কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম সেরা ১০টি

আপনি কি কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম খুঁজছেন? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি ধৈর্য ধরে পড়ে বর্তমান সময়ের সেরা ১০টি ত্বক ফর্সাকারী সিরাম এর নাম জেনে নিন। সাথে জানবেন, ভিটামিন সি সিরাম কোনটা ভালো ও দাম কত এ বিষয়ে।

কম-বাজেটে-ফর্সা-হওয়ার-সিরাম

ত্বকের কোনরকম ক্ষতি না করে ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা করে তুলতে সিরাম ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। আপনি যদি আপনার ত্বক নিরাপদ উপায়ে ফর্সা করে তুলতে চান তাহলে নিয়মিত সিরাম ব্যবহারে কাঙ্খিত ফল পেতে পারেন। পোস্ট সূচিপত্রঃ

কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম নাম ও দাম

কম বাজেটের ফর্সা হওয়ার সিরাম এর নাম ও বিস্তারিত ধারণা পাবেন আজকের আর্টিকেলে। আপনারা অনেকেই ভালো মানের একটি সিরাম খুঁজেন আবার দাম হবে হাতের নাগালের মধ্যে। কারন নামিদামি ব্রান্ডের সিরাম ব্যবহার করার সাধ্য হয়তো অনেকেরই নেই, কারণ এই ধরনের সিরামের দাম অনেক বেশি হয়ে থাকে।

এজন্য আপনারা অনেকে এমন সিরাম সম্পর্কে জানতে চান যেগুলোর দাম হবে তুলনামূলকভাবে একটু কম কিন্তু কাজ করবে ভালো। আবার বাজারে হাজার হাজার ত্বক ফর্সাকারী সিরাম এর মধ্যে নিজের জন্য উপযুক্ত সিরাম বাছাই অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে আপনি যদি সিরাম ব্যবহারে একেবারেই নতুন হয়ে থাকেন। এ সব কিছুর সমাধান পাবেন এই আর্টিকেলে।

সিরাম হল ত্বকের রং ফর্সা করার জন্য বর্তমানে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত একটি স্কিন কেয়ার পণ্য। সিরাম ত্বকের জন্য উপযোগী বিভিন্ন উপাদানে তৈরি লাইট ওয়েট তরল একটি পদার্থ। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের সিরাম রয়েছে । অর্থাৎ মূলতঃ ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যাকে টার্গেট করে সিরাম তৈরি করা হয় যা ব্যবহারে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। যেমনঃ দাগ দূর করার সিরাম।

আরো পড়ুনঃ কম দামে ফর্সা হওয়ার ক্রিম সেরা ১০টি

এই বিভিন্ন ধরনের সিরাম এর মধ্যে ত্বক ফর্সা করার সিরাম অন্যতম। যে সকল উপাদান ত্বক উজ্জ্বলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে রয়েছে- ভিটামিন সি, নিয়াসিনামিড, আলফা আরবুটিন, কোজিক এসিড অন্যতম। বর্তমানে মানুষের মধ্যে এই ধরনের সিরামের চাহিদা প্রচুর।  কিন্তু আপনারা অনেকেই হয়তো আপনার নিজের বাজেট অনুযায়ী সিরাম খুজে পাচ্ছেন না।

আপনাদের জন্য বর্তমান সময়ের সেরা ১০টি কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম নিচে আলোচনা করা হলো ( The Top 10 Brightening Serum in Budget):

  • Madagskar Centella Skin 1004 Tone Brightening Capsule Ampule Serum (স্কিন ১০০৪ মাদাগাস্কার সেন্টেলা টোন ব্রাইটেনিং ক্যাপসুল এমপুল)
  • দামঃ ৮৫০ টাকা ( ছোট সাইজ)
  • Beauty of Josen Light Wight Vitamin C ( বিউটি অফ জসেন লাইট ওয়েট ভিটামিন সি সিরাম)
  • দাম- ৫৬০ টাকা ( ছোট সাইজ)
  • Minimalist Vitamin C + E + Ferulic 16% Face Serum (মিনিমালিস্ট ভিটামিন সি + ই ১৬% সিরাম)
  •  দাম- ১৩৫০ টাকা
  • Minimalist Vitamin C 10% Serum (মিনিমালিস্ট ভিটামিন সি ১০% সিরাম)
  • দাম- ১৪৫০ টাকা
  • 24K GOLD Prime Ampule (২৪ কে গোল্ড প্রাইম এমপুল)
  • HCHANA Rice Serum (রাইস সিরাম)
  • দাম- ১৫০-২০০ টাকা
  • Cos De BAHA Arbutin 5% + Niacinamide 5% Serum (কজ দি বাহা আরবুটিন + নিয়া সিনামাইড সিরাম)
  • দাম- ১০৯০ টাকা
  • Beauty Of Josen Glow Deep Serum Rice Arbutin (বিউটি অব জোছেন গ্লো ডিপ আরবুটিন সিরাম)
  • দাম- ১৩৭০ টাকা
  • The Ordinary Accorbyl Acid Serum (দ্য অর্ডিনারি এসকোরবিল গ্লুকোসাইড সিরাম)
  • দাম- ২৬৯০ টাকা
  • Minimalist Alpha Arbutin 2% Serum (মিনিমালিস্ট আলফা আরবুটিন ২% সিরাম)
  • দাম- ১২৯০ টাকা
  • medicube Glutathione Glow Serum (মেডিকিউব গ্লুটাথিয়ন গ্লো সিরাম)
  • The Derma CO 2% Kojic Acid Serum ( দা ডার্মা ২% কোজিক অ্যাসিড সিরাম)
  • দাম- ৯৯০-১০০০ টাকা

ভিটামিন সি সিরাম কোনটা ভালো ও দাম কত

ভিটামিন সি সিরাম মূলতঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও দাগ দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আপনাদের অনেকের পছন্দের তালিকায় ভিটামিন সি সিরাম রয়েছে। বিশেষ করে যাদের ত্বক নিস্তেজ ও প্রাণহীন, ত্বক ঝুলে গিয়েছে, সানট্যান সহ হালকা দাগ ছোপ রয়েছে এ ধরনের ত্বকে ভিটামিন সি সিরাম ভালো একটি অপশন। 

নিয়মিত ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহারে ত্বকের যেকোনো দাগ হালকা করার সাথে সাথে ভেতর থেকে ত্বক উজ্জ্বল করে তোলে ও টানটান ভাব এনে দেয়। যেহেতু এই সিরামে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, তাই ত্বকের জন্য উপকারী প্রোটিন কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এজন্য আপনারা অনেকেই ত্বকের জন্য ভিটামিন সি সিরাম কোনটা ভালো হবে তা জানতে চান, সাথে দাম সম্পর্কেও খোঁজ করেন। কারন বিভিন্ন ধরনের ও ফর্মের ভিটামিন সি সিরাম মার্কেটে রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভিটামিন সি সিরাম এর দাম বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

এর মধ্যে থেকে আপনার ত্বকের জন্য কোন সিরামটা উপযুক্ত হবে তা জানাটা জরুরী। কারণ সবার ত্বক আলাদা। তাই ভিটামিন সি সিরাম নিজে ভালো হলেও আপনার ত্বকের জন্য কোনটা ভালো হবে তা প্রথমে জেনে বুঝে তারপর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ১০টি ভিটামিন সি সিরাম এর তালিকা নিচে দেওয়া হল। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে নিচে যে কোন একটি সিরাম বেছে নিতে পারেন। তবে আপনার ত্বক নরমাল, কম্বিনেশন, শুষ্ক বা তৈলাক্ত থেকে সংবেদনশীল যে ধরনের হোক না কেন সিরাম ব্যবহার শুরু করার আগে প্যাচ টেস্ট গুরুত্বসহকারে করে নিতে বলা হয়।

COSRX Vitamin C 13 Super Vitamin E+ Hayuluronic Acid- এই সিরামটি মূলতঃ একটু ম্যাচিউর স্কিনের জন্য উপযুক্ত। অর্থাৎ আপনি যদি আগে ভিটামিন সি ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এই সিরাম আপনার স্কিন কেয়ারে যোগ করতে পারেন। অর্থাৎ এটি মোটেও বিগেনার ফ্রেন্ডলি না।দাম

The Ordinary Ascorbyl Glucoside Solution 12%- সেনসিটিভ ত্বকের জন্য বেস্ট একটি সিরাম। এই ধরনের ত্বকে নিশ্চিন্তে অর্ডিনারির এই সিরামটি মোটামুটি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়। দাম ২৬৯০ টাকা

The Remedist 10% C Serum- এটি একটি ডার্মাটোলজিস্ট দ্বারা প্রেসক্রাইব করা ভিটামিন সি সিরাম। দাম ২৭৯০ থেকে ২৮৫০ টাকা।

The Derma Co 10% Vitamin C Serum- আপনি যদি ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহারে একেবারে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে এটি আপনার জন্য ভালো অপশন হতে পারে। দাম ৮৫০ থেকে ১৬৫০ টাকা

Dr. Althea Vitamin C Serum- সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার উপযোগী এই ভিটামিন সি সিরামের দাম ১৮৫০ টাকা।

Beauty of josen Light Serum + Vitamin C- এই সিরামটি সেনসিটিভ সহ সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। যেহেতু এই সিরামটির ফর্ম লাইট ওয়েট তাই সব ধরনের ত্বকে মানিয়ে যায়। এমনকি আপনি সিরাম ব্যবহারের নতুন হলেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া সেন্টেলা থাকায় ত্বক শান্ত রাখে। দাম ১৩৫০ থেকে ১৭৫০ টাকা

Melano CC Vitamin C Serum- এই সিরাম নরমাল থেকে শুষ্ক ও অয়েলি ত্বক যাদের তারা ব্যবহার করতে পারেন। এই স্টিরামটিও বিগিনার ফ্রেন্ডলি। দাম ১৬৫০ থেকে ২২৫০ টাকা

Lilac Vitamin C 10% Facial Serum- নতুনদের জন্য আরেকটি বাজেট ফ্রেন্ডলি ভিটামিন সি সিরাম এর সেরা অপশন হতে পারে লাইলাক ভিটামিন সি সিরাম। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও হাইপার পিগমেন্টেশন কমাতে এই সিরাম বিশেষ কার্যকর। দাম ৬৫০ টাকা

Cerave Skin Renwing Vitamin C Serum- সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার উপযোগী এটিও একটি বেস্ট ভিটামিন সি সিরাম। দাম ২১৫০ থেকে ৩০০০ টাকা।

Garnier Bright Complete Vitamin C Serum- ত্বক উজ্জ্বল করার সাথে সাথে দাগ দূর করার আরেকটি বিশ্বস্ত ও ভালো ব্র্যান্ডের সিরাম গার্নিয়ার ভিটামিন সি সিরাম। দাম ১২৩০ টাকা।

বিশেষ নোটঃ এই সিরাম গুলোর দাম বিভিন্ন প্লাটফর্মে কিছুটা কম বেশি হতে পারে। এছাড়া বোতলের সাইজের উপরও দাম কম বা বেশি হয়ে থাকে।

ভিটামিন সি সিরাম এর জন্য কিছু বোনাস টিপসঃ

ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহারের নিরাপদ পার্সেন্টেজ সাধারণত ১০% থেকে ১৫% ধরা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে ২০ পার্সেন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হতে পারে। আপনি একদম নতুন হয়ে থাকলে ১০% থেকে শুরু করতে পারেন। তবে তার আগে অবশ্যই তিন থেকে চার মাস বেসিক স্কিন কেয়ার করতে হবে। এছাড়া ভিটামিন সি যেহেতু একটিভ উপাদান, তাই এর সাথে অন্যান্য একটিভ যেমন AHA, BHA, রেটিনল একই রুটিনে ব্যবহার করা যাবে না।

ভিটামিন সি সিরাম সকালের রুটিনে ব্যবহার করা বেশি ইফেক্টিভ হতে পারে। ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহারের পর অবশ্যই ভালো কোন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরী। ভিটামিন সি সিরাম আপনার সানস্ক্রিনকে আরো বেশি কার্যকর করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে ত্বকে নতুন করে সান ট্যান পড়ে না এবং পুরনো দাগ ধীরে ধীরে দূর করতে থাকে।

ভিটামিন সি সিরাম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। যে সকল সিরাম টিউবে জেল ফর্মে আসে সেগুলো আপনি ঘরের নরমাল তাপমাত্রার ঠান্ডা কোন শুষ্ক জায়গায় রাখতে পারেন, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো আসে না। তবে যে সকল ভিটামিন সি সিরাম বোতলে আসে সেগুলো ফ্রিজে ঠান্ডা ও পরিষ্কার জায়গায় সংরক্ষণ করা ভালো। এতে সিরাম অক্সিডাইজ হওয়ার ভয় থাকে না এবং সিরাম এর কার্যকারিতা বজায় থাকে।

অ্যান্টি এজিং সিরাম নাম ও ব্যবহার বিধি

বিভিন্ন ধরনের সিরাম এর মধ্যে এন্টি এজিং সিরাম অন্যতম। এন্টি এজিং সিরাম এর নাম ও ব্যবহার বিধি সম্পর্কে আপনি যদি জানতে চান তাহলে আর্টিকেলের এই অংশটি আপনার জন্য।

এন্টি এজিং সিরাম গুলো বয়সের কারণে হওয়া নানা ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি করা হয়। যেমনঃ বয়সের সাথে সাথে হওয়া ত্বকের বলিরেখা, কুচকানো ভাব, ফাইন লাইনস, লাল ও বাদামি তি্ল, ত্বক ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি স্লো করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ নাম থেকেই বুঝা যায় এই সিরামের মূল কাজ হল এই ধরনের সমস্যাকে টার্গেট করে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা।

দেখুন, বয়স একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা সব মানুষের মধ্যে চলমান। তবে এন্টি এজিং সিরাম গুলো বয়সের জন্য হওয়া এই ধরনের সমস্যা একটু ধীর গতির করে থাকে, ফলে সহজে এই সমস্যাগুলো খুব একটা চোখে পড়ে না। আবার অনেকের ত্বকে আর্লি এজিং দেখা যায়, এই সমস্যাতেও এই ধরনের সিরাম বেশ ভালো কাজ করে।

এন্টি এজিং সিরামের মধ্যে রেটিনল, রেটিনাল, পেপটাইড সমৃদ্ধ বেশি কার্যকর। কারণ এই উপাদান গুলো মূলত ভিটামিন এ এর একটি বিশেষ ফর্ম যা আমাদের ত্বকের ভেতরে লেয়ারে গিয়ে এই বিশেষ সমস্যার সমাধানে কাজ করে। এছাড়া ভিটামিন সি সিরাম অ্যান্টি এজিং সিরাম হিসেবেও বেশ ভালো, যেহেতু ভিটামিন সি হল শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। আমাদের ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা মোটামুটি সবাই জানি।

সাধারণত এন্টি এজিং এর সব সিরাম একজন মানুষের ব্যবহার করার দরকার হয় না। কারণ প্রত্যেক মানুষের ত্বক আলাদা আলাদা। এজন্য সিরাম ব্যবহারের জন্য নিজের ত্বকের ধরন প্রথমে খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। দেখা যায় একজনের ত্বকে যদি রেটিনল ব্যবহার করা যায় আরেকজনের ত্বকে ব্যবহার নাও করা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পেপটাইড সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। যেহেতু পেপটাইড রেটিনল এর মত অতটা স্ট্রং না। বিশেষ করে সেনসিটিভ ত্বক হলে অবশ্যই ভালোভাবে জেনে বুঝে তারপর এন্টি এজিং সিরাম ব্যবহার শুরু করা ভালো। এছাড়া বয়সের কারণে হওয়া মূল সমস্যা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী সিরাম ব্যবহার শুরু করতে হবে।

নিচে আপনাদের জন্য বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ও সেরা ১০টি এন্টি এজিং সিরাম এর নাম, দাম ও ব্যবহারবিধি, কোন সিরাম কোন ত্বকে উপযুক্ত তা আলোচনা করা হলোঃ

  • The Ordinary Retinol 0.5% in Squalane Serum
  • Retinal Shot  Tightening Booster Serum
  • Minimalist Retinol 0.3% Face Serum
  • Plam bakuchiol & Retinol Serum
  • Deconstruct 0.2% Retinol + 1% Peptide Anti-Aging Face Serum
  • Dot & Key Pomegranate Miracle Collagen Boost Retinol Youth Serum
  • The Ordinary Argireline Solution 10%
  • The Ordinay Multi-Peptide Eye Serum
  • The derma Snail Peptide 96 Hydrating SerumFix Derma ReticuramRetinol Serum For Aging Skin

সিরাম ব্যবহারের পরিমাণ ও নিয়ম 

যেকোনো সিরাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমাণ ও নিয়ম ভালোভাবে জেনে বুঝে তারপর ব্যবহার করতে হবে। সিরাম ব্যবহারের জন্য আপনি যদি সঠিক পরিমাণ ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে, আপনার জন্য তা সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল বয়ে আনবে।

আজকের আর্টিকেলে আমরা ফর্সা হওয়ার সিরাম ও এনটি এজিং সিরাম নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন জেনে নিন সিরাম ব্যবহারের পরিমাণ ও নিয়ম সম্পর্কেঃ
  • ফর্সা হওয়ার সিরাম এর একটা সুবিধা হল আপনি সকাল বা রাতে যে কোন স্কিন কেয়ার রুটিনে রাখতে পারেন।
  • আন্টি এজিং সিরাম সাধারণত রাতের স্কিন কেয়ার রুটিনে রাখতে হয়। আপনি চাইলে সপ্তাহে ৩ দিন ফর্সা হওয়ার সিরাম ও ৩ দিন এন্টি এজিং সিরাম (যদি দরকার হয়) এভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • সিরাম ব্যবহারের আগে অবশ্যই মুখ ভালোভাবে ভালো কোন ফেসওয়াশ বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। মেক আপ করলে ডাবল ক্লিনজিং অবশ্যই করতে হবে।
  • মুখ ক্লিন করার পর সিরাম ব্যবহারের আগে যে কোন টোনার চাইলে দিতে পারেন। না চাইলে সরাসরি সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।
  • আপনি যদি সিরাম ব্যবহারে একেবারেই নতুন হয়ে থাকেন তাহলে প্রথমে ১ মটর দানার সমান পরিমাণ দিয়ে শুরু করতে পারেন। এছাড়া সপ্তাহে ২ দিন দিয়ে ত্বকে অ্যাডজাস্ট করে নেওয়া ভালো। ত্বক অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে পরিমাণ ও ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ান।
  • ত্বক অভ্যস্ত হওয়ার পর ২ থেকে ৩ মটর দানার সাইজ সিরাম নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে ড্যাব ড্যাব করে ত্বকে মিশিয়ে দিতে হবে। এখন আপনি চাইলে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ব্যবহার করতে পারেন। দ্রুত রেজাল্টের আশায় কোনভাবেই বেশি পরিমাণে বা ক্রিমের মতো সিরাম ব্যবহার করা যাবে না। এতে ত্বক ইরিটেট হতে পারে।
  • ত্বকে সিরাম লাগানোর পর ৩ থেকে ৫ মিনিট সময় দিতে হবে তা ত্বকে ভালোভাবে শোষণ হওয়ার জন্য।
  • এরপর রাতে হলে ভালো কোন মশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
  • আর সকালে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন বা সিরাম লাগানোর পর সরাসরি সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিতে হবে। সানস্ক্রিন ছাড়া কোন স্কিন কেয়ার আপনার ত্বকের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে না। তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা মাস্ট। এছাড়া সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে অনেক সময় ত্বকে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সেনসিটিভ, জ্বালাপোড়া, লাল হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ হওয়া ইত্যাদি সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • সিরাম ব্যবহার ক্ষেত্রে ধৈর্য নিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। যেকোন সিরাম ব্যবহার করে ত্বকে ভিজিবল পরিবর্তন পাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।
  • যে কোন সিরাম সংরক্ষণের বিষয়ে নজর দিন। সরাসরি সূর্যের আলো ও তাপ আসে এরকম জায়গায় সিরাম সংরক্ষণ করবেন না। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও ঠান্ডা জায়গায় রাখার চেষ্টা করুন।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সিরাম বাছাই

যে কোন সিরাম ব্যবহার শুরু করার আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সিরাম বাছাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এজন্য প্রথমে আপনার ত্বকের ধরন ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। আপনি যদি আপনার ত্বকের ধরন ভালোভাবে বুঝতে পারেন তাহলে ঠিকঠাক সিরাম বেছে নেওয়া আপনার জন্য সহজ হবে।

আপনি যখন ত্বকের ধরন বুঝে সিরাম ব্যবহার করবেন তখন তা সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল দিবে। যেমনঃ আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত ও সেনসিটিভ হয় তাহলে নিয়াসিনেমাইড সিরাম আপনার ত্বকে ভালো কাজ করবে। তবে নিয়েসিনেমাইড উপাদানটির একটি ভাল দিক হলো এটি সব ধরনের ত্বকে মোটামুটি নিরাপদে ব্যবহার করা যায়।

আরো পড়ুনঃ ৭ দিনে ফর্সা হওয়ার বাজারে সেরা ১০টি ক্রিম

আবার আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে নিয়াসিনামাইড এর পরিবর্তে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সিরাম ভালো হবে। আবার খুব বেশি সংবেদনশীল ত্বকে ভিটামিন সি অনেক সময় ইরিটেট হতে পারে, তখন ভিটামিন সি এর স্টেবল ফর্ম এস্করবিল এসিড সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

অর্থাৎ আপনি কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম বা বেশি দামের সিরাম যেটাই ব্যবহার করেন না কেন ত্বকের ধরন অনুযায়ী সিরাম বেছে নেওয়া জরুরি। ত্বকের ধরনের অনুযায়ী সিরাম বাছাই নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সাইটের এই আর্টিকেলটি পড়ে আসতে পারেন।

ত্বক ফর্সা করার সিরাম সম্পর্কে ভুল ধারণা

ত্বক ফর্সা করার সিরাম সম্পর্কে অনেকেরই একটি সাধারণ ভুল ধারণা আছে যে, এই ধরনের সিরাম মেখে রাতারাতি ফর্সা হওয়া সম্ভব। আসলেই কি তাই? বিজ্ঞান কি বলে, না এটা আসলে সম্ভব নয়। ফর্সা হওয়ার সিরামের উপাদান গুলো আপনার ত্বক একেবারে সাদা ধবধবে ফর্সা করতে পারবে না। কারণ আপনার আসল যে ত্বকের রং তা কোনো উপাদান পরিবর্তন করে দিতে পারবে না। 

তবে এই উপাদান সমৃদ্ধ সিরাম গুলো আপনার ত্বক ধীরে ধীরে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তুলবে, আপনার ত্বক যদি নিস্তেজ থাকে তা প্রাণবন্ত ও হেলদি করতে সহায়তা করবে। এছাড়া ত্বকের কালচে ভাব, অল্প স্বল্প দাগ ও অমসৃণ ভাব কমাতে, মসৃণ ও টানটান ভাব ফিরিয়ে আনতে, ত্বকে যদি মেছতা ও পিগমেন্টেশন থাকে তা ধীরে ধীরে দূর করতে কাজ করবে।

নিয়মিত সিরাম ব্যবহারে আপনার ত্বকে যখন এই পরিবর্তনগুলো আসবে তখন এমনিতেই ত্বক অনেক ফর্সা ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল দেখাবে। আশা করি ফর্সাকারী সিরাম নিয়ে আপনাদের যে ভুল ধারণা রয়েছে তা ভাঙতে পেরেছি।
কম-বাজেটে-ফর্সা-হওয়ার-সিরাম

ত্বক ফর্সা করার ক্রিমের নাম

প্রিয় পাঠক, কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম এর নাম, দাম ও ব্যবহার বিধি উপরে আপনারা জেনেছেন। ফর্সা হওয়ার সিরাম ব্যবহার করার সাথে সাথে আপনারা যদি ফর্সা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার করেন তাহলে আপনারা দ্রুত ফলাফল পাবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। অর্থাৎ মুখে সিরাম ব্যবহার করার পর পরবর্তী ধাপে মশ্চারাইজার হিসেবে আপনারা এই ক্রিমগুলোর যে কোনটি আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বক ফর্সা করার ক্রিম নিয়ে আমাদের সাইটে ইতিমধ্যে একটি আর্টিকেল রয়েছে। তবে এখানে আমরা বর্তমান সময়ের আরো কিছু জনপ্রিয় ও পজিটিভ রিভিউ রয়েছে এরকম ক্রিমের নাম সম্পর্কে জানাবো।

চলুন তাহলে নিচের তালিকা থেকে দেখে নিন কোন কোন ক্রিম এর নাম এই তালিকায় রয়েছে-

  • Dr. Althea 345 Relief Cream
  • APLB Gltathion Niacinamide Cream
  • Meducube Nieacinamide + TXA Capsule Cream
  • COSRX The Ceramide Skin Barrier Moisturizer Cream
  • Rice Ceramide Cream
  • DABO Vita Radian-c BIOME Cream
  • DABO Glutathione Snow White Melanope Cream
  • BEAUTE Glutathione Brightening Tone Up Cream
  • PHYTOTREE Tripple Whitening Tone Up Cream
  • inniSFree Cherry Blossom Glow Jelly Cream
  • Jigott Vita Solution 12 Brightening Ampule Cream
  • Jigott Whitening Activated Cream

কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ সিরাম কি ত্বক ফর্সা করে?

উত্তরঃ সিরাম আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক রং সরাসরি পরিবর্তন করে আপনাকে সাদা ধবধবে করে তুলতে পারবেনা। তবে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও হেলদি করে তুলে। এছাড়া ত্বকে যদি কোন দাগ, কালচে ভাব, মেছতা, রোদে পোড়া ভাব থাকে তাহলে তা ধীরে ধীরে কমাতে সহায়তা করে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখায়।

প্রশ্নঃ কত বছর বয়স থেকে সিরাম ব্যবহার করা যায়?

উত্তরঃ সাধারণত ২০ থেকে ২১ বছর বয়স থেকে সিরাম ব্যবহারের কথা বলা হলেও, ত্বকে যদি বিশেষ কোনো সমস্যা না থাকে (যেহেতু এই বয়সে ত্বক এমনিতেই ভালো থাকে) তাহলে২৫ এর পর থেকে ত্বকের নির্দিষ্ট টার্গেট অনুযায়ী সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ২৭ বছর পর থেকে ত্বকের সমস্যা বুঝে সিরাম ব্যবহার করা মাস্ট। 

প্রশ্নঃ মুখের জন্য সবচেয়ে ভালো সিরাম কোনটি?

উত্তরঃ মুখের জন্য সবচেয়ে ভালো সিরাম কোনটি এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ একেকজনের ত্বক ও ত্বকের সমস্যা আলাদা আলাদা। তাই সিরামের প্রয়োজনীয়তা আলাদা হয়ে থাকে। যেমনঃ অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক, ওপেন পোর্স, ত্বকে যদি ব্রণ ও ব্রণের দাগ থাকে তাহলে নিয়েসিনেমাইড ও এজেলাইক এসিড সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আবার অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক এসিড সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে কাজ করে

লেখকের মতামত

প্রিয় পাঠক, কম বাজেটে ফর্সা হওয়ার সিরাম বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এখানে আমরা বর্তমান সময়ের সেরা ১০টি ফর্সা হওয়ার সিরাম সম্পর্কে জানিয়েছি। ফর্সা হওয়ার সিরাম বাজারে প্রচুর থাকলেও বাজেট ও গুণগত মানের দিক দিয়ে সেরা সিরাম সম্পর্কে আপনারা জানতে চান।

আর্টিকেলে উল্লেখিত সিরাম গুলো বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সিরাম, এই সিরাম গুলো ত্বক নিয়ে যারা কাজ করেন তারা ব্যবহারকারীদের ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই সিরাম গুলো ইতিমধ্যে ফর্সা হওয়ার জন্য নিরাপদ সিরাম হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আপনিও চাইলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল, ফর্সা ও দাগমুক্ত করার জন্য এই সিরাম গুলো আপনার স্কিন কেয়ার রুটিনে যোগ করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url