রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা দেখে নিন

রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা কি হবে এই বিষয়ে আপনি কি জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এই প্রবন্ধে রমজানের রোজা রাখার আরবি নিয়ত ও বাংলা নিয়ত সহ ইফতার এবং সেহেরির দোয়া আরবি ও বাংলা জানানো হয়েছে।

রোজা-রাখার-নিয়ত-আরবি-বাংলা

ইসলামের ৫টি রুকুনের মধ্যে রোজা একটি ফরজ এবাদত আর এটি পালন করা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য ফরজ। তাই প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সকলের জানা উচিত রোজা রাখার নিয়ত আরবি কি এবং বাংলা কি। প্রিয় পাঠক, আপনারা সকলেই হয়তো জানেন আবার হয়তো অনেকেই জানেন না রোজা রাখার নিয়ত কোনটা বেশি উত্তম। আজকের এই প্রবন্ধের মাধ্যমে আপনারা সঠিক নিয়ত জানতে পারবেন। আপনাদের সকলের জন্য আজকের এই প্রবন্ধে রোজা রাখার নিয়ত নিয়ে আলোচনা করব। পোস্ট সূচিপত্রঃ

রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা

রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা শুদ্ধভাবে আমাদের পড়া উচিত। কারণ রোজা আমাদের সকলের জন্য একটি ফরজ এবাদত। তাই রমজান মাসে আমরা প্রত্যেকেই মর্যাদার সাথে রোজা আদায় করব। রোজা আদায় করার জন্য অবশ্যই আমাদের রোজা রাখার নিয়ত সম্পর্কে জানতে হবে, তা না হলে আমাদের রোজা শুদ্ধ হবে না।
রোজান-রাখার-নিয়ত-আরবি-বাংলা

এখন আমরা নিচে জানবো রোজা রাখার নিয়ত আরবি এবং এর অর্থ কি কি রয়েছে এ বিষয়েঃ

"নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম মিন শাহরি রামাদানা ফারদাল্লিল্লাহি তাআলা।" 

এর বাংলা হলো- আমি দৃঢ়ভাবে মনে মনে নিয়ত করলাম যে, আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের একটি ফরজ রোজা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পালন করব। এই রোজা আমি শুধুমাত্র আল্লাহর আদেশ মান্য করার জন্য রাখছি।

রোজার নিয়ত বলতে মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তকে বোঝায়। একজন মুসলমান যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারাদিন পানাহার ও অন্য রোজাভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকার সংকল্প করে, তখনই তার নিয়ত সম্পন্ন হয়। এখানে মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়, তবে মুখে বললে তা সুন্নত হিসেবে গণ্য হয়।

রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সাহরি খাওয়াও নিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ যদি সাহরির সময় এই ভেবে খাবার গ্রহণ করে যে সে রোজা রাখবে, তাহলে সেটিই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট হয়ে যায়। ইসলাম ধর্ম সহজ, তাই নিয়তের ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তরের অবস্থাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

রমজান মাসের প্রতিটি ফরজ রোজার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ত করা উত্তম। নিয়ত যত খাঁটি ও আল্লাহর জন্য হবে, রোজার ফজিলত তত বেশি হবে। তাই রোজা শুরুর আগে মনকে পরিষ্কার রেখে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় আন্তরিকভাবে আমাদের নিয়ত করা উচিত।

ইফতার ও সাহরীর দোয়া আরবি ও বাংলা

রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা জানার সাথে সাথে আমাদের ইফতার ও সেহরির দোয়া আরবি ও বাংলা জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমরা রোজার ইফতার ও সেহরির সময়কার দোয়া সম্পর্কে জানব-

"আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।"

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো-

"যাহাবাজ জ্বামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।" 

অর্থ: পিপাসা দূর হয়ে গেল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নিশ্চিত হলো।

ইফতারের মুহূর্ত দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময়। এই সময় বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ইফতার করার আগে ও ইফতারের সময় নিজের গুনাহ মাফ, পরিবার ও উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা অত্যন্ত ফজিলতের কাজ।

এখন নিচে দেখে নিন সেহেরির দোয়া আরবি ও বাংলা-

"নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম লিল্লাহি তাআলা।"

অর্থ: আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করলাম। এটি হলো সাহরীর দোয়া এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য সাহরী করে থাকে।

সাহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে। সাহরির সময় আল্লাহকে স্মরণ করা, দোয়া করা এবং রোজা পালনের নিয়ত করা রোজার জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি তৈরি করে। সাহরির সময় করা দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

রোজা খোলার দোয়া কি জানুন

ইফতারের সময় আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত। সারাদিন রোজা রাখার পর এই সময়ে দোয়া পড়লে ও মন থেকে চাওয়া করলে আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষণ করেন।আরবি দোয়া পড়ার পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষায় আল্লাহর কাছে চাওয়া একদম জায়েজ।

প্রথমে জেনে নিন রোজা খোলার আরবি দোয়া-

"আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা সুমতু, ওয়া বিকা আমান্তু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।"

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি, তোমার ওপর ঈমান এনেছি, তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়েই রোজা ভাঙছি এই কথা প্রকাশ করাই এই দোয়ার মূল কথা।

আরেকটি ইফতারের দোয়ার হলো 

"যাহাবাজ জ্বামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।"

ইফতারের দোয়া পড়ার পর নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা খুবই উত্তম। নিজের প্রয়োজন, পরিবার, দেশ ও উম্মাহর জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন।

ইফতার শুরু করা সুন্নত হলো খেজুর দিয়ে, আর খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে। ইফতারের আগে বা প্রথম লোকমা মুখে দেওয়ার সময় দোয়া পড়া উত্তম। তাড়াহুড়ো না করে, শান্ত মনে আল্লাহকে স্মরণ করে ইফতার করলে রোজার সওয়াব আরও বাড়ে।

রমজান মাস ছাড়া রোজা রাখার নিয়ত কি 

রমজান মাসের বাইরে যে রোজাগুলো রাখা হয়, সেগুলোকে সাধারণত নফল বা সুন্নত রোজা বলা হয়। এই রোজার মধ্যে রয়েছে সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা, আশুরার রোজা, আছরাফি বা আরাফার রোজা এবং শাওয়ালের ছয় রোজা। এসব রোজা শরীর ও মনকে প্রশিক্ষণ দেয়। 

প্রতিটি রোজার মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। নিয়ত মানে হলো নিজের মনে দৃঢ় সংকল্প করা যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই রোজা রাখছি। মুখে বললেই ভালো, তবে মনে মনে নিয়ত করলেও রোজা গ্রহণযোগ্য হয়। নিয়ত ছাড়া রোজা রাখা শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা পরিহারের মতো হয়ে যায়।

নফল রোজার নিয়তের কথা আমি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম। এটি খুবই সহজ ও পরিষ্কার নিয়ত, আর মুখে বললেও ভালো। বিশেষ কোনো জটিল শব্দ বা ফরমূলা প্রয়োজন নেই। নিয়ত খাঁটি হওয়া মানেই আল্লাহ তায়ালা সেই রোজা গ্রহণ করবেন।

নফল রোজার নিয়ত সবচেয়ে উত্তম সময় হলো সুবহে সাদিকের আগে। তবে যদি কেউ সকালে নিয়ত করতে না পারে, সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ দুপুরের আগে, তারাও নিয়ত করতে পারেন। নিয়ত করার সময় মনোযোগ দিয়ে নিজের উদ্দেশ্য আল্লাহর জন্য খাঁটি রাখাই প্রধান।

নফল রোজা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ মাধ্যম। নিয়ত যদি খাঁটি হয়, তাহলে কম খাওয়া বা সহজ রোজা হলেও অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। নিয়মিত নফল রোজা রাখলে আত্মসংযম, ধৈর্য এবং ধ্যানের অভ্যাস বৃদ্ধি পায়।

নফল রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া বাংলা 

নফল রোজা মানে হলো নিজ ইচ্ছায় অতিরিক্ত রোজা রাখা। রোজা শুরু করার আগে নিয়ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়তের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর জন্য রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে। নফল রোজার নিয়ত করার সময় অন্তরে আমি আল্লাহর জন্য আজকের নফল রোজা রাখলাম ভাবতে হয়। নিয়ত শুধু মনে করা হয়, আল্লাহ জানেন আমাদের ইচ্ছা। এটি লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন নেই।

নিয়ত হলো আমলকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মূল। রোজা শারীরিকভাবে শুধু খাওয়া-দাওয়া না করা নয়, বরং মন, হাত-পা এবং চোখকেও সৎ কাজের দিকে নিয়ে আসা। নফল রোজায় নিয়ত আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে সাহায্য করে।

রোজা ইফতার করা হলো দিনের রোজার সমাপ্তি। ইফতারের সময় দোয়া পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হলো আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মুহূর্ত। ইফতারের সময়ে আমরা আল্লাহর নিকট ধৈর্য্য, ক্ষমা, ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি দেয় এবং রোজার পূর্ণতা প্রদান করে।

ইফতারের সময় সাধারণভাবে এ দোয়া বলা হয় ও আল্লাহ! তুমি আমাকে রোজা রাখার তৌফিক দান করেছো তোমার জন্য আমি রোজা রেখেছি। তুমি আমার রোজা কবুল করো এবং আমার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করো। এই দোয়া হৃদয় থেকে বলা হয়।

নফল রোজা রাখা আত্মাকে দৃঢ় করে, ধৈর্য্য বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়। নিয়মিত নফল রোজা রাখার ফলে মন শান্ত থাকে, গুণাবলীর বিকাশ হয়, এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন সম্ভব হয়। এছাড়া এটি আমাদের মূল রোজা বা ফরজ রোজার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে।

রোজা রাখার নিয়ম কি জেনে নিন

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি মূলত ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পালন করতে হয়। মুসলিমদের জন্য রোজা শুরু হয় সেহরি খাওয়ার পরে ফজরের আজানের সময় থেকে এবং শেষ হয় ইফতার বা সূর্যাস্তের সময়। সেহরি খাওয়া ফরজ হলেও সুন্নাত এবং ইফতার যথাসময়ে করা গুরুত্বপূর্ণ।

রোজার সময় সকালে সেহরি খাওয়া এবং রাতে ইফতার করা বাধ্যতামূলক। রোজার মধ্যে কোনো ধরনের খাবার, পানি বা পানীয় গ্রহণ করা হারাম। তবে শিশুরা, অসুস্থ, ভ্রমণে থাকা বা গর্ভবতী মা যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তারা শর্তসাপেক্ষে রোজা না রাখতে পারে।

রোজা শুধু খাবার-দাবার এড়ানো নয়, বরং মানুষকে নৈতিকভাবে উন্নত করে। রোজা রাখার সময় মিথ্যা বলা, গসিপ করা, রাগ দেখানো, অপ্রীতিকর কাজ করা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা নিষিদ্ধ। মানুষকে ধৈর্যশীল, সহনশীল এবং আল্লাহর প্রতি ভক্তিপূর্ণ হতে শেখায়।

রোজার সময় শুধু খাবার-দাবার ত্যাগ নয়, আল্লাহর কাছ থেকে নিকট হওয়া এবং দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও নামাজের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। বিশেষ করে মাসে রমজান মাসে ত্রিপূরণকৃত তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং ইশরাতের নামাজ রোজার ইবাদতকে আরও সম্পূর্ণ করে।

রোজা সূর্যাস্তের পর ইফতারের মাধ্যমে খোলা হয়। ইফতার সাধারণত খেজুর, পানি বা হালকা খাবার দিয়ে করা হয়। ইফতারের আগে “বিসমিল্লাহ” বলা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা সুন্নত। ইফতারের পর সম্পূর্ণ খাবার খাওয়া যায় এবং পরবর্তী নামাজের মাধ্যমে দিনের রোজার ইবাদত সমাপ্ত হয়।

যে সকল কারণে রোজা ভেঙে যেতে পারে 

সাধারণত আমরা সেহরিতে খাবার খেয়ে রোজার উদ্দেশ্যে নিয়ত করে রোজা করে থাকি। কিন্তু রোজা থাকলে শুধু হবে না যে সকল কারণে রোজাগুলো আমাদের ভেঙে যেতে পারে সে সকল বিষয় আমাদের জানতে হবে। তা না হলে রোজা থেকে রোজা ভেঙ্গে গেলে আমরা কখনোই বুঝতে পারব না।

তাই এখন আমরা জানবো যে সকল কারণে আমাদের রোজা গুলো ভেঙ্গে যায় তার কি কি কারণ আছে। সে সকল কারণগুলো নিম্নরপঃ 
  • মুখ ভর্তি করে বমি হওয়া এবং ইচ্ছাকৃত বমি করা।
  •  উদ্দেশ্যহীন ভাবে পানি পান করা।
  • মাসিক বা রজঃসংক্রান্ত রক্তপাতের সময় রোজা রাখা।
  • গর্ভধারণের সময় স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে। 
  • গুরুতর অসুস্থতার কারণে ঔষধ খাওয়া। 
  • মাদকের বা নিষিদ্ধ নেশার ব্যবহার। 
  • রোজা রাখার সময়ে অত্যধিক রক্তপাত বা রোগ। 
  • যুদ্ধে বা বিপদজনক অবস্থায় রোজা রাখা। 
  • খুব তীব্র ক্ষুধা বা পিপাসা সহ্য করতে না পারা। 
  • যান্ত্রিক বা শারীরিক কাজের কারণে অক্ষমতা। 
  • শিশুর জন্ম বা প্রসবের সময়। 
  • বৃদ্ধ বয়সে শক্তি না থাকা। 
  • যাত্রা বা দীর্ঘ পথ চলা যেখানে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। 
  • শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকলে। 
  • দন্ত চিকিৎসার জন্য ঔষধ বা চিকিৎসা নেওয়ার কারনে। 
  • মানসিক বা স্নায়ুবিক রোগের কারণে রোজা রাখার অসুবিধা। 
  • চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা বিরত রাখা।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে কোন খাবার খেয়ে ফেললে। 

সহীহ ও শুদ্ধভাবে রোজা রাখার নিয়ম 

রোজা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সহীহ ও শুদ্ধভাবে রোজা রাখার জন্য প্রথমে নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত মানে হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে রোজা রাখার অভিপ্রায় মনস্থ করা। এটি অন্তরে হতে হবে এবং মুখে উচ্চারণ করলে আরও ভালো, তবে মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়। নিয়ত ছাড়া রোজা পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয় না।

সহীহ ও শুদ্ধভাবে রোজা রাখার নিয়ম
রোজার সময় সেহরি খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেহরি খেলে দিনের দীর্ঘ সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা সহজ হয়। হাদিসে এসেছে যে, সেহরি খাওয়ায় বরকত রয়েছে। এছাড়া, সূর্য উঠার আগে সেহরি শেষ করা উচিৎ। এর মাধ্যমে রোজা রাখার নিয়ম পূর্ণ হয় এবং শরীরও শক্তিশালী থাকে।

রোজার সময়ে জিহ্বা, চোখ ও কানসহ সকল ইন্দ্রিয়কে অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখা জরুরি। রোজা শুধু খাওয়া ও পানির নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং গালি, মিথ্যা, ফাঁকি বা অন্যায় কাজ থেকেও বিরত থাকা। যে ব্যক্তি রোজার সময় অসভ্য কথা বলে বা অন্যায় কাজ করে, তার রোজা অপরিপূর্ণ হয়।

রোজার সময় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে খেয়ে বা পান করলে তা রোজা ভঙ্গ করে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলে রোজা নষ্ট হয়। একইভাবে, মাদকের ব্যবহার, ধূমপান  রোজা ভঙ্গ করে। এজন্য রোজা রাখার সময় সতর্ক থাকা এবং সমস্ত নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

রোজা শুদ্ধভাবে রাখার জন্য ধৈর্য্য, ইচ্ছাশক্তি ও নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য। দিনের শেষ সময়ে ইফতার করার আগে পানি বা খেজুর দিয়ে রোজা খোলা সুন্নাহ। এছাড়া, রাতে নফল নামাজ ও দোয়া করলে রোজার ফযিলত বৃদ্ধি পায়।

রোজা রেখে কোন দোয়া বেশি বেশি পড়া উত্তম

প্রিয় পাঠক, উপরে আমরা রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা সম্পর্কে জেনেছি. এখন জেনে নিন রোজা রাখা অবস্থায় কোন কোন দোয়া বেশি পড়া উত্তম। রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়, এটি আল্লাহর কাছে নিকটবর্তী হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রোজার সময় দোয়া পড়ার ফযিলত অনেক বেশি। এই সময়ে আল্লাহ রুজু ও দোয়া বিশেষভাবে কবুল করেন। তাই প্রতিদিন রোজা রাখার সময় নিয়মিত দোয়া পড়া উত্তম।

ইফতারের আগে দোয়া করা সবচেয়ে বেশি ফযিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইফতারের সময় দোয়া করে, আল্লাহ তা শুনে রাখেন এবং তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। ইফতারের দোয়ায় সাধারণভাবে নিজের, পরিবারের ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা উচিত।

রোজার সময় তাসবিহ, তাহলীল ও দোয়া পড়াও উত্তম। যেমন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করা। এছাড়া কুরআনের তিলাওয়াত ও আল্লাহর নাম স্মরণ করাও রোজার সময় দোয়ার অংশ। এটি হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আত্মার উন্নতি ঘটায়।

রোজার সময় ব্যক্তিগত দোয়া, বিশেষ করে গোপন দোয়া খুবই প্রয়োজনীয়। যেকোনো প্রয়োজন বা সমস্যার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, দয়া ও সহায়তা কামনা করা উত্তম। হাদিসে এসেছে যে, রোজা রাখা অবস্থায় দোয়া কখনো বাতিল হয় না। তাই আমরা বেশি বেশি করে ইস্তেগফার পাঠ করবো।

রোজা শুদ্ধভাবে পালন করার সঙ্গে দোয়া পড়ার অভ্যাস জুড়ে দিলে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। রোজার শেষ রাতে বিশেষ করে রাতের তিহা বা কদরের রাতগুলোতে দোয়া বেশি পড়া উত্তম। এটি মনকে প্রশান্ত করে, আল্লাহর নৈকট্য এই পুণ্যের মাধ্যমে দুনিয়াও ও পরকালের কল্যাণ লাভ হয়।

লেখকের মতামত

প্রিয় পাঠক, রোজা রাখার নিয়ত আরবি ও বাংলা নিয়ে আজকের এই প্রবন্ধের মাধ্যমে  বিস্তারিত আলোচনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আপনারা যেন সহজে বুঝতে পারেন রোজা রাখার নিয়ত এর আরবিগুলো কি এবং এর উচ্চারণসমূহ কি তা আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

এছাড়া রোজা রাখার নিয়ম গুলো কি রোজা রাখার জন্য আমাদের কি কি খাবার খেতে হবে রোজা ভঙ্গের কোন কারণগুলো রয়েছে এ সকল কিছু আমরা জানতে পেরেছি আজকের এই আর্টিকেলটিতে।এ ধরনের আরো ইসলামিক পোস্ট পেতে নিয়মিত এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url