মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ও বেতন কত 2026
আপনি যদি কলিং ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মালয়েশিয়াগামী প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬ এবং কোন কাজের বেতন কত এ বিষয়ে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের প্রবন্ধে এ বিষয়ে আপনারা আপডেট তথ্য জানতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বিদেশ যাওয়ার জন্য যে কয়টি দেশ আমাদের দেশের প্রবাসী ভাইদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়া তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু কর্মী ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ও কোন কাজে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬ এ বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পোস্ট সূচিপত্রঃ
মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬
মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট তথ্য। অর্থাৎ কোন কাজে কর্মী ভিসায় মালয়েশিয়া গেলে আপনার সুবিধা হবে। সারা বিশ্বের শ্রম বাজারের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া কাজের চাহিদা বিদেশগামী কর্মীদের কাছে অত্যন্ত বেশি। মূলতঃ কলিং ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বৈধভাবে কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ থাকায়,
কোনরকম ঝামেলাহীন ভাবে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে কাজে যোগদান করে নিশ্চিত টাকা উপার্জন করা যায়,যা প্রতিটি প্রবাসী ভাইয়ের স্বপ্ন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ( প্রায় ২ বছর ৬ মাস পর) সম্প্রতি মালয়েশিয়া কলিং ভিসার কার্যক্রম নতুন করে শুরু হয়েছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ভিসা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে।
আরো পড়ুনঃ এস্তোনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া 2026
আপনারা ইতিমধ্যে হয়তো এই বিষয়টি অবগত হয়েছেন। কিন্তু আপনি যদি এখনো না জেনে থাকেন মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোতে কোন কাজের চাহিদা বেশি রয়েছে, অর্থাৎ কোন কাজে মালেশিয়ার নিয়োগকর্তাগন বেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাহলে হয়তো আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজে যোগদান করার সুযোগ হারাবেন।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলো শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতার উপর বেশি জোর দিচ্ছে, তাই আপনি কাজের চাহিদা ও দক্ষতা বিবেচনা এনে নিজের স্কিল ডেভলপ করা শুরু করতে পারেন। তবে সাধারণ বা পেশাদার উভয় ধরনের কর্মীদের জন্য কয়েকটি খাতে কাজের চাহিদা অত্যন্ত বেশি রয়েছে।
চলুন তাহলে দেরি না করে খাত অনুযায়ী মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬ এই বিষয়ে নিচের আলোচনা থেকে জেনে নেই।
প্রথমেই জেনে নিন সাধারণ শ্রমিকদের জন্য কোন কোন কাজের চাহিদা বেশি এ বিষয়ে-
ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্যাক্টরিঃ আসবাবপত্র, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির ফ্যাক্টরিগুলো এবং চাইনিজ কিছু ফ্যাক্টরিতে যে সকল কাজের চাহিদা রয়েছে তা হলো-
- ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার
- প্রোডাকশন ওয়ার্কার
- যন্ত্রপাতি সেট করার কাজ
- মেশিন অপারেটর
- ফ্যাক্টরি অপারেটর
- প্যাকেজিং
উপরে উল্লেখিত প্রতিটি কাজের চাহিদা যেমন বেশি বেতনও অনেক বেশি হয়ে থাকে। তবে এ সকল কাজের জন্য আপনার দক্ষতার প্রয়োজন হবে। প্যাকেজিং কাজ আপনি কোন রকম দক্ষতা ছাড়াই করতে পারবেন।
কন্সট্রাকশন বা নির্মান খাতঃ কনস্ট্রাকশন কাজের মধ্যে দক্ষতা ছাড়া সাধারন শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। এই সেক্টরে দক্ষতা সম্পন্ন কাজের মধ্যে রয়েছে-
- কার্পেন্টার
- ইলেকট্রিশিয়ান
- প্লাম্পার
- সার্ভিস সেক্টর
- ওয়েল্ডিং
- টেকনিশিয়ান
- হোটেল ওয়ার্কার
- কিচেন হেল্পার
- রান্নার সেফ
- ক্লিনার
- সার্ভিস ক্রু
- হাউসকিপিং
প্লান্টেশন বা বাগান পরিচর্যাঃ এই সেক্টরে আওতায় মালয়েশিয়ার পাম বাগানের কাজ রয়েছে। এই কাজের চাহিদা অনেক বেশি। এই কাজের মধ্যে-
- পাম ওয়ার্কার
- হারভেস্টিং
- বাগান পরিচর্যা
- পামওয়েল তৈরির কাজ
মাইনিং এর কাজ বা খননঃ মালয়েশিয়ায় মাইনিং বা খনন কাজের কর্মীদের কাজের চাহিদা অত্যন্ত বেশি।
কৃষি কাজঃ ফার্ম ওয়ার্কার বা ভেজিটেবল ওয়ার্কার লাইভ স্টোর ওয়ার্কার এর কাজের চাহিদা বেশি রয়েছে।
শিক্ষিত ও উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় কাজের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তালিকার কাজের মধ্যে রয়েছে-
স্বাস্থ্যসেবা খাতঃ স্বাস্থ্যসেবা খাতে ডাক্তার, দক্ষ নার্স, বায়োটেকনোলজি বিষয়ক প্রফেশনালদের কাজের চাহিদা অত্যন্ত বেশি।
তথ্যপ্রযুক্তি এবং আইটি খাতঃ এই সেক্টরে এ আই এনালিটিক্স, সাইবার সিকিউরিটির কাজ, পেশাদার ডাটা সাইন্স ও দক্ষ ক্লাউড কম্পিউটিং কাজের চাহিদা অনেক বেশি।
সেমিকন্ডাক্টর মেনুফ্যাকচারিং খাতঃ এই খাতে দক্ষ ম্যানুফ্যাকচারার, প্রসেস ইঞ্জিনিয়ার এবং পেশাদার আইসি ডিজাইনারের কাজের চাহিদা বেশি।
এক কথায় বলতে গেলে ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় খাত অনুযায়ী সাধারণ শ্রমিক এর (শারীরিক শ্রমের কাজ) চাহিদা যেমন রয়েছে তেমনি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজের চাহিদাও অত্যন্ত বেশি। এক নজরে মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬ নিচের তালিকাটি দেখে নিন-
সাধারণ কাজ-
গার্মেন্টস, খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি কারখানার কর্মী
ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজের সাধারণ কর্মী, হেল্পার, রাজমিস্ত্রি
হোটেল, অফিস সুপার শপের ক্লিনার, হাউসকিপিং
পাম বাগান ও রাবার বাগানের কাজের জন্য সাধারণ কর্মী
পেশাদার কাজঃ
সেমীকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক্যাল ইলেকট্রিক্যাল ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স ও মেডিকেল বিশেষজ্ঞ
সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ডাটা এনালিটিক্স, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
ফিনান্স বিশেষজ্ঞ, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, মার্কেটিং ম্যানেজার
ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্পার, ড্রাইভার ও হোটেল শেফ
মালয়েশিয়াতে কাজের বেতন কত ২০২৬
মালয়েশিয়াতে কাজের বেতন কত ২০২৬ নতুন আপডেট। মালয়েশিয়ায় কর্মী ভিসায় যাওয়ার আগে কোন কাজের কত বেতন এই পর্যায়ে জেনে নিন। সাধারণত মালয়েশিয়াতে কোন কর্মীর কাজের বেতন তার কাজের ক্ষেত্র, ধরন, পেশা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তবে কলিং ভিসা খোলার পর কর্মী ভিসায় সর্বনিম্ন বেতন মালয়েশিয়ান ১৭০০ রিঙ্গিত থেকে শুরু হবে, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫২ হাজার টাকার মত।
আরো পড়ুনঃ দুবাই কাজের ভিসা কবে খুলবে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট
তাই আপনি কোন কাজে মালেশিয়া গমন করছেন অর্থাৎ নিয়োগকর্তা আপনাকে কোন কাজে নিয়োগ দিয়ে কাজে নিচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে মালয়েশিয়ার কাজের বেতনের কম বেশি হবে। যেমনঃ দক্ষ এবং পেশাদার কাজের বেতন সাধারণত ফ্যাক্টরি বা ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি জমিতে বা বাগানে যারা কাজ করেন তাদের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে।
নিচের আলোচনা থেকে দেখে নিন মালয়েশিয়াতে কোন কাজের বেতন কত ২০২৬ এ বিষয়ে-
প্রথমেই দেখে নিন সর্বোচ্চ বেতন দেয়া হয় এমন কয়েকটি পেশা বা খাত। এই ধরনের পেশায় সাধারণত উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষতা সম্পন্ন পেশাদারগণ কাজ করেন। যেমনঃ
স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা খাতঃ এই খাতের অন্তর্ভুক্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নার্স, সার্জন এবং মেডিকেল ডাইরেক্টরদের বেতন সাধারণত বছরে ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এর বেশি হয়ে থাকে।
তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতঃ এই খাতের আওতায় ডাটা সাইন্টিস্ট, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এআই ইঞ্জিনিয়ারদের মাসিক বেতন সর্বনিম্ন ৪৫০০ রিঙ্গিত থেকে শুরু করে ২৮ হাজার রিংগিত পর্যন্ত হতে পারে।
ব্যাংকিং খাতঃ ব্যাঙ্কিং খাতের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার এবং ফিন্যান্স ডিরেক্টরদের বার্ষিক বেতন অনেক বেশি হয়ে থাকে।
সি স্যুট ( বা C- Suite) এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ খাতঃ কোন কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ( CEO) বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন বছরে ১০ লাখ রিঙ্গিত বা এর বেশি হতে পারে।
এখন দেখে নিন সাধারণ শ্রমিক ভিসার কর্মীদের কোন খাতে কত বেতন দেয়া হবে-
নির্মাণ খাতঃ এই খাতে যেহেতু দক্ষ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয় তাই এই খাতের শ্রমিকদের বেতন অন্যান্য সাধারণ শ্রমিকদের বেতনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কোম্পানি ভেদে বেতন বৃদ্ধি পেতে পারে। সাধারণত এই খাতের বেতন সর্বনিম্ন ২৫০০ রিঙ্গিত থেকে শুরু।
কৃষি খাতঃ মালয়েশিয়ার পাম বাগান ও রাবার বাগানে কর্মী নিয়োগের চাহিদা বেশি থাকায় বেতন কাঠামো মোটামুটি তুলনামূলকভাবে ভালো। এখানে কোন কর্মীর বেতন সর্বনিম্ন ২০০০ থেকে ২৫০০ রিংগিত হতে পারে। পাম বাগানের কর্মীরা দিনে কন্টাক ভিত্তিক কাজ করার জন্য বেসিক বেতন সহ বোনাস পেয়ে থাকেন। এছাড়া ওভারটাইম করার জন্য রয়েছে বাড়তি আয় এর সুযোগ।
ফ্যাক্টরি খাতঃ মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি খাতে প্রচুর ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার এর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে এই খাতে দক্ষ বা অদক্ষ সব ধরনের কর্মী নিয়োগ হতে পারে। সাধারণত একজন সাধারণ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কারের বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত দিয়ে শুরু হলেও, ওভার টাইম করার সুযোগ থাকায় তা বেড়ে ২২০০ রিংগিত পর্যন্ত হতে পারে।
সেবা খাতঃ এই খাতের বেসিক বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত দিয়ে শুরু হলেও, ভাষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতা থাকলে ওভারটাইমসহ ২০০০ থেকে ২২০০ রিংগিত বা এর বেশি বেতন পাওয়া যেতে পারে।
উপরে উল্লেখিত খাত গুলো ছাড়াও আরো অন্যান্য খাতে যে সকল দক্ষ কাজ রয়েছে যেমনঃ ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং, হেভি মেশিন অপারেটর ইত্যাদি কাজে বেতনের অঙ্ক মোটামুটি ভালো। এই ধরনের কাজে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে নিয়োগ কর্তা বা কোম্পানির কাছ থেকে বেতন বিষয়ে জেনে নেওয়া ভালো।
মালয়েশিয়া কাজের জন্য বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
বয়স ও শিক্ষাগত অনুযায়ী যে সকল কাজের চাহিদা রয়েছে তা হলো-
সার্ভিস সেক্টরঃ হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সুপার শপ, সুপারমার্কেট ১৮ বছর বয়স থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর পর্যন্ত কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। খুব বেশি দক্ষতার প্রয়োজন না হলেও শিক্ষাগত যোগ্যতার ন্যূনতম এসএসসি পাস হলে ভালো। সাথে ভাষাগত দক্ষতা হিসেবে ইংরেজি এবং পরে মালয় ভাষা শিখতে হবে।
ফ্যাক্টরি সেক্টরঃ মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি ভিসার চাহিদা বেশি রয়েছে। এক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব বেশি না থাকলেও চলবে। তবে বিশেষ কিছু ফ্যাক্টরি যেমন তবে ডপ গ্লোবস এর মত ফ্যাক্টরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক রয়েছে।
কনস্ট্রাকশন এবং কৃষি সেক্টরঃ কনস্ট্রাকশন, কৃষি এবং পাম বাগানে কর্মী সর্বনিম্ন বয়স ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ এমনকি ৪২ বছর পর্যন্ত নিয়ে থাকে। তবে কনস্ট্রাকশন কাজের জন্য কাজ জানা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়াতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত
মালয়েশিয়াতে কাজের জন্য সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত দেয়া হয় তা এই পর্যায়ে জেনে নিন। 2026 সালের নতুন আপডেট অনুযায়ী একজন সাধারণ কর্মীর বেসিক বেতন ১৭০০ রিংগিত থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ কলিং ভিসায় আপনি মালয়েশিয়া যেতে পারলে সর্বনিম্ন ১৭০০ রিংগিত বা বাংলাদেশী টাকায় ৫০ হাজার টাকার কম বেশি বেতন হিসেবে পাবেন।
এই বেতনের সাথে আপনার ওভারটাইম ও বোনাস যোগ করলে বেতনের পরিমাণ আরো কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। সেই হিসেবে একজন সাধারণ কর্মীর বেতন মাস শেষে সর্বনিম্ন ২০০০ রিঙ্গিত এর মত হবে আশা করা যায়। যা বাংলাদেশী টাকায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।
আরো পড়ুনঃ সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া 2026
মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ বেতনের খাত নির্ধারিত হলেও বেতন কাঠামো নির্দিষ্ট নয়। এই খাত গুলোর সর্বোচ্চ বেতন যোগ্যতা, পেশা, দক্ষতা অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উচ্চপদস্থ পদমর্যাদা সম্পন্ন পেশাদার, দক্ষ কর্পোরেট পারসন, ব্যাংক ম্যানেজার কিংবা প্রধান ফিনান্সিয়াল অফিসারদের বেতন
সাধারণত ২০ হাজার রিঙ্গিত থেকে শুরু হয়ে ২২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত হতে পারে। এই ক্যাটাগরির আরো কিছু উচ্চ মর্যাদা ও দক্ষতা সম্পন্ন পেশাদারদের বেতন ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার ইঙ্গিত পর্যন্ত হতে পারে।
নিচে এক নজরে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো দেখে নিন-
বেসিক বেতন-------------------- ১৭০০ রিঙ্গিত
সাধারণ কর্মীর ন্যূনতম বেতন- ১৭০০ রিঙ্গিত
বোনাস ও ওভারটাইম সহ বেতন- ২০০০-২২০০ রিঙ্গিত
সর্বোচ্চ বেতন------------------------১০,০০০ রিঙ্গিত থেকে ২২০০০ রিঙ্গিত বা এর বেশি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
মালয়েশিয়া থাকা ও খাওয়ার খরচ কত
মালয়েশিয়ায় থাকা ও খাওয়ার খরচ প্রতিমাসে কেমন বা কত হতে পারে। মালয়েশিয়া থাকা ও খাবার খরচ বাবদ প্রতিমাসে কত টাকা খরচ হবে এটা নির্ভর করে একজন কর্মী কোথায় খাচ্ছেন, থাকার পরিবেশ কেমন তার উপর। তবে গড় হিসেবে টাকার অংক সাধারণত ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা হতে পারে।
আপনি যদি বাজার থেকে কিনে নিজ হাতে রান্না করে ও কয়েকজন মিলে রুম শেয়ারিং করে থাকেন তাহলে থাকা ও খাওয়া খরচ পাবো সর্বনিম্ন পরিমাণ খরচ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাবার খরচ ৩০০ থেকে ৪০০ রিংগিত এবং রুম ভাড়া বাবদ ৩০০ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত খরচ হতে পারে। এটা হল মালয়েশিয়া থাকার জন্য ন্যূনতম খাওয়া ও বাসস্থান বাবদ খরচের পরিমাণ। অর্থাৎ মোট ৭০০ থেকে ১০০০ রিংগিত খরচ হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশী টাকায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
আরো পড়ুনঃ কুয়েত ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা ২০২৬
আবার কোন শ্রমিক যদি নিয়মিত হোটেল, রেস্টুরেন্টে প্রতিবেলায় খাবার খান এবং ভালো লোকেশনে একক রুম নিয়ে থাকেন তাহলে তার মাসিক খরচের পরিমাণ ১৪০০ থেকে ৩ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত হয়ে থাকে, বা এর কিছুটা কম বেশি।
অর্থাৎ মালয়েশিয়াতে একজন কর্মীর কত টাকা এবং খাওয়া বাবদ খরচ হবে তা নির্ভর করে তার জীবন যাত্রার মান, খাওয়ার ধরন, থাকার পরিবেশ ইত্যাদির উপর।
মালয়েশিয়ায় কর্ম ঘন্টা বা কত ঘন্টা কাজ করতে হয়
মালেশিয়ার কোম্পানিগুলোতে একজন কর্মীর কর্ম ঘন্টা কত বা কত ঘন্টা কাজ করতে হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মালয়েশিয়ার কর্মীদের কর্ম ঘন্টা ৪৮ ঘণ্টা কমিয়ে ৪৫ ঘন্টা করা হয়েছে প্রতি সপ্তাহে। অর্থাৎ একজন সাধারণ কর্মী সপ্তাহে ৪৫ কর্ম ঘন্টা কাজ করবে। এই হিসেবে দিনে ৮ -৯ ঘন্টা কাজের জন্য নির্ধারিত।
নির্ধারিত কর্ম ঘণ্টার বাইরে বেশি সময় কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এজন্য অতিরিক্ত ওভারটাইমের টাকা বেতনের সাথে যোগ হবে। ওভারটাইম বাবদ পারিশ্রমিকের মূল্য সাধারণত কোন কর্মীর প্রতি ঘন্টার মূল বেতনের দেড়গুণ হয়ে থাকে।
প্রতি ৫ ঘণ্টা পরপর কর্মীকে খাবার ও বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট ৩০ মিনিট বরাদ্দ রয়েছে। সপ্তাহে ১ দিন পূর্ণ ছুটি ভোগ করবে।
.jpg)
passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;
comment url