মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার সহজ ১৫টি উপায়

  

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় জানুন। আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়ে কিভাবে সহজ উপায়ে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করবেন সে বিষয়ে এই আর্টিকেলে জানতে পারবেন। সাথে জানবেন, মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেন সে সম্পর্কে।

মোবাইল-দিয়ে-ফ্রিল্যান্সিং-করার-উপায়

বর্তমান যুগে মানুষের কাছে সবচেয়ে সহজ একটি ডিভাইস হল মোবাইল। মোবাইল দিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আপনি যদি মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার উপায় জানতে চান, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।পোস্ট সূচিপত্রঃ

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায়

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সহজ ১৫টি জেনে ইনকাম করা শুরু করে দিন। ভাবছেন, সত্যিই কি মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করা যায়? হ্যাঁ, আপনার কাছে যদি একটি স্মার্ট ফোন থাকে, তাহলে আপনিও মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার জন্য আপনি যে কাজ গুলো করার সুবিধা পাবেন বা করতে পারবেন সে সম্পর্কে আপনাকে ভালো ভাবে জানতে হবে। কারণ মোবাইল দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের সব কাজ করতে পারবেন না।

তবে আপনার যদি দক্ষতা থাকে এবং ধৈর্য ধরে কাজ করে যান তাহলে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করেও আপনি ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। মূলতঃ সহজে বহন যোগ্য হওয়ায় যে কোনো জায়গায় নিজের সুবিধা মত সময়ে কাজ করা যায় বলেই মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোবাইল বান্ধব ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সার মাসে ভালো টাকা ইনকাম করছেন।

আরো পড়ুনঃ ফ্রি টাকা ইনকাম বিকাশে পেমেন্ট সাইট/এপ্স সম্পর্কে জানুন

তাই আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে জেনে নিন যে ১৫টি সহজ উপায়ে আপনি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন।

কনটেন্ট রাইটিংঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার অন্যতম সহজ উপায় হল কন্টেন্ট রাইটিং। কারণ মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার সহজ উপায় হল বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করা। এক কথায় একে ব্লগিং বলা হয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সিং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে পারেন। 

জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • Upwork
  • Fiverr
  • Freelancer.com
  • guru.com

বর্তমানে কন্টেন্ট রাইটিং ফ্রিল্যান্সিং এর একটি জনপ্রিয় কাজ। আপনার যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে ভালো ধারণা থাকে তাহলে ওই বিষয়ে কনটেন্ট লিখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া আপনি নিজের ওয়েবসাইটে ব্লগিং করেও ভালো পরিমান ইনকাম করতে পারেন।

মোবাইলে কনটেন্ট রাইটিং এর জন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন যেমনঃ Microsoft office word, Google docs, WPS Office. এই অ্যাপস গুলো আপনার লেখা সম্পাদনা এবং সংরক্ষণে সহায়তা করবে।

ডাটা এন্ট্রিঃ মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি সহজ উপায় হলো ডাটা এন্ট্রির কাজ। ফ্রিল্যান্সিং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গুলোতে আপনি সহজে ডাটা এন্ট্রির কাজ পেয়ে যাবেন। এই কাজ করার জন্য আপনার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ না হলেও চলবে। কারণ আপনি মোবাইল দিয়ে খুব সহজে ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে পারবেন।

ডাটা এন্ট্রির কাজ গুলোর মধ্যে টেবিল তৈরি করা, যে কোনো তথ্য কপি পেস্ট করা কাজ গুলো আপনি মোবাইলে সহজে পেতে পারেন এবং এই কাজগুলো আপনি মোবাইল টুল ব্যবহার করে করার সুবিধা পাবেন। মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ডাটা এন্ট্রি কাজ করেও আপনি ভাল পরিমাণ ইনকাম করতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইনঃ মোবাইল এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি সহজ উপায় হল ওয়েব ডিজাইনের কাজ। মোবাইল দিয়ে ওয়েব ডিজাইনের কাজ করা যায় কিনা অনেকেই জানতে চান। কারণ ওয়েব ডিজাইনের কাজে অনেকেরই বেশি আগ্রহ রয়েছে। তবে মোবাইল দিয়ে আপনি ওয়েব ডিজাইনের কিছু বেসিক কাজ করতে পারবেন। যেমনঃ HTML, CSS.

আপনি মোবাইল দিয়ে ওয়েব ডিজাইনের এই সকল বেসিক লেভেলের কাজ করার সুবিধা পাবেন। তবে আপনি যদি কাজ জানেন তাহলে মোবাইলে এই ধরনের কাজ করেও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, আপনি যদি এডভান্স লেভেলের ওয়েব ডিজাইনের কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ এর প্রয়োজন হবে।

গ্রাফিক ডিজাইনঃ মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফ্রেন্ডলি অ্যাপ রয়েছে যা দিয়ে আপনি গ্রাফিক ডিজাইনের কিছু কাজ করতে পারবেন। এই ধরনের কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যানার তৈরি করা, পোস্টার বানানো, ইউটিউবের জন্য থাম্বনেইল তৈরি করা ইত্যাদি। গ্রাফিক্সের এই কাজগুলো করার জন্য আপনি নিচের অ্যাপস গুলো সহজে ব্যবহার করতে পারেনঃ

  • Pixellab
  • Canva
  • Adobe spark
  • Adobe Ilustrator Draw

ভিডিও এডিটিংঃ মোবাইল দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর আরেকটি সহজ কাজ ভিডিও এডিটিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে মোবাইল ফ্রেন্ডলি বিভিন্ন অ্যাপ যেমন: Kinemaster, Viva Video, Inshot আপনি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই অ্যাপস গুলোর ব্যবহার আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে।

বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে আপনি ছোট ছোট ভিডিও এডিটিং এর কাজ মোবাইল দিয়ে করে ইনকাম করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারঃ মোবাইল দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের আরেকটি কাজ করতে পারবেন তা হলো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর কাজ। একজন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্ট হিসেবে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির হয়ে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলো পরিচালনা করতে পারেন।

এখানে সাধারণত আপনাকে ওই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির হয়ে কোন পোস্ট তৈরি করা, কমেন্টের উত্তর দেওয়া, মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার কাজগুলো করতে হয়। Facebook, Instagram, Twitter ইত্যাদি মোবাইল অ্যাপ গুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে আপনি এই কাজ গুলো করে ইনকাম করতে পারেন।

ট্রান্সলেটরঃ মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি সহজ উপায় ট্রান্সলেটিং। একজন।ট্রান্সলেটর হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ এর প্রয়োজন নেই। মোবাইল টুল এর সাহায্যে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে আপনি ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

আপনার যদি ইংরেজি সহ বিশেষ কোন ভাষায় দক্ষতা থাকে তাহলে মোবাইল দিয়ে অনুবাদক হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই কাজটি আপনি মোবাইলে সাহায্যের সহজেই করতে পারবেন এবং মাস শেষে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ফেসবুক মার্কেটিংঃ মোবাইল এর মাধ্যমে আপনি ফেসবুক মার্কেটিং এর মত ফ্রিল্যান্সিংয়ের সহজ উপায়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে বিশ্বে সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সংখ্যা  প্রায় ২.৯৪ বিলিয়ন এবং দিনে দিনে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফেসবুকের এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পণ্যের ব্র্যান্ড প্রমোশন করার মত ফেসবুক মার্কেটিং এর কাজ করে ইনকাম করতে পারেন। ফেসবুক মার্কেটিং এর কাজ করে অনেক ফ্রিল্যান্সার মাসে প্রচুর টাকা ইনকাম করছেন।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টঃ মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি সহজ উপায় হলো ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট। অর্থাৎ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা। একজন দক্ষ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আপনাকে কল করা, মিটিং সিডিউল তৈরি করা, ইমেইল এর উত্তর দেওয়া, কিছু প্রশাসনিক কাজগুলো করতে হতে পারে।

মোবাইলের সাহায্যে সহজে আপনি এই কাজ গুলো করে ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

ফটো এডিটিংঃ আপনি কি ফটো এডিটিং এর কাজ খুব ভালো জানেন? তাহলে এখনই ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে মোবাইল দিয়ে ফটো এডিটিং এর কাজ করে ইনকাম শুরু করুন। এসব মার্কেটপ্লেসে ফটো এডিটিং সহ ফটো রিটাচিং কাজও সহজে পাওয়া যায়।

মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস রয়েছে যেমনঃ in shot, snapeed, ফটোশপ এক্সপ্রেস অ্যাপের সাহায্যে আপনি এই কাজগুলো করে ইনকাম করতে পারেন।

প্রোডাক্ট রিভিউঃ মোবাইল দিয়ে আরেকটি ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় প্রোডাক্ট রিভিউ এর কাজ। ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট রিভিউ এবং টেস্টিং এর কাজ পাওয়া যায়। এই কাজগুলো আপনি মোবাইল দিয়ে সহজে করতে পারেন। এজন্য আপনার খুব বেশি দক্ষতার প্রয়োজন হবে না।

মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্ট রিভিউ এর কাজ করে আপনিও টাকা ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

অনলাইনে টিউটোরিংঃ মোবাইলে দিয়ে আপনি অনলাইনে টিউটরিং সেবা প্রদান করে ইনকাম করতে পারেন। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপনি কাজ খুঁজতে পারেন। Zoom, preply, Skype ব্যবহার করে আপনি সহজেই এই কাজটি করতে পারেন। তবে এই কাজের জন্য আপনার নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর পড়ানোর দক্ষতা বা পারদর্শিতা থাকতে হবে।

ইউটিউবঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি সহজ উপায় ইউটিউবিং। আপনি চাইলে মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলে আপনি টাকা ইনকাম শুরু করতে পারেন। বর্তমানে মোবাইলে ইউটিউবের কাজ করে অনেকে মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছেন।

আপনার যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে দক্ষতা থাকে তাহলে ওই বিষয়ের উপর একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে আপনি সহজেই টাকা ইনকাম শুরু করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুকে কত ফলোয়ার হলে পাওয়া যায় জেনে নিন

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও এডিটিং এর জন্য বর্তমানে অনেক ভালো কিছু মোবাইল অ্যাপস রয়েছে, যে এপস গুলো আপনি ব্যবহার করে আপনার ভিডিও মান ভালো করতে পারেন। আপনি Kine master, Power Director এই অ্যাপসগুলো ভিডিও এডিটিং এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

ভয়েস ওভারঃ মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং এর আরেকটি সহজ উপায় ভয়েস দেওয়ার কাজ করে আপনি ইনকাম শুরু করতে পারেন। বর্তমানে মোবাইলে ব্যবহার করা যায় বিভিন্ন অ্যাপ বা সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলোর সাহায্যে আপনি সহজে ভয়েস ওভারের কাজ করতে পারেন। তবে এই কাজের জন্য আপনার ভয়েস শ্রুতি মধুর হতে হবে। বর্তমানে ভয়েস দেয়ার কাজ করেও ভালো টাকা ইনকাম করা যায়।

নিচে কয়েকটি ভয়েস ওভার অ্যাপস এর নাম জেনে নিনঃ

  • Voice Recorder and Voice Memos
  • InShot
  • Voloco
  • Smart Recorder

মোবাইল-দিয়ে-ফ্রিল্যান্সিং-করার-উপায়

মাইক্রো জব ওয়ার্কঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার আরেকটি সহজ উপায় মাইক্রো জব ওয়ার্ক। মোবাইল দিয়ে বিভিন্ন মাইক্রো জব ওয়ার্ক বা ছোট ছোট কাজগুলো করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এই কাজগুলো করতে সাধারণত আপনার এক থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগতে পারে।

আপনি যদি দিনে  ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন তাহলে মাস শেষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন সহজে।

মাইক্রো জব ওয়ার্ক এর মধ্যে রয়েছেঃ
  •  ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট করা
  •  ইউটিউব এ লাইক কমেন্ট, শেয়ার করা, সাবস্ক্রাইব করা
  • জিমেইল একাউন্ট তৈরি করা
  • ওয়েবসাইট ভিজিট করা
  • ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন করা
  • অ্যাপ ডাউনলোড করা
  • ফাইল ডাউনলোড করা ইত্যাদি

এই সকল ছোট ছোট কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অ্যাপস হলো Work up job. আপনার মোবাইলে সহজে Work up job অ্যাপসটি ডাউনলোড করে কাজ শুরু করতে পারবেন।

আপনার যদি কাজ করার ইচ্ছা এবং আগ্রহ থাকে, কাজের দক্ষতা থাকে তাহলে মোবাইলে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কিছু ছোট ছোট কাজ করেও টাকা ইনকাম শুরু করতে পারেন।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেন

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেন এ বিষয়ে আর্টিকেলের এই পর্যায়ে আপনাদের জানাবো। ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্ত বা স্বাধীন পেশা। সাধারণত ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ প্রয়োজন হলেও মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করেও ইনকাম করা যায়। এজন্য আপনাদের অনেকেরই মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করবেন সে বিষয়ে জানার আগ্রহ রয়েছে।

নিচে মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন সে সম্পর্কে জেনে নিন এখনিঃ

ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে একাউন্ট ক্রিয়েট করাঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য প্রথমে আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম গুলোতে আপনার কাজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে।এক্ষেত্রে আপনার যে কাজ করার প্রতি আগ্রহ রয়েছে এবং কাজটি করার জন্য যদি আপনার যথাযথ স্কিল থাকে তাহলে আপনি সেই ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করবেন।

প্রোফাইল তৈরি করাঃ একাউন্ট ক্রিয়েট করার পরের ধাপ হবে আপনার কাজ করার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ক্লায়েন্টদের জানানোর উদ্দেশ্যে একটি প্রোফাইল তৈরি করা। এই প্রোফাইলে আপনার কাজের তালিকা গিগ আকারে প্রকাশ করতে হবে যাতে আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্টরা সহজে আপনাকে খুঁজে পেতে পারে।

কাজের দরপত্র দেওয়াঃ এই পর্যায়ে আপনার কাজ করার দক্ষতা অনুযায়ী দরপত্র দিতে হবে। এই দরপত্র আপনাকে কাজ পেতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ এই দরপত্রের ভিত্তিতে বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ক্লায়েন্ট এর নিকট থেকে আপনি কাজ পেতে পারেন

আরো পড়ুনঃ অনলাইন ইনকামের ২০টি বিশ্বস্ত বাংলাদেশি সাইট

ক্লায়েন্টের নিকট থেকে কাজ পাওয়াঃ আপনার দরপত্র অনুযায়ী কোন ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে কাজটি করতে দেন তাহলে কাজটি যথাযথভাবে সম্পাদন করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজটি করার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনাকে কাজটি সম্পন্ন করে জমা দিতে হবে।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকামঃ শেষ ধাপে নির্ধারিত সময়ে কাজটি জমা দেওয়ার পর ক্লায়েন্ট আপনাকে অর্থ প্রদান করবে। বিভিন্ন পেমেন্ট মেথড এর মাধ্যমে এই টাকা আপনি উত্তোলন করতে পারবেন। মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে মূলতঃ এভাবেই টাকা ইনকাম হয়ে থাকে।

তাহলে উপরে আপনারা জানতে পারলেন মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে ইনকাম শুরু করবেন সে বিষয়ে। এখানে আপনার দক্ষতাই সব। কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনার কাজ করার দক্ষতা এবং ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার দক্ষতা যত বৃদ্ধি পাবে আপনার ইনকাম তত বাড়তে থাকবে।

মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং করা যায়

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় কিনা সে বিষয়ে আর্টিকেলের এই পর্যায়ে  আলোচনা করব। আপনারা অনেকেই জানতে চান, মোবাইল দিয়ে কি সত্যিই ফ্রিল্যান্সিং করা যায়? মূলতঃ অনেকের কাছে মোবাইলের সহজ ব্যবহার এবং বহন করার সুবিধার জন্য  মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে বেশি আগ্রহ দেখান।

আবার অনেকের ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কেনার সামর্থ্য না থাকায় মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় এ বিষয়ে না জানার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারছেন না। আপনাদের উত্তরে বলছি, হ্যা, মোবাইল দিয়েও ফ্রিল্যান্সিং করা যায় এবং  টাকা ইনকাম করা যায়।

তবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, মোবাইলের সাহায্যে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের সব কাজ করতে পারবেন না। শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিংয়ের যে কাজগুলো মোবাইল ফ্রেন্ডলি সেই কাজগুলো করার সুবিধা পাবেন।

এছাড়া মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে কতগুলো বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শুরু করতে হবে। তাহলেই আপনি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ গুলো সহজে করতে পারবেন এবং প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এখন জেনে নিন মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি কি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রেখে কাজ শুরু করবেন।

উন্নত মানের একটি স্মার্ট ফোন বা মোবাইলঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য অবশ্যই আপনার একটি বেশি সঞ্চয় স্থান যুক্ত বড় স্ক্রিন সহ উন্নত মানের স্মার্টফোন দরকার হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে উন্নত প্রযুক্তির স্মার্টফোন না হলে আপনি কাজ করতে পারবেন না।

বিভিন্ন অ্যাপ সম্পর্কে জ্ঞানঃ মোবাইলের সাহায্যে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য আপনাকে মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার সম্পর্কে উপযুক্ত ধারণা এবং জ্ঞান থাকতে হবে। যেমনঃ ক্লাউড স্টোরেজ, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

মোবাইল ফ্রেন্ডলি কাজগুলো বাছাই করুনঃ মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু আপনি বড় পরিসরে করার সুযোগ পাবেন না, এজন্য আপনার নির্দিষ্ট কাজ বাছাই করতে হবে, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং কাজটি করার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল গুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।

সময় ব্যবস্থাপনা করুনঃ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে সময় ব্যবস্থাপনার উপরও বিশেষ নজর দিতে হবে। ক্লায়েন্ট কর্তৃক আপনাকে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার করা। প্রয়োজনে কাজটি কয়েকটি স্লটে ভাগ করে নিয়ে শেষ করতে পারেন।

তবে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা শুরু করলেও পরবর্তীতে আপনাকে অবশ্যই ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ এর উপর নির্ভর করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং অনলাইন ইনকামের বিশাল একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে হাজার হাজার কাজ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তাই একবার যখন আপনি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন তখন আপনার সামনে ইনকাম বৃদ্ধির অনেক উপায় চলে আসবে।

এই কাজগুলো করে ইনকাম বৃদ্ধির জন্য আপনার একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ এর প্রয়োজন হবে। সাথে আপনার আগ্রহ অনুযায়ী কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ এখানে আপনার কাজ করার দক্ষতাই সবকিছু। আপনার কাজ করার দক্ষতা যত বেশি হবে আপনার ইনকাম তত বৃদ্ধি পাবে। এই প্লাটফর্মে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য দক্ষতার কোন বিকল্প নেই।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যোগ্যতা কি

মোবাইল এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার জন্য আপনার কতগুলো বিষয়ে যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য কিছু বিষয়ে আপনার অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারণ মোবাইলের সাহায্যে যে সকল ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা যায় সে সকল কাজ করতে হলে আপনার নিম্নে উল্লেখিত যোগ্যতা গুলো না থাকলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না।

তাহলে নিচে জেনে নিন মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার যে সকল যোগ্যতার প্রয়োজন হবেঃ

  • ইংরেজি ভালোভাবে জানতে হবে
  • যোগাযোগ দক্ষতা ভালো থাকতে হবে
  • ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা যাতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ডাটা বা তথ্যসমূহ ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল ব্যবহার করে সংগ্রহ করতে পারেন।
  • ফ্রিল্যান্সিং কাজকে দক্ষতার সাথে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন অ্যাপস সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং তা ব্যবহার করার যোগ্যতা।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন কোথায়

প্রিয় বন্ধুরা, মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান কিন্তু কিভাবে, কোথায় শিখবেন সে বিষয়ে আপনারা অনেকেই বুঝতে পারেন না। দেখুন, মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনি চাইলে আজকের আর্টিকেলে উল্লেখিত যে কোন বিষয়ের উপর কোর্স করতে পারেন, এতে আপনি কাজটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবেন ও দক্ষ হবেন।

আবার কোনরকম কোর্স করা ছাড়াও আপনি মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন। এজন্য আপনাকে মোবাইলে সাহায্যে আপনি যে সকল ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে পারবেন সে কাজ গুলো যেকোনো ইউটিউব এর ভিডিও দেখে শিখে নিতে পারেন।

ফেসবুক এবং ইউটিউবে সার্চ দিলে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সম্পর্কে হাজার হাজার ভিডিও পাবেন। এ সকল ভিডিও দেখে আপনি প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শুরু করতে পারবেন। এছাড়া আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব, এলাকার বড় ভাই বা কোন আত্মীয় যদি মোবাইলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকন, তাদের কাছে থেকেও আপনি শিখে নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকামের সেরা ১৫টি অ্যাপস

মোটকথা, মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর যে সকল কাজ করা যায় তা শেখার জন্য আপনার ধৈর্য ও শ্রম দিলে আপনাকে কোন প্রশিক্ষণ নেয়ার দরকার হবে না। তবে আমরা আপনাকে যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি ফ্রিল্যান্সিং এর যে কোন কোর্স করে নিতে বলবো, এতে আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ ও ইচ্ছা বৃদ্ধি পাবে। সবশেষে বলতে পারি, মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জনের জন্য আপনার কাজে প্রতি নিষ্ঠা, সময় ও যথেষ্ট ধৈর্য প্রয়োজন হবে, তাহলেই আপনি এই কাজে সফল হবেন। আশা করি বিষয়টি বুঝাতে পেরেছি।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য সহায়ক টুলস

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে কিছু টুলস এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে। এই টুলস গুলো আপনাকে আপনার ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা, সম্পাদনা, সংরক্ষণ, ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তাহলে নিচে জেনে নিন এরকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ টুলস এর তালিকাঃ

  • গুগল মিট
  • জুম
  • আসানা
  • গুগল ড্রাইভ
  • টোগল
  • গুগল ডকস
  • মাইক্রোসফট অফিস

মোবাইল-দিয়ে-ফ্রিল্যান্সিং-করার-উপায়

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা সমূহ

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সম্পর্কে আপনারা উপরে জেনেছেন। মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার বিশেষ কিছু সুবিধার জন্যই বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য অনেকেই মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার যে সকল সুবিধা গুলো পাবেন তা হলঃ

  • মোবাইল সব জায়গায় সহজে বহনযোগ্য একটি ডিভাইস হওয়ায় যেকোনো জায়গায় আপনি এটি নিতে পারবেন।
  • আপনার সুবিধামত যে কোন সময়ে যে কোন জায়গায় আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার সুবিধা পাবেন।
  • মোবাইল ফ্রেন্ডলি অনেক অ্যাপস সহজে ডাউনলোড করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি উপায় যেখানে ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।
  • ফ্রিল্যান্সিংয়ের অল্প দক্ষতার কাজগুলো আপনি মোবাইলের মাধ্যমে করতে পারবেন।
  • মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে মাস শেষে আপনি ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধা

মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে বর্তমানে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার সহজ উপায় যেমন রয়েছে তেমনি মোবাইলের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু অসুবিধা আপনি ফেস করবেন। যেমনঃ

  • মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনি সীমিত কিছু কাজ করার সুবিধা পাবেন। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এর সব কাজ আপনি মোবাইলের মাধ্যমে করতে পারবেন না।
  • মোবাইল দিয়ে আপনি প্রফেশনালি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না। এজন্য অবশ্যই আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ থাকতে হবে।
  • মোবাইল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য পিসি থেকে আপনাকে বেশি সময় ব্যয় করতে হতে পারে।
  • অনেক সময় আপনি স্টোরেজ সংকটেও ভুগতে পারেন
  • মোবাইল দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মের এর একদম প্রথম সারির যে কাজগুলো ধরা হয় যেমনঃ গ্রাফিক ডিজাইন( লোগো ডিজাইন, ফ্লায়ার ডিজাইন, কার্ড ডিজাইন ইত্যাদি), ওয়েব ডেভলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন এই কাজ গুলো মোবাইলে করা আপনার জন্য অসম্ভব হবে। এই কাজ গুলো করার জন্য আপনার অবশ্যই একটি ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ দরকার হবে।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সম্পর্কিত প্রশ্ন এবং উত্তর

প্রশ্ন: মোবাইল এর মাধ্যমে কি ফ্রিল্যান্সিং করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, মোবাইলের মাধ্যমে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু কিছু কাজ করতে পারবেন। যেমনঃ কনটেন্ট রাইটিং, ব্লগিং ডাটা এন্ট্রি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ইউটিউবিং ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জন্য সেরা ফ্রিল্যান্সিং সাইট কোনটি?

উত্তরঃ বাংলাদেশের জন্য সেরা ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো হলঃ

  • ফ্রিল্যান্সার ডটকম
  • ফাইবার
  • আপ ওয়ার্ক
  • গুরু ডট কম
  • পিপুল পার পাওয়ার
  • ৯৯ ডিজাইন

প্রশ্নঃ নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস কোনটি?

উত্তরঃ নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য জনপ্রিয় কিছু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ

  • Fiverr
  • Upwork
  • 99 design
  • Frelancer.com
  • People per hour
  • Simply Hired

প্রশ্ন: ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস কোনটি?

উত্তর: বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস হলো upwork. এই মার্কেট প্লেসে সারা বিশ্ব জুড়ে ১২ মিলিয়নের বেশি ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন এবং ৫ মিলিয়ন সক্রিয় ক্লায়েন্ট রয়েছেন।

প্রশ্নঃ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কি?

উত্তরঃ সহজ কথায়, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হল অনলাইন ভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে সারা বিশ্ব থেকে বায়াররা কাজ দিয়ে থাকেন এবং ফ্রিল্যান্সার গণ সেই কাজ করে টাকা উপার্জন করে থাকেন।

লেখকের কথা

প্রিয় পাঠক, মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সহজ ১৫টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আপনি যদি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে এই উপায় গুলোর সাহায্যে টাকা ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

এছাড়া মোবাইল দিয়ে কীভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবকিছু জানতে পারবেন আশা করি। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে শেয়ার করতে পারেন যাতে তারাও উপকৃত হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url