সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ২০টি উপকারিতা

সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে প্রচুর। আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ২০টি উপকার সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে জানতে পারবেন। আরো জানবেন, কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত।সকালে-খালি-পেটে-কাঠবাদাম-খাওয়ার-উপকারিতা

কাঠবাদাম নানা ধরনের ভিটামিন, মিনারেলস ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি শুকনো খাবার। মানব দেহের জন্য কাঠবাদামের এত বেশি উপকারীতা রয়েছে যে বলে শেষ করা যাবে না। আমরা বিভিন্নভাবে কাঠবাদাম খেয়ে থাকলেও, সকালে খালি পেটে এক মুঠো কাঠবাদাম খেলে আমাদের শরীর ও মনের উপর যে বিস্ময়কর উপকার হয় তা নিয়েই আজকের এই আর্টিকেল। পোস্ট সূচীপত্রঃ

তাহলে চলুন দেরি না করে পুরো আর্টিকেলটি শুরু করা যাক।

সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা 

সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক যেগুলো আমাদের জানা উচিত। বিশেষ করে কিভাবে সঠিক নিয়মে কাঠবাদাম আমাদের খেতে হয় এবং কাঠবাদামের কতটুকু পুষ্টিগুণ রয়েছে এটিও আমাদের জানতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে আমাদের অনেকের নানা ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে আপনি যদি ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ৭-৮ টি কাঠবাদাম খেতে পারেন, তাহলে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি সুঅভ্যাস হয়ে দাঁড়াবে, এটি নিশ্চিত করে বলা যায়।

সকালে-খালি-পেটে-কাঠবাদাম-খাওয়ার-উপকারিতা
তাহলে চলুন আমরা নিচের আলোচনা থেকে সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি কি এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেইঃ

মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়ঃ খালি পেটে কাঠবাদাম খেলে মস্তিষ্কে দ্রুত পুষ্টি শোষিত হয়। কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন ই ওমেগা–৬, ম্যাগনেশিয়াম ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের স্নায়ুকে সক্রিয় করে তোলে। এটি ব্রেইন সেলের ক্ষতি কমায় এবং নতুন সেল তৈরি করতে সাহায্য করে। 

 হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়ঃ কাঠবাদামে রয়েছে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভিটামিন ই পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক ফাইটো কেমিক্যাল যা হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। সকালে খালি পেটে খেলে এর পুষ্টি রক্তে দ্রুত মিশে রক্তনালীর ব্লক প্রতিরোধ করে।

আরো পড়ুনঃ ভেষজ উদ্ভিদ ভূঁই আমরা খাবার ২০টি উপকারিতা

হজমশক্তি উন্নত করেঃ কাঠবাদামের উচ্চমাত্রার ফাইবার, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পেটের ভেতরের এনজাইম সক্রিয় করে। সকালে খেলে এটি শরীরের হজমশক্তিকে দিনের শুরুতে শক্তিশালী করে। পেট ফাঁপা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য খুব দ্রুত কমে যায়। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ কাঠবাদামে থাকা ম্যাগনেশিয়াম শরীরে ইনসুলিন কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। সকালে খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমায়, ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়। যারা প্রতিদিন সকালে কাঠবাদাম খান, তাদের রক্তের সুগার সাধারণত নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খাবার পর গ্লুকোজ বেড়ে যায় না।

শরীরে শক্তি বাড়ায়ঃ কাঠবাদামে রয়েছে প্রোটিন, হেলদি ফ্যাট, রাইবোফ্লাভিন ভিটামিন বি২ ও ম্যাঙ্গানিজ যা সকালে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এটি শরীরকে দীর্ঘসময় শক্তি দেয়, ফলে সারাদিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে সহজ হয়। 

ত্বক উজ্জ্বল ও সমস্যা–মুক্ত রাখেঃ কাঠবাদামের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও ওমেগা ৩ অ্যাসিড। ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও হেলদি ফ্যাট ত্বকের কোষের ক্ষতি থেকে বাঁচায়। তাই কাঠবাদাম খেলে ত্বকের ভেতরের স্তর পুষ্টি পায়, ত্বক নরম, টানটান ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এছাড়া এটি ত্বকের কালচে ভাব, দাগ-ছোপ, পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। 

হাড় ও দাঁত শক্তিশালী করেঃ কাঠবাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ও ভিটামিন ই যা হাড় ও দাঁতকে শক্ত করে। বিশেষ করে খালি পেটে খেলে এ উপাদানগুলো শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। এটি অস্টিওপরোসিস, জয়েন্ট পেইন, দাঁতের দুর্বলতা ও মাড়ির সমস্যা কমায়।

ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ কাঠবাদামের উচ্চ ফাইবার, প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট পেটকে দীর্ঘসময় ভরা রাখে। ফলে অযথা খিদে অনুভূত হয় না এবং খাবারের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। সকালে কাঠবাদাম খেলে সারাদিন কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয় যা ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুল পড়া কমায়ঃ কাঠবাদামের বায়োটিন, ভিটামিন ই ম্যাগনেশিয়াম ও হেলদি ফ্যাট চুলের রুট শক্ত করে। খালি পেটে খেলে পুষ্টি দ্রুত চুলের ফলিকলে পৌঁছে চুল পড়া কমায়। এটি চুল ঘন ও নরম করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে হলে আমাদের কাঠবাদাম খাওয়া দরকার।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করেঃ কাঠবাদামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই জিঙ্ক ও প্রোটিন শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে সর্দি-কাশি, ইনফেকশন ও মৌসুমি অসুস্থতার সম্ভাবনা কমে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত জরুরি। কাঠবাদাম রক্তনালীগুলোকে শিথিল করে, রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে ও হার্টের চাপ কমায়। এতে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। কাঠবাদাম এটি সাধারণত নিয়ন্ত্রণ করে।

রক্তশূন্যতা কমায়ঃ কাঠবাদামের আয়রন ও ফোলেট শরীরের রক্ত উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালে খেলে আয়রন দ্রুত শোষিত হয় এবং হিমোগ্লোবিন বাড়ে। যারা রক্তশূন্যতায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঠবাদাম খুব উপকারী।

চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ই, ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠন করে। এটি চোখের প্রদাহ কমায়, ড্রাই আই সমস্যা কমায় এবং দীর্ঘদিন দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে। সেজন্য চোখের দৃষ্টি ঠিক রাখতে আমাদের নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া প্রয়োজন।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করেঃ কাঠ বাদামের হেলদি ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। এতে রক্তনালী পরিষ্কার থাকে এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে। কাঠবাদামের অনেকগুলো পুষ্টিগুণ রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যক্রম তাই আমরা দৈনন্দিন জীবনে অল্প পরিমাণে হলেও কাঠবাদাম খাব।

ত্বকের ইনফ্লেমেশন কমায়ঃ কাঠবাদামের ভিটামিন ই ভিটামিন এ ভিটামিন সি ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ইনফ্লেমেশন, র‍্যাশ, লালচে ভাব, অ্যালার্জি ও ফাঙ্গাল সমস্যাও কমায়। এটি ত্বকের ভেতরে প্রদাহ কমিয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

গর্ভবতী নারীর জন্য উপকারীঃ কাঠবাদামে থাকা ফোলেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম ভ্রূণের সঠিক মস্তিষ্ক, হাড় ও স্নায়ু গঠনে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় কাঠবাদাম এনার্জি দেয়, দুর্বলতা কমায় এবং গর্ভকালীন পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে। এই সময় রক্তের ঘাটতি পূরণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের আয়রন প্রয়োজন যা কাঠ বাদাম তৈরি করে। 

মানসিক চাপ ও স্ট্রেস কমায়ঃ ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৬, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়নসমৃদ্ধ কাঠবাদাম স্নায়ুকে শিথিল করে, মানসিক চাপ কমায় এবং মন শান্ত রাখে। যারা মানসিক চাপে ভোগেন, তাদের প্রতিদিন সকালে ৫–৬টা কাঠবাদাম খুবই উপকারী।

ত্বকের বয়সের ছাপ কমায়ঃ কাঠবাদামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোলাজেন রক্ষা করে। ফলে বলিরেখা, লাইন, ডার্ক স্পটসহ বয়সের ছাপ ধীরে আসে। ত্বক দীর্ঘদিন টানটান থাকে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। বয়স পড়ে গেলে সাধারণত আমাদের ত্বকের অনেক সমস্যা বোঝা যায় এটি থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কাঠবাদাম খাওয়া প্রয়োজন। 

শরীরের টক্সিন দূর করেঃ কাঠ বাদামে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। সকালে খেলে ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও দ্রুত কাজ করে, শরীর হালকা ও সতেজ লাগে। আমাদের শরীরে অনেক টক্সিন থাকে যেগুলোকে আমরা বের করার জন্য কাঠবাদাম খাব।

অম্বল ও পেটের জ্বালা কমায়ঃ কাঠবাদামের প্রাকৃতিক তেল পাকস্থলীর অম্লতা কমায়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন হজম সহজ করে এবং গ্যাসের কারণে পেটের জ্বালা, অম্বল ও গ্যাস্ট্রিক কমাতে সাহায্য করে।

কাঠ বাদাম কি

কাঠ বাদাম একটি জনপ্রিয় শুকনো ফল, যা সাধারণত শক্ত খোসার ভিতরে থাকে। এটি দেখতে সাধারণ বাদামের মতো হলেও কাঠ বাদামের স্বাদ কিছুটা গভীর এবং সুগন্ধি বেশি। অনেক দেশে এটি ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও আমাদের দেশে এটি মূলত কাঠ বাদাম নামেই বেশি প্রচলিত।

কাঠ বাদাম গাছে জন্মায় এবং এর গাছ মাঝারি আকারের, কাঠের মতো শক্ত। ফলটি প্রথমে সবুজ অবস্থায় থাকে, পরে শুকিয়ে শক্ত খোসা তৈরি করে। খোসা ভেঙে এর ভিতরের বাদাম সংগ্রহ করা হয়। কাঠ বাদাম সাধারণত শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।

কাঠ বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। ভিটামিন ই এর ঘাটতি পূরণের জন্য কাঠবাদাম একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় খাবার। কারণ কাঠবাদাম প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। ভিটামিন ই ছাড়াও এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, বি কমপ্লেক্স, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। এটি শরীরকে শক্তি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। তাই দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় সামান্য হলেও কাঠ বাদাম রাখা অনেক উপকারী।

বাংলাদেশে কাঠ বাদাম এখন বেশ সহজে পাওয়া যায়। বিভিন্ন সুপারশপ, শহরের কাঁচা বাজার, অনলাইন শপ সব জায়গাতেই এর ভালো চাহিদা রয়েছে। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও এর পুষ্টিমূল্য ও স্বাস্থ্যের উপকারিতা মানুষকে এটি কিনতে উৎসাহিত করে। ফলে বাজারে এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা 

প্রিয় পাঠক, সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা উপরে জেনেছি। এখন জেনে নিন কাঠবাদাম ভিজিয়ে খেলে যে সকল উপকার পাওয়া যায় এ বিষয়ে। কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খেলে এর খোসা নরম হয়ে যায় এবং ভেতরের পুষ্টিগুণ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। ভেজানোর কারণে বাদামের এনজাইম সক্রিয় হয়, যা হজমশক্তি উন্নত করে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই কাঁচা বাদামের তুলনায় ভেজানো বাদাম খাওয়াকে বেশি উপকারী বলে থাকেন।

ভেজানো কাঠ বাদাম খেলে পেটে অস্বস্তি কম হয় এবং গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হ্রাস পায়। কারণ ভেজানোর ফলে বাদামের ফাইবার নরম হয়ে যায়, যা দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে। যাদের পেট সংক্রান্ত সমস্যা বেশি, তাদের জন্য ভেজানো কাঠ বাদাম খুবই উপকারী।

ভিজিয়ে খাওয়া কাঠ বাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৫টি ভেজানো বাদাম খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

কাঠ বাদামে থাকা ওমেগা ৩, ভিটামিন বি এবং ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ভেজানো অবস্থায় এগুলো আরও দ্রুত শরীরে কাজ করে। ছাত্র-ছাত্রী বা যারা মানসিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য ভেজানো বাদাম অত্যন্ত উপকারী।

ভেজানো কাঠ বাদামে ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি সক্রিয় থাকে, যা ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। এটি ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া কমায় এবং চুলের গঠন মজবুত করে। নিয়মিত ভেজানো বাদাম খেলে চুল পড়া কমে এবং চুল স্বাস্থ্যকর থাকে। তাই ত্বক ও চুল ভালো রাখতে নিয়মিত কাঠবাদাম ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন।

কাঠ বাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম 

প্রিয় পাঠক, আপনি কি কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানেন? কাঠবাদাম খেলে নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায় এটা যেমন সত্যি, তেমনি কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও পরিমান সম্পর্কেও জানা জরুরী। প্রতিদিন কতটি কাঠ বাদাম খাওয়া উচিত এ বিষয়ে জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মতামত- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৪–৬টি কাঠ বাদাম খাওয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত বাদাম খেলে শরীরে ফ্যাট বা ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে। তাই সীমিত পরিমাণে নিয়মিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। কাঠ বাদাম খাওয়ার সঠিক নিয়ম হলো রাতে পানি ভিজিয়ে সকালে খাওয়া। এতে বাদাম নরম হয় এবং হজম করা সহজ হয়। খোসা থাকলে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খেলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

কাঠবাদাম খালি পেটে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। ভিজানো কাঠ বাদাম সকালে খালি পেটে খেলে শরীর দ্রুত পুষ্টিগুণ শোষণ করতে পারে। এতে শক্তি বাড়ে, ব্রেইন অ্যাক্টিভ থাকে এবং দিনভর সতেজ অনুভূত হয়। তবে খালি পেটে সমস্যা হলে হালকা খাবারের পরেও খেতে পারেন।

কাঠ বাদাম সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি দুধ, ওটস, স্মুদি বা সালাদের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন। শিশুরা চাইলে মধু বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারে। যাদের খাবারে পরিবর্তন আনতে ভালো লাগে, তারা সকালের নাস্তায় ১–২টি বাদাম ব্যবহার করতে পারেন।

যদিও কাঠ বাদাম কাঁচা, ভাজা কিংবা দুধের সাথে, মিষ্টিতে মিশিয়ে বা যে কোন ডেজার্টে গার্নিশ হিসেবে খাওয়া যায় তবে অন্যান্য বীজ জাতীয় খাবার যেমনঃ মিষ্টি কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, তিল, তিসি, কাজুবাদাম এর সাথে কাঠবাদাম একসাথে গুড়ো করে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিতে ভরপুর মিশ্রণ তৈরি করা যায়। এই গুড়োর মিশ্রণ প্রতিদিন সকালে ১ থেকে ২ চা চামচ হালকা কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিয়মিত খেলে নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায়।

যেমনঃ হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে, হাড়কে মজবুত করে এবং চুল ও ত্বককে স্বাস্থ্যবান ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কাজের চাপ বা পড়াশোনার সময়ে এটি শক্তি বাড়ানোর একটি দারুণ খাবার।

তবে যাদের বাদামে অ্যালার্জি আছে তারা কাঠ বাদাম খাওয়া এড়িয়ে চলবেন। এছাড়া যাদের কিডনি সমস্যা বা অতিরিক্ত ফ্যাটভিত্তিক খাবার খাওয়ার নিষেধ আছে, তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন। সঠিক পরিমাণ বজায় রাখলে কাঠ বাদাম সব বয়সের মানুষের জন্যই খুব উপকারী।

কাঠবাদাম ও কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা 

আমরা অনেকেই আছি যারা কাঠবাদাম ও কিসমিস একসাথে খেতে পছন্দ করি। এখন কাঠবাদাম ও কিসমিস একসাথে খেলে যে সকল উপকার পাওয়া যায় তা যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন। কাঠবাদাম ও কিসমিস দুটিই অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। কাঠবাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ই, আর কিসমিসে থাকে আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই দুটি একসাথে খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায় এবং দুর্বলতা কমে।

ভেজানো কাঠবাদাম ও কিসমিস খেলে হজমশক্তি ভালো হয়। কিসমিসে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ভেজানো বাদাম হজম সহজ করে। যাদের পেটের সমস্যা বেশি, তাদের জন্য এই সংমিশ্রণ খুব উপকারী।

কিসমিসে প্রচুর আয়রন থাকে, যা রক্তশূন্যতা দূর করে এবং হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। কাঠবাদামের ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। বিশেষ করে নারীদের জন্য ভেজানো কাঠবাদাম-কিসমিস প্রতিদিন খাওয়া খুবই উপকারী, এতে করে নারী শরীরের নানা ধরনের সমস্যা দূর হয়।

কাঠবাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন ই হৃদপিণ্ড সুরক্ষিত রাখতে, আর কিসমিসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের প্রদাহ কমা্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি কাঠ বাদামের ওমেগা৩ ও কিসমিসের প্রাকৃতিক সুগার মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে।

প্রতিদিন ভেজানো কাঠবাদাম ও কিসমিস খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়, ব্রণ কমে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক গ্লো আসে। কিসমিস রক্ত পরিশোধন করে, আর কাঠবাদাম ত্বককে পুষ্টি দেয়। চুল পড়া কমাতে ও চুল মজবুত করতে এ দুটো খাবার বিশেষ ভূমিকা রাখে।

কাজুবাদাম ও কাঠ বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা 

আপনাদের যাদের প্রতিদিন কাজুবাদাম ও কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাদের এ দুটি খাবার একসাথে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুটি বাদামী রয়েছে ভরপুর পুষ্টি উপাদান ও নানা ধরনের ভিটামিন। সাধারণত প্রতিদিন ৪–৫টি কাঠ বাদাম এবং ৩–৪টি কাজুবাদাম খাওয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে, তাই সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। চাইলে রাতে এ দুটো ভিজিয়ে সকালে খেতে পারেন, এতে হজম সহজ হয় এবং পুষ্টি শোষণ ভালো হয়।

সকালে খালি পেটে বা নাশতার সাথে ভেজানো বাদাম খেলে উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়। কাঠ বাদাম খোসা ছাড়িয়ে খেলে ভালো, আর কাজুবাদাম কাঁচা বা হালকা ভাজা অবস্থায় খাওয়া যায়। স্মুদি, স্যালাড, দুধ বা ওটসের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।

কাজুবাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক; আর কাঠ বাদামে থাকে ভিটামিন–ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই দুই বাদাম একসাথে খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়, দুর্বলতা দূর হয় এবং সারাদিন সতেজ থাকা যায়।

কাঠ বাদামে থাকা ভিটামিন ই ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হার্ট ভালো রাখে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। কাজুবাদাম হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সরবরাহ করে। দুই বাদামেই থাকা জিঙ্ক মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে কাজুবাদাম ও কাঠবাদাম খেয়ে আমরা আমাদের শরীর ও মনের নানা ধরনের উপকার করতে পারি।

কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও কিসমিস এই তিনটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার একসাথে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন। এই তিনটি খাবার একসাথে খেলে সবচেয়ে বড় যে উপকারটি পাওয়া যায় তা হল শরীরের শক্তি দ্রুত পায়। তাই যারা দুর্বলতায় ভুগছেন এবং অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠেন তাদের এই তিনটি খাবার একসাথে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কাজুবাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, কাঠবাদামে থাকে প্রোটিন ও ভিটামিন–ই, আর কিসমিসে থাকে প্রাকৃতিক সুগার ও আয়রন। ফলে সকালে ভেজানো অবস্থায় এই তিনটি খেলে দুর্বলতা দূর হয় এবং সারাদিন কার্যক্ষমতা বাড়ে। দুর্বলতা দূর করতে ও সারাদিন শক্তি পেতে এই তিনটি খাবার একসাথে খেতে পারেন।

কিসমিসে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট পরিষ্কার করে। ভেজানো কাঠবাদাম হজম সহজ করে এবং গ্যাস-অম্বল কমায়। কাজুবাদামও পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সহায়ক। তাই যাদের পেটের সমস্যা বেশি, তাদের জন্য এই মিশ্রণ খুব উপকারী।

কিসমিসে প্রচুর আয়রন থাকে যা রক্তশূন্যতা কমায় এবং হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। কাঠবাদাম ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন সরবরাহ করে রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। কাজুবাদাম শরীরকে প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দেয়। তাই যারা দুর্বল, তাদের জন্য এই তিনটে খাবার বেশ উপকারী।

কাঠবাদামের ভিটামিন ই ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হার্ট ভালো রাখে, কোলেস্টেরল কমায়। কাজুবাদামে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করে। কিসমিস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়।

কাঠবাদাম ত্বক উজ্জ্বল করে, কাজুবাদাম ত্বকের রঙ পরিষ্কার করে এবং কিসমিস রক্ত পরিশোধন করে। এই তিনটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে গ্লো আনে, ব্রণ কমায় এবং বার্ধক্য ধীর করে। পাশাপাশি চুল পড়া কমায়, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলের বৃদ্ধি উন্নত করে। প্রিয় পাঠক, আশা করি উপরে আলোচনা থেকে বুঝতে পেরেছেন এই তিনটি খাবার একসাথে খেলে আমরা কি ধরনের উপকার পেতে পারি।

শক্তি বৃদ্ধি করতে কাঠ বাদামের গুনাগুন 

শক্তি বৃদ্ধি করতে কাঠবাদামের কি কি গুনাগুন রয়েছে জানতে চাইলে আর্টিকেলের এই অংশটি পড়ুন। শক্তি বৃদ্ধিতে ও তা ধরে রাখতে কাঠ বাদামের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। কাঠ বাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ক্যালোরি যা শরীরকে তাত্ক্ষণিক শক্তি দেয়। সকালে বা কাজের মাঝে কয়েকটি কাঠ বাদাম খেলে দুর্বলতা কমে এবং শরীরে নতুন উদ্যম আসে। তাই শক্তি বাড়াতে এটি একটি অনন্য প্রাকৃতিক খাবার।

শক্তি-বৃদ্ধি-করতে-কাঠ-বাদামের-গুনাগুন

কাঠ বাদামে থাকা ভিটামিন–ই শরীরের কোষগুলোকে শক্তিশালী করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। এটি শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে ব্যস্ত দিনেও শরীর চনমনে থাকে। নিয়মিত কাঠ বাদাম খেলে সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে ম্যাগনেশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাঠ বাদামে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা পেশী, স্নায়ুতন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করে। ফলে হাঁটা-চলা, কাজকর্ম, ব্যায়াম সবকিছুর সময় শরীর আরও শক্তিশালী অনুভূত হয়।

অনেক সময় রক্তে সুগার কমে গেলে শরীরে দুর্বলতা আসে। কাঠ বাদামের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে হঠাৎ করে দুর্বল লাগা বা মাথা হালকা হওয়া কমে। এটি শক্তিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

কাঠ বাদামে থাকা ওমেগা–৩ ও ভিটামিন বি মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে ও মনোযোগ বাড়ায়। যারা পড়াশোনা বা মানসিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য কাঠ বাদাম শক্তি ও ফোকাস বাড়াতে দারুণ সহায়ক। ফলে মানসিক ক্লান্তি কমে এবং মাথা সতেজ থাকে।

কাঠ বাদামের যত পুষ্টিগুন

কাঠ বাদাম শরীরের জন্য একটি উৎকৃষ্ট প্রোটিনের উৎস। প্রতিদিন সামান্য কাঠ বাদাম খেলে শরীরের টিস্যু গঠন হয়, পেশী মেরামত করে এবং শরীরে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। যারা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য কাঠ বাদাম অত্যন্ত উপকারী।

কাঠ বাদামে থাকে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যাকে বলা হয় “ভালো ফ্যাট”। এই ফ্যাট শরীরে কোলেস্টেরল কমায়, হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

কাঠ বাদাম ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ত্বক, চুল ও কোষকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া এতে ভিটামিন বি১, বি২, বি৬ থাকে, যা শরীরের মেটাবলিজম, স্মৃতিশক্তি ও শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কাঠ বাদামে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক থাকে। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত করে, ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ু ও পেশীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়, আর আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে এটি সব বয়সের মানুষের জন্যই বেশ জরুরি পুষ্টির উৎস।

কাঠ বাদামের ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বার্ধক্য ধীর করে। নিয়মিত কাঠ বাদাম খেলে মানব দেহের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।

লেখক এর মতামত

প্রিয় পাঠক, সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন কিছুটা বাদাম ও শুকনো ফল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, কাজুবাদাম এবং কিসমিসকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে শরীর শক্তিশালী, মন প্রফুল্ল এবং স্বাস্থ্যের সকল দিক বজায় থাকে।
এক কথায় সকালে খালি পেটে কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজে লাগে যা আমরা জেনেছি আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে। স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল বিষয়ক আরো এরকম পোস্ট পেতে নিয়মিত এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

passiondrivefiona র নীতিমালা মেনে comment করুন। প্রতিটি comment রিভিউ করা হয়;

comment url