে বিশেষ মনোযোগ একজন ছাত্রের অধ্যবসয়ের নমুনা। শুধুমাত্র মেধাকে গুরুত্ব না দিয়ে সকল ছাত্রের উচিত অধ্যবসয়কে গুরুত্ব দেওয়া।
কারণ অধ্যবসয় ব্যতীত মেধার দাম থাকে না। ছাত্র জীবনে ব্যর্থতা আসা স্বাভাবিক কারণ বিদ্যা অর্জন কোন সরল প্রক্রিয়া নয়। কঠোর অধ্যবসয়ের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। তাই ছাত্র জীবনে অধ্যাবসায়ের গুরুত্বকে অবহেলা না করে নিয়মিত চর্চা করতে হবে।
কর্মজীবনে অধ্যবসায়
কর্মজীবনে অধ্যাবসায় আমাদের শেখায় কাজের প্রতি শৃঙ্খলা বোধ, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা। অধ্যবসায় ব্যতীত কোন কাজ সঠিক ও মানসম্মত ভাবে সম্পন্ন করা যায় না। কারণ কাজের জন্য যে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রয়োজন তা অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির চাবিকাঠি অধ্যবসায়।
তাই পরিশ্রম বিমুখ ও বেকার ব্যক্তিদের উচিত নিজেদের মধ্যে অধ্যবসায় ধারণ করা, তাহলেই জীবনে সফলতা আসবে।
জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়
জগতে এক তিক্ত সত্যের নমুনা হলো, যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নয়নে সফলকাম হয়েছে। এই পরিশ্রমের মূল ভিত্তি হল অধ্যবসায়। এর উদাহরণ আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, জাপান এর মত উন্নত দেশের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। যে কোনো দেশের উন্নতির জন্য যোগ্য সরকারের সাথে সাথে প্রয়োজন পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী নাগরিক।
আরো পড়ুনঃ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান রচনা- ২০ পয়েন্ট
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য বিপুল সংখ্যক এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। আর তা সঠিক দিক নির্দেশনা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই অর্জন করতে হবে। তার সাথে ভূমিকা থাকতে হবে সরকারের। থাকতে হবে সুযোগ ও সুশাসন।
ইসলাম ধর্মে অধ্যবসায়
ইসলামে বারবার অধ্যবসায়ের সাথে ঈমানের তুলনা করা হয়েছে। ঈমান আনলে অধ্যবসায়ের ভিত্তি গড়ে তুলতে হয়। কেননা এই গুণ দিয়েই আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কঠিন পরিস্থিতি মুখোমুখি হওয়া ও তা কাটিয়ে তোলা যায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই গুণের এক দৃষ্টান্ত।
খ্রিস্টান ধর্মে অধ্যবসায়
খ্রিস্টান ধর্মের যীশু খ্রীষ্ট শিক্ষাদান অধ্যবসায় নিজের জীবনে ধারণ করতে। এই গুণ তাই তাদের বিশ্বাসের সাথে জড়িত। বাইবেলে এর সম্পর্কে বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে। ধৈর্যশীল ও নিষ্ঠাবান হয়ে জীবনের এই কঠিন পথে অধ্যবসায় এর উপর নির্ভর করে এগিয়ে চলাই এর শিক্ষা।
হিন্দু ধর্মে অধ্যবসায়
হিন্দু ধর্মের রামায়ণের কাহিনী পড়লে অধ্যবসয়ের দৃষ্টান্ত অনেক জোর ভাবে ফোটে ওঠে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা সব সময় নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালনের উপদেশ দিয়েছেন। হিন্দু ধর্মে অধ্যবসাইকে ধৈর্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেবী দুর্গার মতো অধ্যবসায়ী হতে বলা হয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মের অধ্যবসায়
বৌদ্ধ ধর্মে অধ্যবসায়ের মূর্ত প্রতীক গৌতম বুদ্ধ। তাদের ধর্মের ধর্মীয় শাস্ত্রে ধৈর্য বা অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অনেক সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়। ধ্যান করে মনকে শান্ত করার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়েই অধ্যবসায় ফুটে উঠে বলে তাদের বিশ্বাস। তাই আত্মউন্নয়নের জন্য বৌদ্ধ ধর্ম অধ্যবসায় কে ভিত্তি বলে উল্লেখ করে।
অধ্যবসায় ও প্রতিভা
মানুষের প্রতিভা প্রকৃতির এক মূল্যবান উপহার। এই উপহার যত্ন করে বিকাশ করার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজের। এর জন্য নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে অধ্যবসয়ের মূল্যবান গুণাবলী। প্রতিভাবান ব্যক্তি যেমন অধ্যবসায়ের অভাবে ঝরে পড়ে তেমনি অধ্যবসয়ের গুণে প্রতিবেহীন ব্যক্তি উঠে আসে সাফল্যের শীর্ষে।
তাই প্রতিভার সাথে সাথে থাকতে হবে অধ্যবসায়। এজন্য বলা হয়-
"Industry is the mother of good luck."
মনীষীদের জীবনে অধ্যবসায়
জগতে যারা মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের জীবনে ছিল অধ্যবসায়। দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তি হারানো হেলেন কেলার এর জীবন ঘাটলে আমরা অধ্যাবসায়ের বাস্তব উদাহরণ দেখতে পাই। শুধুমাত্র অধ্যবসায় এর গুণে উচ্চশিক্ষা অর্জন সহ নিজের ও অসহায় মানুষের জীবন আলোকিত করে সারা বিশ্বের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
আরো পড়ুনঃ শ্রমের মর্যাদা রচনা - ২৫পয়েন্ট
দারিদ্রতা ও অভাব অনটনের মধ্যেও বিদ্রোহী কবি অধ্যবসয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়ে উঠেছেন। পিছিয়ে থাকা নারী সমাজ নিয়ে কাজ করে নারীদের শিক্ষার সাথে পরিচয় গড়ে তোলেন অধ্যাবসায়ী বেগম রোকেয়া। এজন্য ডালটন বলে-
"People call me genius, but I know nothing except hard work."
অর্থাৎ লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলে কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জানিনা।
মানব সভ্যতায় অধ্যাবসায়
আজকের এই সভ্যতায় পৌছাতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে আমাদের পূর্বের পরিশ্রমী মানুষেরা। তাদের অধ্যবসায় এই উন্নতির প্রধান উপকরণ। বিভিন্ন বিপ্লব ঘটিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করার ফলে বিশ্ব এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। আবার আমাদের কাজের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অবস্থা নির্ভর করবে।
তাই নিজেদের জীবনে অধ্যবসয়ের মূলমন্ত্র ধারণ করে দেশ ও সভ্যতার উন্নয়নে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
অধ্যবসায়ের চর্চা
অধ্যবসায় মানুষের মধ্যে জন্মের পর থেকেই থাকে না। এটি নিজের মধ্যে অর্জন করে ধারণ ও চর্চার বিষয়। সবার মধ্যে অধ্যবসায় লক্ষ করা যায় না। যাদের মধ্যে এই গুণ থাকে তারাই সবার থেকে এগিয়ে যায়। কারন সাফল্যের আগুন একা একা জ্বলে না, পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকেই জ্বালাতে হয়।
অধ্যবসায়ের স্বরূপ
বিভিন্ন বইয়ের পাতা উল্টাপাল্টি দেখা যায় অধ্যবসায় নমুনা। ছোটবেলা থেকেই পড়ে আসা এমনই একটি গল্প হল ইংল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস এর কাহিনী। এডওয়ার্ডের সাথে ৬ বার হারার পরেও তিনি হার মেনে না নিয়ে বারবার যুদ্ধ করে নিজের হারানো রাজ্য আবার ফিরিয়ে আনে। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন সব সময় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভাবতেন ও সেগুলো নিয়ে পরিশ্রম করতেন দেখেই তার আজকে এত মহান মহান আবিস্কার। তিনি বলেছেন-
"It's not that I am so smart, it's just that I stay with problems longer."
অর্থাৎ আমি ততটা বুদ্ধিমান নই, আমি শুধু সমস্যার সাথে বেশি সময় কাটাই।
অধ্যবসায়ের সুফল
সফলতার প্রথম ও বড় ধাপই হলো অধ্যবসায়। যেকোনো কাজই প্রাথমিক অবস্থায় কঠিন লাগবে। সেটিই স্বাভাবিক। জীবনের বিভিন্ন সময় সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হবে। এটি অস্বাভাবিক নয়। তবে এগুলোর জন্য ভেঙ্গে পড়া ও ভয় পাওয়া অন্যায়। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এরকম অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা যায়।
নিজের জীবন উন্নতির মাধ্যমে দেশ ও সমাজ এগিয়ে নেওয়া যায়। মানব সভ্যতা গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখা যায়। এসব কাজ করতে পারলেই মানব জীবনের সার্থকতা আসে। তাই সব মানুষেরই উচিত নিজের মধ্যে অধ্যবসায় ধারণ করা।
অধ্যবসায়হীন মানুষের অবস্থা
জীবনে কোন কিছু বড় অর্জন কখনো অলসতার মধ্য দিয়ে হয় না। বড় অর্জনের মধ্যে সব সময় থাকে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সততা, দৃঢ় সংকল্প ও ধৈর্য। এসবেরই সমন্বয়ে অধ্যবসায়। তাই যার জীবনে অধ্যবসায় নেই সে আগে থেকেই জীবন চলার পথে সবার থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে। অলস মানুষ নিজের জীবন, সমাজ বা দেশের কোন উন্নতি ঘটাতে পারে না।
অধ্যবসায়ী মানুষই আমাদের মানব সভ্যতা এতদূর এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছে। বিখ্যাত মনীষী ও ধর্মীয় চরিত্রদের জীবনেও ফুটে উঠে অধ্যবসায়ের উদাহরণ। তাই অধ্যবসায়হীন মানুষ আজীবন ব্যর্থ।
পরিশেষে
পরিশেষে বলা যায় যে, জীবনের সাফল্য ত্বরান্বিত করতে অধ্যবসায় ব্যতীত আর কোন বিকল্প নেই। তাই এই গুণের গুরুত্ব অপরিসীম। অধ্যবসায় এক সময় না একসময় ব্যর্থতার ঝুড়ি থেকে সফলতা বের করে আনেই। তাই জীবনের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে সব সময় অধ্যাবসাইয়ী হতে হয়। সংগ্রাম করে এগিয়ে যেতে হয়। তাই তো নেপোলিয়ন বলে গেছেন-
"The word impossible is found in the dictionary of fools."
অর্থাৎ অসম্ভব কথাটি শুধুমাত্র বোকাদের অভিধানে পাওয়া যায়।
লেখকের মতামত
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, অধ্যবসায় রচনা ২১ পয়েন্ট নিয়ে আজকের প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তোমরা যারা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছো আজকের অধ্যবসায় রচনাটি তোমাদের উপকারে আসবে আশা করি।

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;
comment url