২০২৬ সালের শবে বরাত,রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে বাংলাদেশ
Salma Mili
২ ফেব, ২০২৬
২০২৬ সালের শবে বরাত,রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে বাংলাদেশ এটি সম্পর্কে আমাদের আগে জানা উচিত। কারণ একজন মুসলমান ব্যক্তি হিসেবে এটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
প্রিয় পাঠক আপনারা কি ২০২৬ সালের শবে বরাত, রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে অনেক বেশি আগ্রহী? আপনাদের জন্য আজকে আমরা এই প্রবন্ধে অনেক মূল্যবান বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। পোস্ট সূচীপত্রঃ
২০২৬ সালের শবে বরাত,রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে
২০২৬ সালের শবে বরাত,রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে বাংলাদেশ এই সকল তথ্য জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ আমরা মুসলমান ব্যক্তি হিসেবে সঠিক তারিখ অনুযায়ী শবে বরাতের নামাজ ও রমজানের রোজা পালন করব না এটা ভুল বিষয়। তাই আমরা নেক আমল গুলো অর্জন করার জন্য এগুলো সম্পর্কে আগে বিস্তারিত জানবো।
প্রিয় পাঠক, ২০২৬ সালের শবে বরাত হবে ১৫ শাবান ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুসারে, যা ইংরেজি সালে ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ও বাংলা সনের মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হবে। মুসলমানরা এই রাতে বিশেষ দোয়া, তাকবির ও রাতে ইবাদত করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে।
রমজান মাস শুরুর পূর্বে চাঁদ দেখা জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। এখনকার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৬ সালে রমজান মাসের প্রথম রোজা শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার থেকে অর্থাৎ আগের সন্ধ্যায় ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে চাঁদ দেখা গেলে রোজা শুরু হবে।
রমজানের শেষ ১০ দিনের মধ্যেই সবচেয়ে পবিত্র রাত লাইলাতুল কদর থাকে। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখার পরে নিশ্চিত হয়, ২০২৬ সালে এটি রামজানের ২৭তম রাত্ হিসেবে প্রায় ১৬ মার্চ ২০২৬ রাতের দিকে হতে পারে। এ রাত এর গুরুত্ব প্রতিটি মুসলমান ব্যাক্তির জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান মাসের রোজা পালন শেষে উপবাসের ইবাদত শেষ করে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। ২০২৬ সালে মুসলিম বিশ্বের চাঁদ দেখা ও হিসাব অনুযায়ী ঈদুল ফিতর হবে ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার সম্ভাব্য তারিখ, অর্থাৎ রমজানের ৩০ দিনের পর ১ শাওয়াল পড়ে। মেয়াদ চাঁদ সাক্ষাতে পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে প্রায়ই এই তারিখেই পালন হবে।
রোজা কত দিন বাকি আছে
প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের শবে বরাত,রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে এই বিষয়ে আমরা উপরে জেনেছি। তাই বর্তমান সময় অনুযায়ী ধরা হলে আজ তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং বাংলাদেশে সম্ভাব্য হিসেবে প্রথম রোজা শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সে হিসেবে আজ থেকে রোজা শুরু হতে এখনো প্রায় ১৭ দিন বাকি আছে। এই সময়টা খুব দ্রুত কেটে যায়, তাই এখন থেকেই মানসিক ও ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
এই বাকি থাকা ১৭ দিনকে সাধারণত রমজানের আগাম প্রস্তুতির সময় হিসেবে ধরা হয়। অনেকেই এই সময় থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুরু করেন, নফল রোজা রাখেন এবং কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলেন। কারণ হঠাৎ করে রমজান শুরু হলে শরীর ও মন দুটোই চাপ অনুভব করতে পারে।
পারিবারিক দিক থেকেও এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে ঘরে সেহরি ও ইফতারের পরিকল্পনা করা হয়, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ধীরে ধীরে কেনা শুরু হয় এবং সংসারের বাজেট ঠিক করা হয়। এতে রমজান চলাকালীন অতিরিক্ত ঝামেলা বা দুশ্চিন্তা কম থাকে এবং ইবাদতে বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়।
মনে রাখা দরকার যে রোজা শুরুর তারিখ পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ হিসাব অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা শুরু হবে। তবে যদি চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে রোজা এক দিন পিছিয়ে যেতে পারে।
আজ থেকে রমজান মাস শুরু হতে এখনো প্রায় ১৭ দিন সময় বাকি। এই সময়টা কাজে লাগিয়ে আত্মশুদ্ধি, ইবাদতের প্রস্তুতি ও পারিবারিক পরিকল্পনা করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে সুস্থভাবে রমজান পাওয়ার এবং সুন্দরভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করেন।
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কত তারিখে
২০২৬ সালে শবে বরাত ও রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানার পর, ঈদুল ফিতর সম্ভাব্যভাবে ২০ মার্চ শুক্রবার তারিখে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইসলামিক বা হিজরি ক্যালেন্ডার চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী এই তারিখে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে।
ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে। রমজান মাসে মুসলমানরা এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা বহন করে।
বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের সঠিক তারিখ ঘোষণা করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ঈদের আগের সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী ঈদের দিন নির্ধারণ করা হয়। তাই পূর্বাভাস থাকলেও সরকারি ঘোষণাই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
ঈদের দিন সকালে মুসলমানরা ঈদের জামাতে অংশ নেয় এবং একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি করে। নতুন পোশাক পরা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া, সেমাইসহ নানা খাবার খাওয়া ঈদের অন্যতম আকর্ষণ। এই দিনে ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে।
সব মিলিয়ে ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে একটি আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার উৎসব। ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর যদি ২০ মার্চে হয়, তবে দিনটি হবে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক বিশেষ উপলক্ষ।
রমজান মাসের তাৎপর্য কি জেনে নিন
রমজান মাস ইসলামের অন্যতম পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। কুরআন নাজিলের কারণেই রমজান মাসের গুরুত্ব অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়।
রমজানের প্রধান ইবাদত হলো রোজা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজার মূল উদ্দেশ্য। রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল, সংযমী ও আত্মনিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত করে তোলে।
এই মাসে নফল ইবাদতের পাশাপাশি ফরজ ইবাদতের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও তারাবির নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। বিশেষ করে শেষ দশকের লাইলাতুল কদর হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
রমজান মাস মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দেয়। মিথ্যা বলা, গিবত করা, রাগ ও হিংসা থেকে বিরত থাকতে শেখায়। রোজা শুধু উপবাস থাকা নয়, বরং চরিত্র গঠন ও আত্মশুদ্ধির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ। এই মাসে সংযম ও ভালো আচরণ অনুশীলনের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং নিজের গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়ার সর্বোত্তম সময়। সঠিকভাবে রমজানের শিক্ষা কাজে লাগাতে পারলে একজন মানুষ সারা বছরের জন্য আত্মিক শক্তি ও নৈতিক প্রেরণা লাভ করতে পারে।
রমজান মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে জানি
রমজান মাস ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। কুরআনের সঙ্গে রমজানের গভীর সম্পর্ক থাকার কারণে এ মাসের মর্যাদা অন্যান্য মাসের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
রমজানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রোজা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজার উদ্দেশ্য। রোজা মানুষকে ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। এর মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করতে শেখে এবং আল্লাহভীতিতে দৃঢ় হয়।
এই মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকিরের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। বিশেষভাবে তারাবির নামাজ রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলমানদের ইমানকে আরও শক্তিশালী করে।
রমজান মাস নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিথ্যা, গিবত, হিংসা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে মানুষ গরিব ও অসহায়দের কষ্ট অনুভব করতে শেখে, ফলে সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতা বৃদ্ধি করে।
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এটি গুনাহ মাফের শ্রেষ্ঠ সময় এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা দেয়। সঠিকভাবে রমজানের শিক্ষা অনুসরণ করতে পারলে একজন মুসলমান ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শান্তি ও কল্যাণ লাভ করতে পারে।
রমজান মাসে একজন মুসলিমের করণীয় সমূহ গুলো কি কি
সাধারণত রমজান মাস আমাদের কাছে একটি বরকতের মাস। আমরা মুসলিম এটি আমাদের বড় একটি সৌভাগ্য। তাই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হিসেবে আমাদের রমজান মাসে কি কি করণীয় সমূহ রয়েছে এগুলো সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে।
তাহলে চলুন জানা যাক একজন নেক্কার ও দ্বীনদার মুসলিম ব্যক্তির রমজান মাসে কি কি করনীয় সমূহ রয়েছেঃ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করা (পুরুষদের ক্ষেত্রে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করা উত্তম)
রমজানের রোজা পূর্ণ আন্তরিকতায় রাখা।
সেহরি খাওয়া ও দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
ইফতার করার সময় দোয়া করা।
কুরআন মাজীদ নিয়মিত তিলাওয়াত করা।
কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করা।
তারাবির নামাজ আদায় করা।
বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা।
মিথ্যা, গিবত ও খারাপ কথা থেকে বিরত থাকা।
চোখ, কান ও জিহ্বা সংযত রাখা।
বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ করা।
গরিব-দুঃখীদের দান-সদকা করা।
যাকাত আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
রাগ ও অহংকার নিয়ন্ত্রণ করা।
সময়ের সঠিক ব্যবহার করা।
বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়া।
নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা।
লাইলাতুল কদর তালাশ করা।
আত্মশুদ্ধি ও তাওবার প্রতি মনোযোগ দেওয়া।
ঈমান ও আমল উন্নত করার দৃঢ় নিয়ত করা।
রমজান মাসে ইফতার ও সেহেরি করার ফজিলত
রমজান মাসে রোজা ভেঙে ইফতার করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোজাদারের ইফতারের সময় করা দোয়া কবুল করা হয়। ইফতার শুধু খাবার গ্রহণ নয়, এটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ইবাদতের অংশ। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত এবং এতে দ্রুত সওয়াব লাভ হয়।
কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে তার রোজার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়, অথচ রোজাদারের সওয়াব কমে না। এটি মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও দানশীলতা বাড়ায়। সামান্য খেজুর বা পানি দিয়েও ইফতার করানো অনেক বড় নেক আমল হিসেবে গণ্য হয়।
সেহেরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেহেরি খাও, কারণ সেহেরিতে বরকত আছে। সেহেরি রোজা রাখার শক্তি জোগায় এবং ইবাদতে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। তাই সেহেরি বাদ না দিয়ে নিয়মিত খাওয়া উত্তম।
সেহেরির শেষ সময় ফজরের আগের মুহূর্তগুলো দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। এ সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত নাজিল করেন। নিয়ত ও দোয়ার মাধ্যমে রোজা শুরু করলে রোজার আত্মিক মূল্য আরও বেড়ে যায়।
ইফতার ও সেহেরি আমাদের ধৈর্য, সংযম ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়। এগুলো রমজানের রোজাকে সহজ ও অর্থবহ করে তোলে। নিয়ম মেনে ইফতার ও সেহেরি করলে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আখিরাতের জন্যও বড় সওয়াব অর্জিত হয়।
রমজান মাসে ইফতারের দোয়া জানুন
রমজান মাসে রোজা রাখা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ধৈর্যের পরীক্ষা নয়, এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মাধ্যম। রোজা ভাঙার আগে দোয়া করা মুসলিমদের জন্য বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজা ভাঙার সময় দোয়া করে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।
ইফতারের সময় সাধারণত ছোট কিন্তু অর্থবহ দোয়া করা হয়। যেমন, আল্লাহুম্মা লাকা সুম্তু ও ‘আলা রিজ্কি কফ্তার্তু অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তুমিই আমাকে রুজি দাও। এটি রোজাদারের আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বাস প্রকাশ করে।
ইফতারের দোয়া শুধু দোয়া নয়, এটি সওয়াব অর্জনের পথ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইফতারের সময় বান্দার দোয়া বাতিল হয় না। তাই যত বেশি হৃদয় দিয়ে ইফতারের দোয়া করা হবে, তত বেশি আত্মিক শান্তি এবং সওয়াব লাভ হবে।
ইফতারের দোয়া শুধুমাত্র বড়দের জন্য নয়। শিশুদেরও শেখানো উচিত রোজা ভাঙার আগে সংক্ষেপে দোয়া করা। এটি তাদেরকে আল্লাহভীতি ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা দেয়। ছোট্ট দোয়া হলেও আল্লাহ তা গ্রহণ করেন এবং শিশুদের মধ্যে নৈতিক গুণাবলী গড়ে তোলে।
ইফতারের দোয়া রোজার একান্ত চাবিকাঠি। এটি আমাদের ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা দেয়। প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় ইফতারের দোয়া মনে রেখে করা মানসিক শান্তি দেয় এবং রমজানের রোজাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
রমজান মাসে সেহেরির দোয়া জেনে নিন
রমজান মাসে রোজা শুরু করার আগে সেহেরি খাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেহেরিতে বরকত আছে। সেহেরি শুধু শারীরিক শক্তি জোগায় না, এটি রোজাদারের জন্য আল্লাহর নৈকট্য ও সওয়াব অর্জনের এক সুযোগ। সেহেরির সময় দোয়া করা রোজার মানসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে বৃদ্ধি করে।
সেহেরি শুরু করার আগে বা পরে ছোট্ট দোয়া করা হয়। যেমন ও আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রাখছি এবং আমাকে শক্তি দাও, যাতে আমি তা ঠিকভাবে পালন করতে পারি। এটি আল্লাহর কাছে আমাদের নিয়ত ও ভরসা প্রকাশ করে।
সেহেরির দোয়া করা রোজাদারের জন্য আল্লাহর কাছে এক বিশেষ আমল হিসেবে গণ্য হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেহেরির নিয়ত ও দোয়া রোজার জন্য শক্তি জোগায় এবং আল্লাহ তা কবুল করেন। তাই রোজাদার যত আন্তরিকভাবে দোয়া করবে, ততই তার সওয়াব বৃদ্ধি পাবে।
সেহেরির সময় পরিবারের সঙ্গে দোয়া করা বরকতের অংশ। শিশুদেরও এই সময় শেখানো উচিত সংক্ষেপে দোয়া করতে। এটি পরিবারে একতা, আল্লাহভীতি ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা বৃদ্ধি করে।সেহেরির দোয়া রোজার প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। এটি ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা দেয়।
লেখকের মতামত
প্রিয় পাঠক, ২০২৬ সালের শবে বরাত,রোজা ও ঈদুল ফিতর কত তারিখে বাংলাদেশ সম্পর্কে আজকের এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করার আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আপনারা সহজে কিভাবে এটি বুঝতে পারবেন তা আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
এছাড়া শবে বরাতের গুরুত্ব শবে কদর ও রমজানের কি কি ফজিলত সমূহ রয়েছে এবং একজন মুসলমান ব্যক্তি হিসেবে রমজান মাসে আমাদের কি কি করনীয় গুলো রয়েছে এ সকল সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জেনেছি আজকের এই আর্টিকেলটিতে। তাই এরকম আরো ইসলামিক পোস্ট পেতে নিয়মিত এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।
passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;
comment url