কোন বিশ্বাসযোগ্য ১৫টি সাইট থেকে আসল টাকা ইনকাম করা যায়

কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায় এ জাতীয় প্রশ্ন যদি আপনার মনে থাকে তাহলে এই প্রবন্ধটি আপনার জন্য। এখানে জানবেন অনলাইনে টাকা উপার্জন করার বিশ্বাসযোগ্য ১৫টি সাইট সম্পর্কে। এছাড়া টাকা ইনকাম করার নির্ভরযোগ্য অ্যাপ সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

কোন-সাইট-থেকে-টাকা-ইনকাম-করা-যায়
বর্তমান যুগে অনলাইন ওয়েবসাইট গুলো অর্থ উপার্জনের সেরা ও জনপ্রিয় মাধ্যম। বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ এখন ঘরে বসে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করছেন। কাজ করার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা থাকলে এ সকল সাইট থেকে ভালো টাকা ইনকাম করে নেওয়া যায়। পোস্ট সূচীপত্রঃ

কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায়

অনলাইনে কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। অর্থাৎ অনলাইন আয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য রিয়েল সাইট কোনগুলো? আমাদের প্রত্যেকের অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে এটা জানা জরুরী। কারণ অনলাইনে হাজার হাজার ফ্রি সাইট থাকলেও সকল সাইট বিশ্বাসযোগ্য না। বিশ্বস্ত সাইটের ভিড়ে স্ক্যাম সাইটের অভাব নেই। তাই শুরুতে সঠিক সাইট বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাহলে অনলাইনে ফ্রি টাকা ইনকাম করা সহজ হয়।

যদিও কিছু সাইট সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, যেগুলো থেকে সত্যিকারের টাকা আয় করা যায়। এই তালিকায় ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোর নাম সবার প্রথমে আসে। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম থেকে যেহেতু দক্ষতা ছাড়া ইনকাম করার সম্ভাবনা প্রায় জিরো, তাই আমরা অনেকেই এমন সাইট সম্পর্কে জানতে চাই যেখানে খুব একটা দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।

এজন্য আপনাদের অনলাইন আয়ের পথ সহজ করে দিতে এখানে আমরা ১৫টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব। আপনি কোন কাজে দক্ষ হোন বা না হোন, যেন এ সকল সাইট থেকে আপনার জন্য উপযুক্ত সাইট বেছে নিয়ে ঘরে বসে আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে উপার্জন শুরু করতে পারেন।

চলুন তাহলে একে একে সাইটগুলো সম্পর্কে নিচের আলোচনা থেকে জেনে নেইঃ

১. ফাইবার (Fiverr)

ফাইবার হল জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজ ও সেবা বিক্রি করে উপার্জন করে থাকেন। দক্ষতা ছাড়া এই সাইট থেকে ইনকাম করা প্রায় অসম্ভব। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্স কাজ করার সুযোগ এই সাইটে রয়েছে।

কোন ধরনের কাজ করে এখানে ইনকাম করা যায়?
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন ও প্যাকেজিং ডিজাইন
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট
  • কোডিং ও প্রোগ্রামিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • এসইও
  • ব্লগিং
  • কন্টেন্ট রাইটিং
  • ডাটা এন্ট্রি
  • ভিডিও এডিটিং ও অ্যানিমেশন
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • ফটো এডিটিং
  • টি শার্ট ডিজাইন
ফাইবার সাইটে একাউন্ট খোলার নিয়ম কি?

ফাইবার সাইটে একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে সাইটে ঢুকে জয়েন লেখা অপশনে ক্লিক করে সাইন আপ করতে হবে। এর জন্য আপনার একটি সক্রিয় ইমেইল অ্যাকাউন্ট দেওয়ার পর, ইউজার নেম ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনার ইমেইল আসা ভেরিফিকেশন কোড দেখে অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই করুন।

এরপর জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী আপনার নাম এবং পরিষ্কার ও প্রফেশনাল ছবি, কাজের বিবরণী যোগ করে একটি সুন্দর প্রোফাইল তৈরি কাজ শেষ করুন।

ফাইবার থেকে ইনকাম করার উপায়

ফাইবার থেকে ইনকামের জন্য প্রথমে ফাইবারে একটি সেলার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।এরপর পেশাদারভাবে প্রোফাইল তৈরি এবং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সুন্দর একটি বায়ো তৈরি করা অপরিহার্য। তারপর আপনার কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে আকর্ষণীয় টাইটেল যোগ করে গিগ তৈরি করার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। আপনার কাজের সাথে যুক্ত কোন ছবি বা ভিডিও যুক্ত করলে তা আরো পেশাদার হয়ে উঠবে। 

সম্ভব হলে ২৪ ঘন্টা অনলাইনে থেকে ক্লায়েন্টের মেসেজের দ্রুত রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লায়েন্টদের আপনার পেশাদার মনোভাব বুঝে উঠতে সহায়তা করবে। এছাড়া নতুন অবস্থায় শুরুতে কাজের কম মূল্য নির্ধারণ কাজ পাওয়া সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। কাজ শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিয়ে যে ডলার ইনকাম হবে তা পেওনিয়ার এর মাধ্যমে আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে তুলতে পারবেন।

২. আপ ওয়ার্ক (Upwork)

কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায়, সহজ উত্তর হলো আপ ওয়ার্ক। আপ ওয়ার্ক বিশ্বের বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। বিশ্বজুড়ে নানা দেশের হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার এখানে নিজের দক্ষতা বিক্রি করেন। দক্ষ, অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের পাশাপাশি নতুন ফ্রিল্যান্সারদের এখানে কাজের সুযোগ রয়েছে। আপনার যদি কোন কাজের ন্যূনতম দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকে তাহলে এখানে ফ্রিতে একাউন্ট খুলে কাজ শুরু করতে পারেন।

কোন ধরনের কাজ করে এখানে ইনকাম করা যায়?
  • ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
  • অ্যাপ ডিজাইন
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • কনটেন্ট রাইটিং ও কপি রাইটিং
  • ব্লগিং
  • ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
  • ডাটা এন্ট্রি ও লেবেলিং
  • ভিডিও এডিটিং
  • বুক কিপিং
  • এ আই ইন্টিগ্রেশন
  • কাস্টমার সার্ভিস
  • থ্রিডি এনিমেশন, ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন ইত্যাদি
আপ ওয়ার্ক সাইটে কিভাবে একাউন্ট খুলব?

আপ ওয়ার্ক থেকে ইনকামের জন্য প্রথমে আপনাকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে। এই কাজটি ফ্রিতে করতে পারবেন। একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে সাইটের উপরে ডানপাশে সাইন আপ অপশন সিলেক্ট করে "I am a Freelancer" জায়গায় ক্লিক করে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে।যেমনঃ নাম, আপনার একটি সক্রিয় ইমেইল এড্রেস ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড।

আপনার দেশ ও টার্মস অফ সার্ভিস ক্লিক করে "Create my Account"  সিলেক্ট করলে আপনার একাউন্ট তৈরির কাজ শেষ হবে।  তারপর অ্যাকাউন্টটি ভেরিফাই করার পর কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ছবি দিয়ে আপনার প্রোফাইলটি সম্পূর্ণ করুন।

আপ ওয়ার্ক থেকে ইনকাম করার উপায়

আপ ওয়ার্ক থেকে ইনকাম করার জন্য প্রথমে কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করে একটি আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। এছাড়া ক্লায়েন্ট আকৃষ্ট করতে একটি পেশাদার প্রোফাইল তৈরি যেমন জরুরী তেমনি ক্লায়েন্টদের নিকট সঠিকভাবে কাজের প্রপোজাল পাঠানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে এবং আকর্ষণীয় কভার লেটার যুক্ত নিয়মিত প্রপোজাল পাঠালে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

আপ ওয়ার্ক থেকে অর্জিত অর্থ পেপেল, ব্যাংক ট্রান্সফার ও পেওনিয়ার এর মাধ্যমে তুলে নিতে পারবেন।

৩.Freelancer (ফ্রিল্যান্সার)

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার আরেকটি জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য সাইট ফ্রিল্যান্সার ডটকম। এখানে হাজারের উপর বিভিন্ন ক্যাটাগরির বেশি কাজ করে ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে। যেমনঃ
  • ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট
  • মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • কন্টেন্ট রাইটিং
  • ব্লগিং
  • ডাটা এন্ট্রি
  • অনুবাদ
  • প্রুফ রিডিং
  • ভিডিও এডিটিং ও এ্যানিমেশন
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ও ইমেইল মার্কেটিং
  • ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইত্যাদি
ফ্রিল্যান্সার ডটকমে একাউন্ট খোলার নিয়ম কি?

ফ্রিল্যান্সার ডট কমে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে ওয়েবসাইটে ঢুকে সাইনআপ অপশনে ক্লিক করে ইমেইল একাউন্ট বা গুগল অথবা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে রেজিস্ট্রেশন এর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও একটি ইউনিক ইউজার নেম দিতে হবে। এই পর্যায়ে একাউন্ট টাইপ হিসেবে ফ্রিল্যান্সার অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। 

এরপর আপনার ইমেইলে আসা কোড দিয়ে ভেরিফিকেশন এর কাজ সম্পন্ন করুন। আপনার নাম, স্পষ্ট একটি ছবি, কাজের দক্ষতা ও বিবরণ দিয়ে প্রোফাইল তৈরি কাজ শেষ করুন।

ফ্রিল্যান্সার ডটকম থেকে ইনকাম করার উপায় কি?

ফ্রিল্যান্সার ডটকম থেকে ইনকাম করার জন্য সঠিক উপায়ে একাউন্ট খোলার পর নিজের কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী একটি আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও যুক্ত করতে হবে। এতে করে বায়াররা আপনার পোর্টফোলিও দেখে কাজ করানোর প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে সরাসরি কাজের প্রস্তাব দিতে পারে। বায়ার কর্তৃক কাজের প্রস্তাব পোস্ট করার পর সেখানে আপনি কাজের জন্য বিড করতে পারেন।

এছাড়া অনেক সময় বায়াররা তাদের কাজের জন্য প্রতিযোগিতা দিয়ে থাকে, সেখানে অংশ নিয়ে আপনার ডিজাইন বা প্রস্তাব পাঠানোর পর জিতে গেলে ভালো অংকের প্রাইজ মানি জিতে নিতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ ১৫টি বিশ্বস্ত সরকার অনুমোদিত অনলাইনে ইনকাম সাইট

মোট কথা, সুনির্দিষ্ট কাজের উপর দক্ষতা, পেশাদার প্রোফাইল ও আকর্ষণীয় পোর্টফলিও, চমৎকার যোগাযোগ কৌশল, ধৈর্য এবং সময় অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে জমা দেওয়া এ সকল গুণাবলী ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে ইনকাম করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী হিসেবে ধরা হয়। তাই ফ্রিল্যান্স কাজ করে ইনকাম করার জন্য এই সকল কাজের প্রতি ফোকাস করে ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়া থেকে আপনার ইনকাম তৈরি করে নিতে পারবেন আশা করি।

৪.Swagbucks ( সোয়াগবাক্স)

সোয়াগবাক্স অনলাইন দুনিয়ায় টাকা ইনকাম করার একটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত বিশ্বস্ত টাকা ইনকাম করার সাইট। সাইটটি দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের স্বচ্ছ পেমেন্ট সিস্টেমের জন্য ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নানা ধরনের কাজ করে সাইট থেকে ইনকাম করা গেলেও, মূলতঃ সার্ভে করে উপার্জন করার জন্য সাইটটি বেশ পরিচিত।

সাইটে পণ্য ও সেবা সম্পর্কিত ছোট বড় নানা ধরনের সার্ভে পূরণ করে ইনকাম করে নিতে পারবেন। এছাড়া গেম খেলে, ভিডিও দেখে, নতুন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ফ্রি ব্যবহার করে, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতজনদের সাইটে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের ইনকামের একটি অংশ বোনাস হিসেবে পেয়ে বাড়তি আয় করা যায়।তাছাড়া সাইটের পোর্টাল ব্যবহার করে অংশীদার ভুক্ত কোন শপে অনলাইন কেনাকাটা করে নির্দিষ্ট হারে ক্যাশ ব্যাক পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সাইট থেকে অর্জিত এসবি পয়েন্ট পরবর্তীতে পেপেল বা গিফট কার্ডের মাধ্যমে রিডিম করে ক্যাশ টাকায় উত্তোলন করে নিতে পারবেন।

৫.Freecash ( ফ্রিক্যাশ)

ফ্রিক্যাশ আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রি অনলাইন আর্নিং সাইট। এটি মূলতঃ একটি রিওয়ার্ড প্ল্যাটফর্ম যা সাইট ও অ্যাপ হিসেবে আপনারা ক্রোম ব্রাউজারে পেয়ে যাবেন। সাইট থেকে উপার্জন করার জন্য বিভিন্ন রকমের ছোট বড় কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যেমনঃ

মার্কেট রিসার্চ সম্পর্কিত সার্ভে পূরণ বা মতামত দিয়ে, মোবাইল গেম ডাউনলোড ও ইনস্টল করে নির্দিষ্ট লেভেল পার হলে, নতুন নতুন অ্যাপ, পণ্য ও সেবা ইনস্টল করে ব্যবহার করার মাধ্যমে, ডেইলি ছোট ছোট অফার সম্পন্ন করে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট অর্জন করে বোনাস পেয়ে সরাসরি ডলার ইনকাম করে নেওয়া যায়।

সাইট থেকে ইনকাম করা ডলার পেপেল বা গিফট কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করা সহ চাইলে ক্রিপ্টোকারেন্সি তে রূপান্তর করতে পারবেন।

৬.TGM panel (টি জি এম প্যানেল)

টি জি এম প্যানেল মূলতঃ একটি পেইড সার্ভে করার বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় সাইট। এখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির পণ্য ও সেবা সম্পর্কিত বাজার গবেষণার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অর্থ উপার্জন করা যায়। এটি একটি বাংলাদেশী পেইড সার্ভিস সাইট। এই সাইট থেকে ইনকামের জন্য প্রথমে আপনাদের সাইটে নিবন্ধন করার জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

এজন্য সাইটে প্রবেশ করে সক্রিয় ই মেইল এড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর আপনার ইমেইল একাউন্টটি ভেরিফাই করে নিতে হবে। এরপর সঠিক ও যথাযথ তথ্য দিয়ে আপনার প্রোফাইলটি সাজাতে হবে যেন প্রোফাইলের সাথে মিল রেখে সার্ভে সম্পন্ন করতে পারেন।

টি জি এম প্যানেল থেকে অর্থ উপার্জন এর উদ্দেশ্যে সার্ভেগুলো সঠিক ও মনোযোগ সহকারে ঠিকঠাকমতো পূরণ করুন। প্রতিদিন সাইটের ড্যাশবোর্ডে নতুন নতুন সার্ভে থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সার্ভে পূরণ করে ইনকাম শুরু করুন। বিস্তারিত জানতে সাইটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।

৭.Youtube (ইউটিউব)

কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায় ইউটিউব হলো সেই কাঙ্খিত প্লাটফর্ম। ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায় এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। কিন্তু ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, না হলে ইউটিউব প্ল্যাটফর্মকে আপনি টাকা ইনকামের মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন না। youtube থেকে ইনকামের জন্য প্রথম ও প্রধান যে শর্ত পূরণ করতে হবে তা হলো- বড় ভিডিওর ক্ষেত্রে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও লাস্ট ৩৬৫ দিনে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম। শর্টস বা ছোট ভিডিওর ক্ষেত্রে লাস্ট ৯০ দিনে ৩০ লাখ ভিউ।

উপরে উল্লেখিত শর্তগুলো পূরণ হলে আপনার চ্যানেল মনিটাইজ করার মাধ্যমে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। ইউটিউব থেকে আয় করার প্রধান উপায় মূলতঃ এটি। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যানেলে ৫০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৩ হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম নিয়ে আপনি সাইটের অন্যান্য ফিচার চালু করতে পারবেন। আর এজন্য প্রয়োজন চ্যানেলে জনপ্রিয় নিশ ( Niche) নিয়ে নিয়মিত মানসম্মত ও আকর্ষণীয় ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করা।

এখন জেনে নিন ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম থেকে ইনকামের অন্যান্য উপায় সমূহ কি কি-
  • স্পনসরশীপ বা বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের প্রচার করার মাধ্যমে আয়
  • আপনার চ্যানেলে এফিলিয়েট লিংক তৈরি করে পণ্য বিক্রি করে কমিশন অর্জন করে আয়
  • আপনার নিজের কোন পণ্য বা সেবা বিক্রি করে আয়
  • ফ্যান ফান্ডিং এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে আয়
৮.Amazon (এমাজন)

অ্যামাজন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ই-কমার্স সাইট। অ্যামাজন থেকে ঘরে বসে কোনরকম টাকা ইনভেস্ট না করে উপার্জন করার কিছু সহজ ও জনপ্রিয় উপায় রয়েছে। আপনি চাইলে যে কোন একটি উপায় কাজে লাগিয়ে মাস শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা অনায়াসে আয় করে নিতে পারেন।

এমাজন থেকে কিভাবে আয় করবেনঃ

  • এমাজন থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এজন্য আপনাকে amazon অ্যাসোসিয়েটস প্রোগ্রাম এ যুক্ত হয়ে আপনার ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ বা ব্লগে amazon এর যেকোনো পণ্যের লিংক শেয়ার করে প্রচার করার মাধ্যমে কমিশন অর্জন করে ইনকাম করবেন।
  • অ্যামাজন থেকে ইনকাম করার বর্তমানের আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো কেডিপি বা কিন্ডেল ডাইরেক্ট পাবলিশিং প্রোগ্রামিং যুক্ত হয়ে নিজে বই লিখে অ্যামাজনে পাবলিশ করুন। বই বিক্রি হলে নির্দিষ্ট হারে রয়েলটি বা লভ্যাংশ পেয়ে ইনকাম করবেন।
  • আপনার যদি ডিজাইনে অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে মার্চ অন ডিমান্ড প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে যেকোনো ডিজাইন, যেমনঃ টি শার্ট, বইয়ের কাভার, মোবাইল ফোনের কাভার, মগ, দিনলিপি ইত্যাদি যে কোন ডিজাইন আপলোড করে ইনকাম করতে পারেন।
উপরে উল্লেখিত ইনকাম পদ্ধতি ছাড়াও অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম ও অ্যামাজন এফবিএ (Fulfillment By Amazon) প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে নিজের পণ্য বিক্রি করে ইনকাম তৈরি করতে পারেন।

৯.Google Opinion Rewards (গুগল অপিনিয়ন রিওয়ার্ডস)

Google অপিনিয়ন রিওয়ার্ড অনলাইনে টাকা ইনকাম করার আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য সাইট ও অ্যাপ। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল থেকে গুগল প্লে স্টোরে সার্চ দিলে অ্যাপটি পেয়ে যাবেন। এই সাইটে সাধারণত ছোট ছোট সার্ভে উত্তর দিয়ে রিওয়ার্ড অর্জন করবেন। যেমনঃ আপনার যে কোন ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কিত সার্ভে, ইউটিউব ভিডিও সম্পর্কে সার্ভে বা দোকানে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নিয়ে সার্ভের প্রশ্ন হতে পারে। 

তবে প্রথমে এজন্য আপনাদের সাইট বা অ্যাপে গুগল একাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করার পর নিজের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। আপনার প্রোফাইলের উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন সার্ভে গুগল থেকে আসতে থাকবে। প্রতিটি সার্ভে সঠিক উত্তর দিয়ে ক্রেডিট অর্জন করতে থাকবেন যা পরবর্তীতে গুগল প্লে কার্ড বা পেপেলের মাধ্যমে তুলে নিতে পারবেন।

১০.Blogger (ব্লগার)

ব্লগার হল অনলাইনে আসল টাকা ইনকাম করার রিয়েল সাইট। ব্লগার থেকে ইনকাম করার জন্য ব্লগিংয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, বিশেষ করে আর্টিকেল লেখার নিয়ম-কানুন ও এসইও সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। ব্লগার সাইটে প্রতিনিয়ত মানসম্মত আর্টিকেল পাবলিশ করে পর্যাপ্ত ভিজিটর আসলে সাইট মনিটাইজ করার মাধ্যমে গুগল এডসেন্সের এড দেখিয়ে ভালো টাকা ইনকামের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া কোন পণ্যের এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক তৈরি করে, ব্র্যান্ড থেকে স্পনসর শীপ এর মাধ্যমে অথবা নিজের কোন প্রোডাক্ট, যেমনঃ অনলাইন কোর্স, ই-বুক, ডিজাইন আপলোড করার মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

১১.Medium (মিডিয়াম)

অনলাইনে সাইট থেকে আসল টাকা ইনকাম করার আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট মিডিয়াম ডট কম। এখানে মূলতঃ লেখালেখি করে বিভিন্ন উপায়ে উপার্জন করা যায়। যেমনঃ
  • মিডিয়াম পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে পাঠকদের আপনার লেখা পড়ার সময়ের উপর ভিত্তি করে আয় হবে।
  • আপনার লেখায় পণ্য বা সেবার এফিলেট লিংক তৈরি করার মাধ্যমে আয়।
  • ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে আর্টিকেল রাইটার হিসেবে কাজ করার করলে মিডিয়ামে লেখা আপনার আর্টিকেল পোর্টফলিওতে যোগ করে প্রোফাইল আরো বেশি নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারেন। এতে করে ক্লায়েন্ট আকৃষ্ট বেশি হবে।
  • মিডিয়ামে লেখা থেকে আপনার নিজস্ব ব্লগ সাইটে ভিজিটর এনে আয় বাড়াতে পারেন।
১২.Prolific (প্রলিফিক)

এই সাইটটি মূলতঃ শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য টাকা উপার্জনের সাইট। এখানে সাধারণত একাডেমিক ও গবেষণামূলক সার্ভে ও স্টাডিতে অংশ নিয়ে অর্থ উপার্জন করা যায়। সাইট থেকে উপার্জনের জন্য প্রথমে আপনাকে একজন পার্টিসিপেন্ট হিসেবে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এজন্য অফিসিয়াল সাইটে ঢুকে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। অনেক সময় একাউন্ট খোলার জন্য নতুনদের অপেক্ষা করানো হতে পারে।

একবার অ্যাকাউন্ট তৈরি কাজ শেষ হলে এবাউট ইউ তে গিয়ে যথাযথ তথ্য পূরণ করে প্রোফাইলটি সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সাইটের ড্যাশবোর্ডে আসা সার্ভে, কুইজ সহ অন্যান্য গবেষণার টাস্ক গুলোতে অংশ নিয়ে তা যথাযথ ভাবে পূরণ করার মাধ্যমে আয় হবে। এক্ষেত্রে ঘন্টায় বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া টাস্কগুলো বেছে নিলে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আপনার একাউন্টে মিনিমাম ছয় ডলার জমা হলে পেপালের মাধ্যমে তুলে নিতে পারবেন।

১৩.Shutterstock (শাটার স্টক)

শাটার স্টক আরেকটি বিশ্বের যোগ্য অনলাইন ইনকাম সাইট, যেখান থেকে আসল টাকা ইনকাম করা যায়। শাটার স্টক সাইট থেকে ইনকামের জন্য প্রথমে আপনাদের সাইটে একটি শাটারস্টক কন্ট্রিবিউটর একাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট তৈরি পর আপনার নিজের তোলা হাই রেজুলেশন এর ছবি, ইলাস্ট্রেটর ভিডিও কিংবা ডিজাইন আপলোড করে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে ইনকাম শুরুর জন্য আপনার যে কোন ফাইল আপলোড করার পর শাটারস্টক টিম অনুমোদন দেওয়ার পর সাইটে দেখা যাবে। আপনার আপলোড করা যেকোন ফাইল যদি কেউ ডাউনলোড করে বা কিনে নেয় তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে আপনার ইনকাম হবে। ইনকাম বাড়ানোর জন্য বিশেষ বিশেষ উৎসবের দিনগুলো টার্গেট করে ছবি ভিডিও বা ডিজাইন আপলোড করতে পারেন। যেমনঃ বড়দিন বা বছরের প্রথম দিন।

আপনার একাউন্টে মিনিমাম ২৫ ডলার জমা হলে পেপেল বা পেওনিয়ার এর মাধ্যমে আপনার উপার্জন করা ডলার তুলে নিতে পারবেন।

১৪.Inboxdollar (ইনবক্স ডলার)

অনলাইন থেকে আসল টাকা আয় করার আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য সাইট ইনবক্স ডলার। এই সাইট থেকে আপনারা সরাসরি নানা ধরনের কাজ করে ডলার ইনকাম করতে পারবেন। এখানে সাধারণত পেইড সার্ভে পূরণ করে, গেম খেলে, অ্যাপ ইন্সটল করে ইমেইল পড়ে, ডেইলি কুইজ খেলায় অংশ নিয়ে, অফার গুলো সম্পন্ন করে, 

অনলাইন কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক পেয়ে, কেনাকাটা রশিদ স্ক্যান করা সহ আরো নানা ছোট ছোট কাজে অংশ নিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

১৫.My Points (মাই পয়েন্টস)

মাই পয়েন্টস ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনারা নানা উপায় ইনকাম করতে পারবেন। যেমনঃ সার্ভে পূরণ করে, ইমেইল পড়ে, গেম খেলে, অনলাইন শপিং এ ক্যাশব্যাক পেয়ে, বন্ধুকে রেফার করে, ওয়েব সার্চের মাধ্যম সহ ইত্যাদি উপায়ে আসল টাকা উপার্জন করা যায়।

মাই পয়েন্টস থেকে অর্জিত পয়েন্টস পেপেল বা গিফট কার্ড এর মাধ্যমে ক্যাশ টাকায় তুলে নেওয়া যায়।
কোন-সাইট-থেকে-টাকা-ইনকাম-করা-যায়

টাকা ইনকাম করার নির্ভরযোগ্য অ্যাপ

প্রিয় পাঠক, টাকা ইনকাম করার নির্ভরযোগ্য অ্যাপ খুঁজছেন? যেগুলো থেকে দিনে ৫০০ টাকা আয় করা যাবে। তাহলে আর দেরি না করে আর্টিকেলের এই অংশটি পড়ুন। টাকা উপার্জন করার হাজারো অ্যাপ থাকলেও কিছু সংখ্যক বিশ্বাসযোগ্য অ্যাপ থেকে আপনারা রিয়েল টাকা আয় করতে পারবেন। এই সকল অ্যাপে ফ্রিতে রেজিস্ট্রেশন করে বিনা ডিপোজিটে অর্থ উপার্জন করা যায়।

টাকা ইনকাম করার অ্যাপ বলতে সাধারণত অনলাইনে মাইক্রোজব অ্যাপগুলোকে বুঝায় যেখানে ছোট ছোট সাধারণ ও সহজ কিছু কাজ করার বিনিময়ে ব্যবহারকারীদের অর্থ প্রদান করে থাকে। প্রায় সকল অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে সার্চ দিয়ে মোবাইল দিয়ে কাজ করা যায়। ঘরে বসে বিনা দক্ষতায় টাকা আয় করার সবচেয়ে উপযুক্ত ও সহজ মাধ্যম হলো অনলাইন অ্যাপ।

আপনাদের জন্য বর্তমান সময়ের নির্ভরযোগ্য বেশ কিছু অনলাইন আর্নিং অ্যাপ এর নাম নিচে দেয়া হলঃ
  • Ysense
  • Swagbucks
  • Inboxdollar
  • Mistplay
  • MPL- Mobile Premiere League
  • Freecash
  • Taskbucks
  • Work Up Job
  • Google Pay
  • Facebook
  • Instragram
  • Taka Income
  • Daily Taka
  • ClipClaps
  • JumpTask
  • Fiverr
  • Upwork
  • Udemy
  • Google Opinion Rewards
  • Justplay

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায়

মোবাইল দিয়ে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়! সহজ এই ব্যাপারটি বুঝতে পারলে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি হতে পারে টাকা উপার্জনের উপযুক্ত হাতিয়ার। আর এটি দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার অনলাইন ইনকামের যাত্রা। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপস দিয়ে ইনকাম করা যেমন সহজ, তেমনি কিছু জনপ্রিয় বৈধ উপায় দিয়ে ভালো টাকা আয় করা যায়।

এজন্য আপনাদের সেই সকল কাজে নিজেকে নিযুক্ত করতে হবে যেগুলো মোবাইল দিয়ে কোনরকম ঝামেলা ছাড়া করা সম্ভব। শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগ হলেই চলবে।

এরকম কাজ কি অনলাইনে রয়েছে? হ্যাঁ, অনলাইনে একটু ঘাঁটাঘাটি করলে দেখা যায় মোবাইল দিয়ে অসংখ্য কাজ করে ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।

চলুন তাহলে নিচের আলোচনা থেকে দেখে নেওয়া যাক এই সময়ে মোবাইল দিয়ে কোন কোন উপায়ে টাকা ইনকাম করে নেয়া যায়-

সার্ভে পূরণঃ বিভিন্ন সার্ভে প্রদানকারী অ্যাপে ছোট বড় মার্কেট রিসার্চ সার্ভে বা সমীক্ষায় অংশ নিয়ে ইনকাম করতে পারেন। আর এই কাজটি আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে শুরু করা যায়।

ডাটা এন্ট্রিঃ ছোট ছোট ডাটা এন্ট্রির কাজগুলো চাইলে এখন স্মার্ট ফোন দিয়ে করা সম্ভব।

ভিডিও এডিটিংঃ মোবাইল ফ্রেন্ডলি বেশ কিছু অ্যাপ, যেমন: KineMaster, InShot, CapCut ব্যবহার করে ভিডিও এডিটিং এর মত বর্তমান সময়ের চাহিদা সম্পন্ন কাজ করে আয় করে নেওয়া যায়।

ডিজাইন তৈরিঃ বর্তমান সময়ে Canva, Adobe Express এর মত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন সেক্টরের ডিজাইন তৈরি করে দিয়ে আয় করতে পারেন। যেমনঃ ইউটিউব থাম্বনেল, ফেসবুক পোস্ট ডিজাইন ইত্যাদি।

ভিডিও কনটেন্ট তৈরিঃ ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিও গুলো এখন মোবাইলে ধারণ করে যথাযথভাবে এডিট করার কাজগুলো করা সম্ভব। আর এই উপায়ে বর্তমান সময়ে অনেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করছেন।

ছবি বিক্রিঃ আপনার হাতের মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে তা স্টক ফটোগ্রাফি সাইট যেমনঃ শাটারস্টক, এডোবি স্টক সাইটে বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

গেম ও কুইজ খেলেঃ মোবাইল দিয়ে গেম ও কুইজ খেলে অল্প হলেও আয় করার সুযোগ রয়েছে। অযথা বসে না থেকে এই উপায়ে নিজের আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন।

অ্যাড ও ভিডিও এড দেখেঃ শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন বা ছোট ছোট ভিডিও অ্যাড এ ক্লিক করে টাকা ইনকাম করা যায় এরকম অসংখ্য অ্যাপ অনলাইনে রয়েছে। চাইলে এ সকল অ্যাপ থেকে মোবাইল দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টঃ মোবাইল দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হয়ে ব্র্যান্ড বা ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া পেজ পরিচালনা করা, পোস্ট করা, কমেন্টের উত্তর দেওয়া ইত্যাদি কাজ করে আয় করতে পারেন।

অ্যাপ ও ওয়েবসাইট টেস্টঃ নতুন নতুন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট টেস্ট বা ব্যবহার করে মতামত দেওয়ার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। আর এই কাজটি করার জন্য মোবাইল ফোন হলেই যথেষ্ট।

কোন সাইট বিশ্বস্ত কিনা কিভাবে বুঝবেন?

অনলাইনে কোন সাইটে কাজ করার আগে সেই সাইট বিশ্বস্ত কিনা কিভাবে বুঝবেন। কারণ অনলাইন আয়ের জন্য বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সাইট বেছে নেওয়া জরুরি। যেকোনো বিশ্বস্ত সাইটে যথাযথ শ্রম ও সময় দিলে যেমন সঠিক আয়ের পথ দেখাবে, তেমনি ফেক বা ভুয়া সাইটে কাজ করলে নিজের সময় নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে অনেক ক্ষেত্রে নিজের টাকা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

একটি সাইট বিশ্বস্ত কিনা তা যে সকল বিষয় বিবেচনা করে বুঝতে পারবেন তা হল-
  • অনলাইনে সাইটটি কতদিন ধরে আছে এবং ডাউনলোড সংখ্যা কেমন তা দেখে
  • ব্যবহারকারী দ্বারা সাইটের রিভিউ ও রেটিং দেখা
  • সাইটের পেমেন্ট বিষয়ক ভিডিও ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখে নেওয়া
  • কোন সাইট কাজের শুরুতে ডিপোজিট কথা বললে তা এড়িয়ে চলা, কারণ অরিজিনাল সাইট ডিপোজিট চাইবে না।

ভুয়া সাইট থেকে সতর্ক থাকার উপায়

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য সাইট ও অ্যাপ গুলো ব্যবহারকারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায়, ভুয়া সাইট/অ্যাপের অভাব নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আসল অ্যাপের মতো মনে হলেও অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলো প্রতারণা করে থাকে। এজন্য অনলাইনে ভুয়া সাইট থেকে সতর্ক থাকার জন্য কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যেমনঃ
  • যে কোন সাইট বা অ্যাপে একাউন্ট খোলার সময় একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে ওই সাইট থেকে দূরে থাকা ভালো।
  • শুরুতে বিনিয়োগের কথা বললে ঐ সকল সাইট এড়িয়ে চলা।
  • সাইটের রিভিউ ও পেমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া।
  • অল্প পরিশ্রমে বা অল্প সময়ে বেশি টাকা উপার্জন করার লোভ দেখানো সাইট থেকে সতর্ক থাকা।

FAQ: কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায়

প্রশ্নঃ ভালো অনলাইন আয় সাইট কোনগুলো?

উত্তরঃ অনলাইন আয়ের জন্য ভালো বিশ্বস্ত সাইট একাধিক রয়েছে। মাইক্রোজব সাইট এর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে দক্ষতার ভিত্তিতে আয় করা যায়। ছোট আয়ের জন্য মাইক্রো জব সাইটের মধ্যে ক্লিক ওয়ার্কার, সোহাগবাক্স, ফ্রি ক্যাশ অন্যতম। ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মধ্যে ফাইবার,আপ ওয়ার্ক থেকে ভালো পরিমান টাকা এর সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্নঃ অনলাইনে ইনকাম করা কি জায়েজ?

উত্তরঃ অনলাইনে ইনকাম করা জায়েজ কিনা তা কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ সঠিক ও হালাল প্লাটফর্ম কাজের জন্য বেছে নেওয়া, মিথ্যা, ধোঁকা জুয়া বা টাকা দিয়ে আর্নিং সাইট গুলো এড়িয়ে চলা, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ইনকাম হলে তা জায়েজ বলে গণ্য হবে।

প্রশ্নঃ অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করা যায?

উত্তরঃ অনলাইনে বিভিন্ন বৈধ উপায় রয়েছে যেগুলো থেকে টাকা আয় করা যায়। যেমনঃ কন্টেন্ট ও আর্টিকেল রাইটিং, ব্লগিং, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইনে টিউশন ও কোর্স বিক্রি, এফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ গুগল এডসেন্স থেকে কত টাকা আয় হয়?

উত্তরঃ গুগল এডসেন্স থেকে কত টাকা আয় হয় তা সঠিক ও নির্ভেজালভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ এই আয় নির্ভর করে কোন ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের মান, ভিজিটরের সংখ্যা, কোন দেশ থেকে আর্টিকেল পাবলিশ হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু ইত্যাদির উপর। তবে সাধারণত নতুন সাইট থেকে মাসে ১০০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। পুরনো, ভালো সাইট ও প্রচুর সংখ্যক ভিজিটর থাকলে মাসে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ বা এর বেশি টাকা আয় হতে পারে।

লেখকের মতামত

প্রিয় পাঠক, কোন সাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায় এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এই প্রবন্ধে ১৫টি বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসযোগ্য সাইট সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেছি। এই সাইটগুলো বর্তমান সময়ে অনলাইন থেকে আসল টাকা আয় করার জন্য ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সঠিক পরিকল্পনা ও আপনার জন্য সঠিক সাইট বেছে নিলে আপনিও অনলাইন আয়ের যাত্রা শুরু করতে পারবেন আশা করি।

আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত অনলাইন ইনকাম বিষয়ক আর্টিকেল পাবলিশ করে চলেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য অনলাইন থেকে আপনাদের আয়ের সঠিক গাইডলাইন হিসেবে কাজ করা। তবে যে কোন সাইটে কাজ শুরু করার আগে সেই সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। অনলাইন ইনকাম বিষয়ক সমসাময়িক এরকম আরো পোস্ট পেতে passiondrivefiona ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url