বাংলাদেশের কৃষক- ২০ পয়েন্ট (ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণী)

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলে "বাংলাদেশের কৃষক" নিয়ে হাজির হয়েছি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত তোমাদের যাদের সিলেবাসে বাংলার কৃষক বা বাংলাদেশের কৃষক রচনাটি রয়েছে, তাদের জন্য আজকের রচনাটি বিশেষ উপকারে আসবে আশা করি।

বাংলাদেশের-কৃষক-রচনা

আজকের বাংলাদেশের কৃষক রচনাটি ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে সাজানো হয়েছে। তোমরা এই পয়েন্ট গুলো থেকে তোমাদের সুবিধামতো যে কোন পয়েন্ট সরাসরি নিতে পারো অথবা নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারো। পোস্ট সূচিপত্রঃ

তাহলে চলো দেরি না করে মূল রচনাটির আলোচনা শুরু করা যাক।

বাংলাদেশের কৃষক


ভূমিকাঃ

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের শতকরা ৮০ জন মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাকি ২০% মানুষও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভর করে আছে। আমাদের এই ভূখণ্ড কৃষির জন্য খুবই উপযুক্ত। এদেশের বৈচিত্র্যময় মাটিতে কোনো না কোনো ফসল ফলবেই। তাই অনেক আগে থেকেই কৃষির উপর নির্ভরশীল এই ভূখণ্ডের মানুষ। এজন্য আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও কৃষি কেন্দ্রিক।

কৃষি ও কৃষকঃ

বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক অটুট অংশ জুড়ে রয়েছে কৃষি ও কৃষকের জীবন। সারা বছর পরিশ্রমের পর স্বরূপ খাদ্যশস্য যোগান হয়। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে কৃষকের অবিরাম পরিশ্রম, ত্যাগ ও ঘামের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রেখেছে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক। এভাবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ বিশেষভাবে বাংলার কৃষকের উপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের কৃষকঃ

বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরে ঘরে কৃষক রয়েছে। প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে রয়েছে কৃষকের পরিবার। গ্রীষ্মের দাবদাহ ও অনাবৃষ্টি, বর্ষার অতিবৃষ্টি ও বন্যা-এগুলো পেরিয়ে অবশেষে ফসল ফলে কৃষকের হাতে। আমাদের দেশের একটি অন্যতম কর্মব্যস্ত পেশা কৃষিকাজ। প্রচন্ড রোদ, কনকনে শীত বা বৃষ্টিতে তাদের গায়ে গেঞ্জি, ছোটখাটো শার্ট, ধুতি লুঙ্গি, গামছা ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। বিশেষ করে ফসলের মৌসুমে তারা নেওয়া খাওয়া ভুলে নিজেদের দিকে না তাকিয়ে ফসল উৎপাদনে মনোযোগ দেয়।

কৃষকের জীবনঃ

সারা দেশের মানুষের জন্য যে কৃষক ফসল ফলায় অনেক সময় তাদের জীবন অনেক কষ্টের হয়ে ওঠে। সূর্য উঁকি দেওয়ার আগেই তারা খোলা ফসলের মাঠে কৃষি খেতে হাজির হয়ে যায়। সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত তারা মাঠ ছেড়ে বিশেষ কাজ ছাড়া যায় না। যে কোন মৌসুমে, যে কোন দুর্যোগে যেকোনো অবস্থায় তারা তাদের ফসলের যত্নের কমতি রাখেনা।

আরো পড়ুনঃ বিজয় দিবস রচনা- ২০ পয়েন্ট

তারপরেও কখনো কখনো অতি দুর্যোগ, যেমনঃ অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় তাদের ফসলের ক্ষতি সাধন করে। সরল চাষিরা আশা না হারিয়ে আবার ভালোভাবে যত্ন নিয়ে নতুন করে ফসল জন্মানোর কাজ শুরু করে। তাই কৃষি বছর শেষে যখন তাদের জমিতে ফলন আসে তাদের খুশির সীমা থাকে না।

কৃষকের এই আনন্দ তার পরিবার, এমনকি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে যায়। তবে এখন শোষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাদের এই খুশিও এখন সীমিত। এখন অনেক কৃষক কোন মতে অতি কষ্টে বেঁচে থাকে।

কৃষকের অতীত অবস্থাঃ

অনেক আগে কৃষকের হাতে তেমন প্রযুক্তি ছিল না। তাই তাদের শারীরিকভাবে বেশি পরিশ্রম করতে হতো। ব্রিটিশ আমলে গরীব চাষীদের দিয়ে জোরপূর্বক নীল চাষ করিয়ে নেয়া হতো। তবে তারও আগে, উপনিবেশিক যুগের পূর্বে, এরকম পরিবেশ ছিল না। তখনকার সময়ে কৃষকের জীবন ছিল খুশিতে ভরপুর। তারা সবার সাথে মিলে মিশে একসাথে জীবন পার করতো। তবে বেশিরভাগ সময়ই দেখা গিয়েছে কৃষক শ্রেণী ওই সময়ের রাজা-বাদশা ও জমিদারদের দ্বারা নির্যাতিত হতে।

কৃষকের বর্তমান অবস্থাঃ

বর্তমানে কৃষকেরা অনেক ফসল উৎপাদনের অনেক নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড ফসল হাতে পেয়েছে। তাই অতীতের থেকে তারা এখন কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে বেশি ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। বর্তমান সময়ে কৃষকশ্রেণীর শোষণের উপর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। তবে এই সময়ে কৃষকদের সমাজে কিছুটা গুরুত্ব বেড়েছে এবং পাঠ্য বইয়ের ছোটদের সামনে তাদের কাজের তাৎপর্য তুলে ধরা হচ্ছে, যা খুবই ইতিবাচক দিক।

জাতীয় জীবনে কৃষকের ভূমিকাঃ

আমরা বাঙালি জাতি, অনেক আগে থেকেই আমাদের মধ্যে ভাত মাছ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে, যে কারণে আমাদের বলা হয়-" মাছে ভাতে বাঙালি।" দেশের খাদ্য চাহিদার প্রায় ৯০ ভাগ খাদ্যশস্য দেশের কৃষকদের ফলানো ফসল থেকেই আসে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ধান চাষ করার জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয়। ধান ছাড়াও অন্যান্য খাদ্যশস্য যেমনঃ গম, সরিষা, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল, মুরগি ও মাছ ইত্যাদি আমাদের দেশের কৃষকরা উৎপাদন করে। এ কারণে বলা যায়, দেশের প্রায় ৮০% খাদ্য চাহিদা পূরণ হয় আমাদের কৃষকদের অবদানে। এভাবে জাতীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে কৃষকের ভূমিকা অপরিসীম।

অর্থনীতিতে কৃষকের অবদানঃ

বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড কৃষি। কৃষকের অবদান সম্পর্কে অবগত না থাকলে তা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। প্রথমেই রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার কথা যদি বলি তাহলে পাট, চা, চিনি, চিংড়ি, আলু, বিভিন্ন মসলা এমনকি বর্তমানে নানা ধরনের ফুল রপ্তানি করা হচ্ছে। এর ফলে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের নদ নদী রচনা-২০ পয়েন্ট

আবার অন্য দিক দিয়ে যদি দেখি, কৃষকের সংখ্যা কম হলে ফসল কম হবে। কম ফলনের কারণে বিদেশ থেকে প্রচুর খাবার আমদানি করতে হবে, যা ব্যয়বহুল। আবার দেশের অর্থনীতির আরেক উৎস শিল্প কারখানার কাঁচামাল আসে কৃষি থেকেই। এভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করে আসছে কৃষি।

শিল্পায়নে কৃষি ও কৃষকের অবদানঃ

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুইভাবে কৃষি ও কৃষক শিল্পায়নে অবদান রাখছে। গার্মেন্টস বানানোর কাঁচামাল কৃষকের শ্রম থেকেই আসে। এছাড়া আমাদের দেশের চা সারা বিশ্বে খ্যাতি লাভ করেছে। কারণ আমাদের দেশে কৃষকরা অতি যত্নের সাথে চা চাষের দায়িত্ব পালন করে থাকে। আবার চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আখ আমাদের দেশে উৎপাদিত হয়। ভালো মানের আটা-ময়দা তৈরি করার ক্ষেত্রে উৎপাদকগন উন্নত মানের গমের উপরে নির্ভরশীল। 

আবার পাট দিয়ে বস্ত্র শিল্পে তৈরি কাপড়, ব্যাগ সহ গৃহস্থালি্র নানা জিনিসপত্র উৎপাদিত হয়। চামড়া শিল্পেও বাংলাদেশ বিশেষ উন্নত। কৃষকের খামার থেকে আসা গরু, মহিষ, ছাগলের চামড়া বিদেশে রপ্তানির সাথে সাথে দেশের চামড়া জাতীয় পণ্য উৎপাদনে চাহিদা পূরণ করে থাকে। এভাবে দেশের শিল্পায়নে কৃষি ও কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষক ও কৃষিঃ

আমাদের এই জনবহুল দেশে কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। তবে কৃষি কাজে অনেক জনশক্তির প্রয়োজন। তাই পড়াশোনা জানার সাথে সাথে পড়ালেখা না জানলেও কৃষিকাজ করার মাধ্যমে যে কেউ জীবনধারণ করতে পারবে। এছাড়া কৃষি কাজ না করলেও কৃষি সংশ্লিষ্ট অনেক কাজ থাকে যেগুলো করে ইনকাম করা যায়। আবার, কৃষিকে কেন্দ্র করে অনেক কারখানা তৈরি হচ্ছে, যা বেকার সমস্যা দূরীকরণে সহায়ক।

কৃষি ও কৃষকের সমস্যাঃ

দেশের কৃষি খাতে এখন নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো মূলধনের অভাব। বেশিরভাগ কৃষকের হাতে জমানোর মত অতিরিক্ত অর্থ থাকে না। ফলে কৃষকের নিজের শখ যেমন পূরণ হয় না, আবার মূলধনের অভাবে সমস্যাগুলো মেটাতে পারেনা। কম মূলধনের ফলে কম ফলন হয়, যার ফলে আয়ও কম হয়। এভাবে এক ধরনের চক্রাকারে কৃষকের জীবন চলতে থাকে। 

আবার, আমাদের মত অনুন্নত দেশে কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব দেখা যায়। যে কোন প্রশিক্ষিত কৃষক সাধারণ কৃষকের চেয়ে কম ব্যয়ে বেশি ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম। কিন্তু এখনো দেশের বেশিরভাগ কৃষক অশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত। আবার, কৃষি উপকরণের অভাবও কৃষির আরেকটি বড় সমস্যা।

আরও পড়ুনঃ শ্রমের মর্যাদা রচনা- ২৫ পয়েন্ট

উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রের বদলে একই ভোঁতা লাঙ্গল দিয়ে চাষ করা তেমন ফলপ্রসু হয় না। এছাড়া বাজারে নতুন জাতের বীজ ও পরিবেশ বান্ধব সার আসলেও কৃষকের মাঝে এখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও দেশের অনেক ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ত্রুটি পূর্ণ বাজার ব্যবস্থা, বীজ ও খাদ্য শস্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এসকল সমস্যার মধ্যেই আমাদের দেশের কৃষকরা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে।

কৃষকদের দুরবস্থার কারণঃ

দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়লেও জমির সংখ্যা বাড়ছে না। কম জমিতে কম মূলধন ও স্বল্প আয় নিয়ে কৃষকের অতি বৃহৎ পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তার উপর দারিদ্রতার দুষ্টচক্রের কারণে কৃষকের সন্তানরা ঠিকমতো শিক্ষার আলো পায় না। আবার দারিদ্রতার কারণে নতুন নতুন কৃষিজ উপকরণ ঠিকমতো কিনতে পারেনা। এছাড়াও রয়েছে দেশের ধনী ও মধ্য সুবিধাভোগী শ্রেণীর শোষণ ও দুর্নীতি। যার কারণে কৃষকের আজও এরকম দুরবস্থা।

কৃষকদের উন্নতির জন্য গৃহীত পদক্ষেপঃ

দেশের কৃষকের অবস্থার উন্নতির জন্য সরকার থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার দেশের বিভিন্ন জায়গার কৃষকদের কম মূল্যে ও বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এখন সার, বীজ এমনকি কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে ভর্তুকির ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমানে কৃষি কার্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এছাড়াও কৃষি পণ্য সংরক্ষণে নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন খামার ও গুদাম ঘর, যা কৃষকের কৃষিকাজে সহায়তা ছাড়াও জীবন মানে উন্নতি আসবে আশা করা যায়।

কৃষকদের উন্নতির জন্য করণীয়ঃ

উপযুক্ত উপায়ে বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন শীঘ্রই সম্ভব। এর মধ্যে একটি প্রধান উপায় হতে পারে দেশের কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সেবা সমূহ সম্পর্কে অবগত করা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এর সাথে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য। এছাড়া কৃষকদের হাতে উন্নত প্রযুক্তি স্বল্প মূল্যে তুলে দিতে হবে। বিনা সুদে কৃষকদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা ও কৃষকের পণ্যের ন্যায্য মূল্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এভাবে বিভিন্ন ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে কৃষকের উন্নতি সম্ভব।

উপসংহারঃ

আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হোক আমরা কৃষকের উপর নির্ভরশীল। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে খাদ্য উৎপাদনে আমরা প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষকের সকল সমস্যা দূর করতে সরকার সহ আমাদের সকলের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের পরিশ্রম ও ঘামের যথাযথ মূল্য দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে সকল জায়গায় রাখতে হবে। এভাবে কৃষকের যে কোন প্রয়োজনে আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসি তাহলে একদিন কৃষকের মুখেও ফুটে উঠবে প্রশান্তির হাসি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url