সবচেয়ে ভালো মানের ৫টি আইপিএস ও দাম ২০২৬
সবচেয়ে ভালো মানের আইপিএস বর্তমান বাজারের ৫টি ও মূল্য কত এ বিষয়ে আপনি যদি জানতে চান, আজকের প্রবন্ধ পড়লে জানতে পারবেন। সাথে জানবেন, আইপিএসের জন্য কোন ব্যাটারি ভালো হবে এ ।
বর্তমানে দিন দিন লোডশেডিং যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত দিন যাচ্ছে এবং গরম বাড়ছে তত লোডশেডিং এর পরিমাণও বাড়ছে। এ কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে বাসা, বাড়ি, অফিস, আদালতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিছিন্ন করতে আইপিএস এর চাহিদা বেড়েই চলেছে।পোস্ট সূচীপত্রঃ
সবচেয়ে ভালো মানের আইপিএস ও মূল্য নিয়ে আলোচনা
বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে ভালো মানের আইপিএস কোনগুলো ও আইপিএস গুলোর মূল্য কেমন এটা নিয়ে আপনাদের অনেকের জানার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। আমরা যখন আইপিএস কেনার সিদ্ধান্ত নেই, তখন প্রথমেই যে ভাবনাটা মাথায় আসে তা হলো বাজারের এত এত আইপিএস এর মধ্যে কোন কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের আইপিএস সবচেয়ে ভালো হবে এ বিষয়ে।
আরো পড়ুনঃ ১৫টি প্রয়োজনীয় মোবাইল কোড নাম্বার-সকল মোবাইল সিমের দরকারি কোড নাম্বার
এছাড়া আইপিএস কেনার কথা ভাবলে আরেকটি যে বিষয় মাথায় আসে তা হল এর দাম সম্পর্কে। কারণ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির জন্য দিন দিন আইপিএস এর দাম বেড়েই চলেছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আইপিএস কেনার কথা সবাই ভাবেন। আপনারা যাতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ি আইপিএস কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এ কারনে বর্তমান বাজারের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মূল্যের জনপ্রিয় ৫টি আইপিএস নিয়ে আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের জানাবো।
আইপিএস ৫টির নাম দেখে নিন-
- রহিম আফরোজ আইপিএস
- হ্যামকো আইপিএস
- লুমিনাস আইপিএস
- সিঙ্গার আইপিএস
- ওয়াল্টন আইপিএস
তাহলে চলুন দেরি না করে আর্টিকেলটি শুরু করা যাক।
রহিম আফরোজ আইপিএস এর বর্তমান মূল্য
বাজারের সবচেয়ে ভালো মানের আইপিএস এর মধ্যে রহিম আফরোজ আইপিএস ক্রেতাদের মন জয় করেছে। বর্তমানে দেশে আইপিএস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রহিম আফরোজ অন্যতম। রহিম আফরোজ এর আইপিএস এবং ব্যাটারি গুণগত মানের দিক দিয়ে অনেক ভালো বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে।
শুধু প্রতিষ্ঠানটি নয়, এ পর্যন্ত রহিম আফরোজ আইপিএস যারা ব্যবহার করেছেন বা করছেন তারাও এই কোম্পানিটি সম্পর্কে পজিটিভ ফিডব্যাক দিয়েছেন।
রহিম আফরোজ আইপিএস এর মূল্য কতঃ
রহিম আফরোজ এর বিভিন্ন মডেলের আইপিএস এর দাম সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করি এই পোস্ট পড়ে রহিম আফরোজ এর আইপিএস এর দাম সম্পর্কে পুরো ধারণা নিতে পারবেন, যা আইপিএস কেনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। বাজারে রহিম আফরোজের আইপিএস বিভিন্ন মডেল এবং দামের রয়েছে।
রহিম আফরোজ এর আইপিএস গুলোর মধ্যে মডেল Rahimafrooz 1275- watt IPS control unit এর দাম সবচেয়ে কম। এই আইপিএস এর দাম ২১০০০ টাকা। তবে দামে কম হলেও মানের দিক দিয়ে অনেক ভালো একটি আইপিএস। তাই আপনার বাজেট কম বা আপনার ছোট পরিবারের জন্য নিশ্চিন্তে এই আইপিএস কিনতে পারেন। আবার আপনার যদি বাজেট অনেক বেশি থাকে তাহলে ION 3.5 KVA মডেলটি চোখ বন্ধ করে কিনতে পারেন. বর্তমানে এর বাজার মূল্য ১,৪৩,৯০০ টাকা।
এছাড়া মিড রেঞ্জ এর মধ্যে পাবেন RZ 1650 Sine Wave IPS ও RZ 1125, RZ 950 এর মডেল এবং এই মডেলের আইপিএস এর মূল্য যথাক্রমে ৬৯,৯০০, ৫৮,১০০, ৫১,৫০০ টাকা। এছাড়া আরো কিছু মডেল রয়েছে যা আপনার চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানিতে খোঁজ নিলে পেয়ে যাবেন। রহিম আফরোজ আইপিএস এর দাম সম্পর্কে সর্বশেষ আপডেট জানতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।
আপনি যদি রহিম আফরোজের আইপিএস কেনার চিন্তা করে থাকেন, তাহলে এই কোম্পানির আইপিএস এর ব্যাটারি নিতে পারেন কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়াই। এখানে বিভিন্ন বাজেটের মধ্যে ভালো মানের ব্যাটারি পাবেন। রহিম আফরোজ এর ব্যাটারি বর্তমানে ১৬ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ব্যাটারির ক্যাপাসিটির উপর ভিত্তি করে আরো বিভিন্ন দামে পেয়ে যাবেন।
এছাড়া আইপিএসের জন্য রহিম আফরোজ এর টল টিউবুলার ব্যাটারি অনেক ভালো হবে। কারণ এই ব্যাটারিগুলো শুধুমাত্র আইপিএসে ব্যবহার করার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়।
উৎসঃ রহিম আফরোজ আইপিএস এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
নিচে রহিম আফরোজ আইপিএস কেন কিনবেন তা এক নজরে দেখে নিনঃ
- রহিম আফরোজ কোম্পানির আইপিএস বর্তমানে বিভিন্ন ওয়াট অনুসারে বাজারে রয়েছে। তাই আপনার বাসা, অফিস, আদালতের জন্য যেকোনো ওয়াটের আইপিএস সহজেই পেয়ে যাবেন। বর্তমানে এই কোম্পানির ২০০ ওয়াট থেকে শুরু করে ১২০০ ওয়াট আইপিএস এর চাহিদা বেশি।
- রহিম আফরোজ আইপিএস এ রয়েছে শর্ট-সার্কিট প্রটেকশন এবং ওভার ভোল্টেজ প্রটেকশন। এর ফলে কোন কারণে যখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় তা থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া আইপিএস এর ওভার ভোল্টেজ প্রটেকশন উচ্চ বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ থেকে আইপিএসকে সুরক্ষিত রাখে।
- এছাড়াও আইপিএস এর ওভার ভোল্টেজ প্রটেকশন ইনসাইড পাওয়ার ট্রানজিস্টরকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে।ফলে আইপিএস থাকে সব সময় সুরক্ষিত।
- আপনি রহিম আফরোজ আইপিএস যত ওয়াটের ব্যবহার করতে চান সেই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটারী ক্যাপাসিটির সাপোর্ট পরিপূর্ণভাবে রয়েছে। এছাড়া খুব বেশি ওয়াট এর আইপিএস ব্যবহারের জন্য আপনি ইচ্ছা করলে দুই তিনটা ব্যাটারি একসাথে ব্যবহার করতে পারেন একই আইপিএস এ। বর্তমানে রহিম আফরোজ এর ১০০ এম্পায়ারের ব্যাটারি থেকে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী ২০০ এম্পায়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- রহিম আফরোজ আইপিএস এ রয়েছে অটো রিসেট সিস্টেম। ফলে কোন কারনে অতিরিক্ত লোড হলে আইপিএস এর অটো রিসেট চালু হয়ে যায়। ফলে আইপিএস সহ ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এছাড়া রহিম আফরোজ আইপিএসে রয়েছে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে, এলসিডি ডিসপ্লে এবং এলইডি ডিসপ্লে সুবিধা।ফলে যে কোন সময় আইপিএসের বর্তমান লোড পরিস্থিতি সহজেই জানা সম্ভব হয়।
- বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলায় রহিম আফরোজের ডিলার নিয়োগ রয়েছে। তাই আপনি দেশের যেকোনো জায়গা থেকেই রহিম আফরোজের আইপিএস এবং ব্যাটারি কিনতে পারবেন। সাথে আইপিএস সংক্রান্ত যে কোন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
হ্যামকো আইপিএস এর বর্তমান মূল্য
হ্যামকো আইপিএস কেন কিনবেন তা নিচে এক নজরে দেখে নিনঃ
- হ্যামকো আইপিএস অত্যাধুনিক ডিএসবি প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে। ফলে এর গুণগত মান অনেক উন্নত হওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়তা করে।
- হ্যামকো আইপিএস এ রয়েছে অত্যাধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি যা আইপিএসকে সুরক্ষিত রাখে দীর্ঘদিন পর্যন্ত।
- হ্যামকো আইপিএস এ রয়েছে লো ভোল্টেজের চার্জিং সুবিধা। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হয়ে থাকে।
- হ্যামকো আইপিএসে রয়েছে পিওর সাইন ওয়েভ ইউএসবি সুবিধা।
- হ্যামকো আইপিএস যে কোন ব্র্যান্ডের যেকোনো ব্যাটারি ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে।
- এই আইপিএসে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং এলইডি ডিসপ্লে সুবিধা যা যেকোনো সময় আইপিএস এর পরিস্থিতি জানতে সহায়তা করে।
- দেশের প্রায় সব জেলা এবং থানায় হেমকো আইপিএস প্রতিষ্ঠানের ডিলার নিয়োগ রয়েছে। ফলে আপনারা যে কোন জায়গা থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের আইপিএস এবং ব্যাটারি কিনতে পারবেন।এছাড়া রয়েছে সারা দেশে ফ্রি হোম ডেলিভারি সহ দুই বছরের ওয়ারেন্টি।
লুমিনাস আইপিএস এর বর্তমান বাজার মূল্য
লুমিনাস আইপিএস কেন কিনবেন?
- বিশেষ করে লুমিনাস কোম্পানির আইপিএস এর নিরাপত্তা সিস্টেম, আইপিএস এর ক্যাপাসিটি, ভোল্টেজ সিস্টেম সহ আরও বিভিন্ন ধরনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ইতিমধ্যে গ্রাহকদের মন জয় করেছে।
- এছাড়া এতে রয়েছে ওভারলোড প্রটেকশন, ওভার চার্জিং প্রটেকশন, শর্ট সার্কিট প্রটেকশন,। এইসব বৈশিষ্ট্যের কারণে আইপিএস ব্যবহার এবং চলাকালীন যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা হতে রক্ষা করতে এবং দীর্ঘসময় ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- লুমিনাস আইপিএস এর আরেকটি বড় সুবিধা হলো এই কোম্পানির আইপিএস এর সাথে অন্য যে কোন ব্র্যান্ডের আইপিএস ব্যাটারি প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা যায়।
- লুমিনাস আইপিএস এর ইনপুট ভোল্টেজের পাওয়ার যেহেতু আইপিএস এর বিভিন্ন ক্যাপাসিটির উপর নির্ভর করে, তাই এই কোম্পানির আইপিএস কেনার সময় অবশ্যই আপনার বাসা বা অফিসের ভোল্টেজ সরবরাহের পরিমাণ নিশ্চিত থাকতে হবে এবং সে অনুসারে আইপিএস স্থাপন করতে হবে।
- বিভিন্ন ওয়াট এবং ক্যাপাসিটির লুমিনাস আইপিএস বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তাই আপনার প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে আপনি যে কোন ক্যাপাসিটির আইপিএস নির্বাচন করতে পারেন।
- এছাড়া এই কোম্পানির আইপিএস গুলোতে লোড এবং চার্জিং স্ট্যাটাস সব সময় দেখার জন্য এলইডি ডিসপ্লে সিস্টেম রয়েছে। যে কারণে আপনি এই আইপিএস ব্যবহারের সময় বর্তমান আইপিএস এর স্ট্যাটাস সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
- লুমিনাস আইপিএস এর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এনার্জি সেভিংস সিস্টেম। এই সিস্টেম থাকার ফলে বিদ্যু বিল সাশ্রয় হয়ে থাকে।
- এই আইপিএসে অটো চার্জিং সিস্টেম থাকায় ব্যাটারি ফুল চার্জ হওয়ার পর অটো অফ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এর ফলে যদি ব্যাটারি চার্জ লো হয়ে যায় তাহলে অটো পাওয়ার অফ হয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যাটারি ফুল ডিসচার্জ হোওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
- এই আইপিএসের আরেকটি সুবিধা হল ক্যাপাসিটর নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
- লুমিনাস আই পি এস ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে কখনো ফুলে যাওয়া সম্ভব না থাকবে না।
- এই আইপিএসের ট্রান্সমিটার ১০০% পিওর কপার তার দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে।
- লুমিনাস আইপিএস এর আরেকটি বড় সুবিধা হল কখনো ভোল্টেজ লো হয়ে গেলেও আইপিএস সক্রিয়ভাবে চলবে।
- লুমিনাস আই পি এস এ যদি ২০০ এম্পিয়ার টিউবুলার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় তাহলে একটানা ৪ ঘন্টা ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
- লুমিনাস আইপিএস টিউবুলার ব্যাটারি সাধারনত আধুনিক প্রযুক্তির মেন্টেনের সিস্টেমের মাধ্যমে তৈরি, ফলে এই টিউবুলার ব্যাটারি পাঁচ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে।
- লুমিনাস আই পি এস এবং আইপিএস ব্যাটারি বাসা বা অফিসে ব্যবহারে বৈদ্যুতিক যেকোনো জিনিস যেমনঃ ফ্যান, লাইট, টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ইত্যাদি ১০০% নিরাপদে থাকবে।
সিঙ্গার আইপিএস এর বর্তমান বাজার মূল্য
ওয়ালটন আইপিএস এর বর্তমান বাজার মূল্য
- Solar Hybrid IPS ARC 5.5K PR মডেলের মূল্য ৫,৩৭,৫০০ টাকা
- Solar Hybrid IPS 5500VA 48P মডেলের মূল্য ৪,৬৫০০০ টাকা
- Solar Hybrid IPS ARC 3.2K PR মডেলের মূল্য ৩,৫৫,৫০০ টাকা
- Solar Hybrid IPS ARC 1.2K BR মডেলের মূল্য ৯৯,৫৫০ টাকা
- Solar Hybrid IPS 2050VA-12B মডেলের মূল্য ৮৫,৫৫০ টাকা
- WD 238V03 IPS মডেলের মূল্য ১৫১৯০ টাকা
আইপিএস বলতে কি বুঝায় জেনে নিন
আইপিএস বা IPS ( Instant power supply) বলতে বুঝায় বিদ্যুৎ চলে গেলে যে যন্ত্রের সাহায্যে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ আইপিএস বলতে আমরা এক ধরনের যন্ত্রকে বুঝে থাকি। এই আইপিএস এর মধ্যে একটি ব্যাটারি সংযুক্ত থাকে। বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় আইপিএস এর মাধ্যমে এই ব্যাটারি রিচার্জ হয়ে থাকে।
আইপিএস কত ধরনের হতে পারে
প্রিয় পাঠক, সবচেয়ে ভালো মানের আইপিএস সম্পর্কে উপরে আমরা জেনেছি। আপনাদের অনেকের হয়তো মনে জানার আগ্রহ রয়েছে আইপিএস কত ধরনের হতে পারে এ বিষয়ে। বর্তমানে সাধারণত চাহিদার উপর ভিত্তি করে ২ ধরনের আইপিএস বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। এই দুই ধরনের আইপিএস থেকে নিজের চাহিদা এবং সামর্থের উপর নির্ভর করে যে কোন একটি বাছাই করতে পারেন।
ইলেকট্রিক আইপিএসঃ এই ধরনের আইপিএস সাধারণত বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় নিজে রিচার্জ হয়ে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে থাকে এবং লোডশেডিং এর সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে ইলেকট্রিক আইপিএস এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
সোলার আইপিএসঃ সোলার আইপিএস ব্যবহার করতে দেখা যায় বিভিন্ন দেশে। সোলার আইপিএস সাধারণত সূর্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে নিজের মধ্যে সংরক্ষণ করে এবং বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। তবে আমাদের দেশে সোলার আইপিএস এর চাহিদা খুব একটা নেই। কারণ এই আইপিএস এর দাম অনেক বেশি এবং লাগানো অনেক ঝামেলা যুক্ত।
আইপিএস এ কি কি উপাদান থাকে
সাধারণত দুটি উপাদান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আইপিএস সিস্টেম হয়ে থাকে। যেকোনো আইপিএসে ধারণ ক্ষমতা যেমনই হোক এই দুটি উপাদান আইপিএস এ থাকতে হবে। শুধুমাত্র ধারণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে এই দুটি উপাদান কম বেশি হয়ে থাকে। এ দুটি উপাদান হলোঃ
ইনভার্টারঃ এই ডিভাইস বা যন্ত্রাংশটি সব ধরনের আইপিএস এই থাকে। এই ডিভাইসের মূল কাজ হলো ডিসি পাওয়ার কে এসি পাওয়ারে রূপান্তরিত করা। সাধারণত ইনভার্টার এ পিওর সাইন ওয়েব থাকলে সেই ইনভার্টারের ডিসি পাওয়ার কে এসি পাওয়ারে সহজেই রূপান্তর করতে পারে। এবং এই পিওর সাইন ওয়েব ইনভার্টার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়ে থাকে।
তাই আইপিএস কেনার সময় অবশ্যই ইনভার্টার এর বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে বিবেচনা করতে হবে। এক এক কোম্পানির ইনভার্টার এর প্রযুক্তি একেক রকম হওয়ায় ইনভার্টারের বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য হতে পারে।
ব্যাটারিঃ মূলতঃ বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় ব্যাটারীতে বিদ্যুৎ সংরক্ষিত হয়ে থাকে। লোডশেডিং এর সময় এই রিজার্ভ বিদ্যুৎ থেকেই আইপিএস এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তাই ব্যাটারিকে আইপিএস এর প্রধান উপাদান বলা হয়ে থাকে। আই পি এস সহ লাইট, ফ্যান দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ভালো রাখতে অবশ্যই উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ব্যাটারি ব্যবহার করা ভালো।
আইপিএস কেনার সময় যে সকল বিষয় বিবেচনা করবেন
সবচেয়ে ভালো মানের আইপিএস কোনগুলো এ বিষয়ে আলোচনার পর, আইপিএস কেনার সময় যে সকল বিষয় বিবেচনা করে আইপিএস কেনা উচিত সে সম্পর্কে আপনাদের জানাবো। যে কোন কোম্পানির আইপিএস কেনার আগে অবশ্যই আরো কিছু বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। কেননা এই সকল বিষয় বিবেচনা করে আপনার বাসা বা অফিসে আইপিএস লাগালে অনেক ঝামেলা মুক্ত থাকতে পারবেন।
আইপিএস কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবেঃ
আইপিএসের ধারন ক্ষমতা বিবেচনাঃ আইপিএস কেনার সময় সবচেয়ে যে বিষয়টি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে এবং গুরুত্ব দিতে হবে তা হল আইপিএস এর ওয়াট সম্পর্কে। কারণ এই ওয়াটের উপর আইপিএস এর শক্তি নির্ভর করে থাকে। আইপিএস এর ওয়াট যত বেশি হবে আইপিএস তত শক্তিশালী হবে এবং ইলেকট্রনিক্স জিনিস যেমনঃ লাইট, ফ্যান ইত্যাদি তত ভালো ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
আরো পড়ুনঃ মোবাইলে ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার সেরা ১০টি
এক্ষেত্রে সাধারণভাবে আপনি একটি হিসাব করে নিতে পারেন। আপনি প্রতিদিন আই পি এস এর মাধ্যমে কতগুলো যন্ত্র চালাবেন, সেসব প্রতিটি যন্ত্রের ওয়াট যোগ করবেন। এরপর দিনে কত ঘন্টা এই যন্ত্রগুলো চালাতে পারেন এই সংখ্যার সাথে ওয়াটের সংখ্যা গুণ করবেন। তাহলে আপনার কত ক্যাপাসিটির আইপিএস প্রয়োজন হবে তা সহজেই বের করতে পারবেন।
ব্যাটারি ধারণ ক্ষমতা বিবেচনাঃ একটি আইপিএস এর সাথে যেহেতু ব্যাটারি সংযোগ থাকে এবং লোডশেডিং এর সময় এই ব্যাটারি থেকে আইপিএস এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে তাই ব্যাটারির ধারণ ক্ষমতা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। তাই ব্যাটারি চার্জ ধারন ক্ষমতা কত তা বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। সাথে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করতে হবে।
এছাড়া ব্যাটারি ভালো ব্র্যান্ডের কিনা এবং সাথে ওয়ারেন্টি আছে কিনা তাও দেখে নিতে হবে।
ভোল্টেজ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণাঃ বাসা এবং অফিস আদালতে সাধারণত একই ভোল্টেজ এর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় না। আপনার বাসা অথবা অফিসের জন্য আইপিএস কেনার সময় অবশ্যই বিদ্যুৎ সংযোগের ভোল্টেজ কতটুকু তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। যেহেতু সব আইপিএসের ভোল্টেজ ইনপুট এবং আউটপুট ক্যাপাসিটি এক এক রকম হয় না, তাই আপনার জন্য কোন ভোল্টেজ এর কোন আইপিএস নিলে ভালো হবে তা বিবেচনা করতে হবে।
সাধারণত আইপিএস এর স্ট্যান্ডার্ড ভোল্টেজ এর মাত্রা ১০০ থেকে ৩ ০০ পর্যন্ত। কিন্তু AVR অর্থাৎ Automatic Voltage Regulation আইপিএস এর মধ্যে থাকায় এটি ইনপুট ভোল্টেজকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে, এর ফলে কোন কারনে বিদ্যুৎ খুব বেশি উঠানামা করলেও ডিভাইসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
SURGE প্রটেকশন বিবেচনাঃ আইপিএস কেনার সময় আইপিএস এ SURGE প্রটেকশন আছে কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। এই SURGE প্রটেকশন আই পি এস এ থাকলে ভোল্টেজ কম বেশি করার কারণে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।
এলার্ম এবং সংকেতযুক্ত আইপিএস কেনাঃ বিভিন্ন এলার্ম এবং সংকেত যুক্ত থাকা আইপিএস কেনা আপনার জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত হবে। যেমনঃ আইপিএস এ যদি ব্যাটারি লো, ওভারলোড ইত্যাদি সংকেত যুক্ত থাকে তাহলে আপনি সহজেই আপনার আইপিএস এর ওই অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। এবং সেই হিসেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
আইপিএস এর ওয়ারেন্টি এবং কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধাঃ আইপিএস কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি আছে কিনা তা ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। বর্তমানে সাধারণত যেকোনো আইপিএস এক থেকে দুই বছর বা এর থেকে বেশি ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। তাই আইপিএস কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড বুঝে নিবেন। কেননা ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার আগে আইপিএসের যেকোন সমস্যা সমাধানে আপনি সহযোগিতা পেতে পারেন।
এছাড়া যে ব্র্যান্ডের আইপিএস কিনবেন তার প্রয়োজনীয় কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধার রয়েছে কিনা তা খেয়াল করতে হবে। আই পি এস এর যে কোন সমস্যার সমাধানে আপনি সহজেই কাস্টমার সাপোর্ট থেকে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
আইপিএস ব্যবহারের সময় যত সাবধানতা
বাজারের সবচেয়ে ভালো মানের ৫টি আইপিএস যেমনঃ রহিম আফরোজ, হামকো, লুমিনাস, সিঙ্গার, ওয়ালটন আইপিএস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং বর্তমান বাজার মূল্য জানার পর আপনার সুবিধা অনুযায়ী যে কোন দামের আইপিএস এবং ব্যাটারি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে আপনি যে কোনো কোম্পানির মডেল ও মূল্যের আইপিএস কিনে ব্যবহার করেন না কেন, বাসা, অফিস বা যে কোনো জায়গায় আইপিএস ব্যবহার করলে অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এই সাবধানতা গুলো আইপিএস সহ ব্যাটারিকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সহায়তা করবে। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোন দুর্ঘটনা হতে রক্ষা করবে। আইপিএস ব্যবহারের সময় যে সকল সাবধানতা মেনে চলতে হবে তা হলোঃ
- আপনার বাসা বাড়ি বা অফিস আদালতে আইপিএস স্থাপন করার সময় অবশ্যই ভালো কোন ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনিশিয়ান দ্বারা বৈদ্যুতিক তার সহ অন্যান্য জিনিস পরীক্ষা করে নিতে হবে।
- বাসা বা অফিস যে জায়গার জন্য আপনি আইপিএস ব্যবহার করবেন সেই জায়গার বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ জেনে সেই অনুপাতে আইপিএস নির্বাচন করতে হবে।
- আই পি এস এ পরিমান মত এসিড রয়েছে কিনা তা চেক করতে হবে। এসিডের সাথে পানির পরিমাণ ঠিক মতো রাখার জন্য সব সময় বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।
- আইপিএস রাখার স্থান অবশ্যই খোলা জায়গা, শুষ্ক এবং যেখানে মানুষ চলাচল কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে সেখানে রাখতে হবে।
- আইপিএস সংযোগ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে আইপিএস এর ইনভার্টার এর সাথে ব্যাটারি সংযোগ ঠিকভাবে হয়েছে কিনা এবং তা মাঝে মাঝে চেক করতে হবে।
- আইপিএস এবং ব্যাটারি যে সংযোগ তার সেখানে চেক করে দেখতে হবে কার্বন জমেছে কিনা। প্রয়োজন অনুসারে পরিষ্কার করতে হবে।
- আপনি আইপিএস এর মাধ্যমে যে সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা ডিভাইস ব্যবহার করবেন সেই হিসেবে আপনাকে আইপিএস নির্বাচন করতে হবে। এবং আইপিএস ব্যবহারের সময় প্রয়োজন ছাড়া লাইট ফ্যান ইত্যাদি চালিয়ে রাখবেন না।
- বজ্রপাতের সময় আইপিএস বন্ধ রাখতে হবে।
- মাঝে মাঝে আইপিএস সার্বিক সবদিক চেক করতে হবে।
আইপিএসের জন্য কোন ব্যাটারি ভালো
আইপিএস নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন এবং উত্তর
প্রশ্ন: ১০০০ ভিএ আইপিএস এর কত দাম?
উত্তর: বাংলাদেশের বাদ ১০০০ ভিএ আইপিএস এর দাম একেক ব্র্যান্ডের একেক রকম থাকলেও দামের খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না। বলা যায় কম দামের মধ্যে ভালো মানের আইপিএস। এই আইপিএস এর দাম সাধারণত ৪২০০ টাকা থেকে শুরু হয়।
প্রশ্নঃ আইপিএস দিয়ে কি কম্পিউটার চালানো যায়?
উত্তরঃ আইপিএস দিয়ে সাধারণত বাসা বাড়ি বা অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইট ফ্যান ইত্যাদি চালানোর জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে উচ্চ ওয়াট সম্পন্ন আইপিএস দিয়ে বর্তমানে কম্পিউটার সহ এসি, ফ্রিজ টিভি ইত্যাদি চালানো যায়।
প্রশ্নঃ আই পি এস এবং ইউপিএস এর মধ্যে কি পার্থক্য?
উত্তরঃ আই পি এস ফুল মিনিং Instant power supply. আইপিএস এমন একটি ডিভাইস বা যন্ত্রাংশ যা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে ব্যাটারি থেকে সঞ্চিত শক্তি নিয়ে লাইট ফ্যান সহ অন্যান্য ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে.
অন্যদিকে, ইউপিএস এর ফুল মিনিং হলো Uninterruptible Power Supply. এই ব্যবস্থায় লাইট, ফ্যান সহ অন্যান্য ডিভাইসে বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় ইউপিএস এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে এবং লোডশেডিং এর সময় এটি তৎক্ষণাৎ মেইন সাপ্লায়ার হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্নঃ কোন ব্র্যান্ডের আইপিএস সবচেয়ে ভালো?
উত্তরঃ বর্তমানে আমাদের দেশে রহিম আফরোজ, হ্যামকো, লুমিনাস, সিঙ্গার, ওয়ালটন সহ বেশ কিছু আইপিএস তৈরি কারী প্রতিষ্ঠান গুণগত মান বজায় রেখে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ভালো মানের আইপিএস তৈরি করছে।
প্রশ্নঃ কোন ব্র্যান্ডের আইপিএস ব্যাটারি ভালো?
উত্তরঃ আইপিএস এর মত আইপিএস ব্যাটারি তৈরি করার ক্ষেত্রে রহিম আফরোজ, সিঙ্গার, লুমিনাস, হ্যামকো, ওয়ালটন সহ বেশ কিছু কোম্পানির আইপিএস ব্যাটারি খুবই উন্নত এবং ভালো মানের। এ সকল কোম্পানির ব্যাটারি তাদের নিজস্ব আইপিএস ছাড়াও অন্য কোম্পানির আইপিএস এর সাথে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
প্রশ্নঃ পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাটারি কি?
উত্তরঃ বর্তমানে বাজারে প্রচলিত যে সকল ব্যাটারিতে তরল পদার্থ রয়েছে সে সকল ব্যাটারিতে তরল পদার্থের জায়গায় কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হবে। এ সকল ব্যাটারিকে সাধারণত সলিড স্টেট ব্যাটারি বলা হয়ে থাকে। এই ব্যাটারি হবে আরো উন্নতমানের এবং রক্ষণাবেক্ষণ মুক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই



passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;
comment url